নাট্যমঞ্চে বৈশাখী আমেজ : থিয়েটার স্কুলের তিন দিনের আয়োজন

শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০১৯

শাহনাজ জাহান

বাংলা নববর্ষকে ঘিরে তিনব্যাপী অনুষ্ঠান সাজিয়েছে আবদুল্লাহ আল-মামুন থিয়েটার স্কুল। গতকাল চৈত্রসংক্রান্তির আগের দিন ছিল ভিন্ন ধারার আয়োজন ‘এক বক্তার বৈঠক’। এই আয়োজনটিতে দর্শকের মুখোমুখি হন বরেণ্য অভিনেতা ও সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। বলেছেন তার জীবন ও অভিনয় নিয়ে নানা অভিজ্ঞতা। গতকাল শুক্রবার নাটক সরণীর (বেইলি রোড) মহিলা সমিতির নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় অনুষ্ঠানটি হয়। এই আয়োজনটিতে অংশ নিতে দর্শকদের টিকেট সংগ্রহ করতে হয়। টিকেটের মূল্য ৫০ টাকা। থিয়েটার স্কুলের অধ্যক্ষ রামেন্দু মজুমদার বলেন, ‘টিকেট কেটে বক্তৃতা অনুষ্ঠান আমাদের দেশে খুব বেশি হয়নি। এর আগে বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকটি আয়োজন হয়েছে। সেখানে সবার আগ্রহ আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। আমরা মনে করি গুণী ব্যক্তিদের নিয়ে এরকম আয়োজন নিয়মিত হওয়া উচিত।’ থিয়েটার স্কুলের তিনব্যাপী আয়োজনে আজ চৈত্রসংক্রান্তিতে একই মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে ‘মুক্তি’ নাটকের মঞ্চায়ন। আমেরিকান নাট্যকার লি বেøসিংয়ের ‘দি ইনডিপেন্ডেন্স’ অবলম্বনে এর ভাষান্তর করেছেন মিজারুল কায়েস। নির্দেশনা দিয়েছেন ত্রপা মজুমদার। নাটকটির মূল চরিত্র মায়ের ভূমিকায় অভিনয় করছেন বরেণ্য অভিনয়শিল্পী ফেরদৌসী মজুমদার। অন্যান্য চরিত্রে আছেন তামান্না ইসলাম, তানজুম আরা পল্লী ও তানভিন সুইটি। নাটকটি প্রথম মঞ্চে আসে ২০০৪ সালের ২৭ নভেম্বর। এরপর থেকে নিয়মিত মঞ্চায় হচ্ছে। এরই মধ্যে দেশ-বিদেশে নাটকটির প্রদর্শনী প্রশংসিত হয়েছে। নাটকের গল্পে দেখা যায়- প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মেই সংসারে ছেলেমেয়েরা দিনে দিনে বড় হয়ে ওঠে। একটা পর্যায়ে তারা ব্যস্ত হয়ে পড়ে যার যার জীবন নিয়ে। বাবা-মা তখন নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েন। মানবজীবনের এই বাস্তবতার প্রেক্ষাপট নিয়েই মুক্তি নাটকের কাহিনী। তিন মেয়েকে নিয়ে এক মায়ের পরিবার। চরিত্রগুলো এসেছে প্রতীকীভাবে। চরিত্রগুলো আধুনিক মানুষের সমস্যাগুলোকে তুলে ধরে। সেখানে দেখানো হয়েছে, পরিবারের ভেতরে থেকেও মানুষ একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। ছিঁড়ে যাচ্ছে বন্ধন। এক নিদারুণ একাকিত্ব গ্রাস করছে তাকে। গল্পটা এমনই। তিন দিনব্যাপী আয়োজনে সমাপনী দিনে থাকবে কলকাতার দেবজিত বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়ের গান। সন্ধ্যা ৭টায় এই দুই শিল্পীর গানের আয়োজন দিয়েই শেষ হবে তিন দিনের আয়োজন। থিয়েটার স্কুলের এই আয়োজনটিতে সহযোগিতা করছে নাট্যসংগঠন ‘থিয়েটার (নাটক সরণী)’।

‘চিত্রাঙ্গদা’র দুই প্রদর্শনী

‘বর্ষ আসুক বর্ষ যাক, থিয়েটার চিরসাথী থাক’- ¯েøাগান নিয়ে বাংলা নতুন বর্ষবরণ উপলক্ষে নাট্যসংগঠন স্বপ্নদলের দর্শকনন্দিত প্রযোজনা ‘চিত্রাঙ্গদা’র দুটি বিশেষ মঞ্চায়নের আয়োজন করা হয়েছে। ১৪ এপ্রিল বিকেল ৫টা ও সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে এ প্রদর্শনী দুটি অনুষ্ঠিত হবে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চিরায়ত সৃষ্টি ‘চিত্রাঙ্গদা’র গবেষণাগার নাট্যরীতিতে নির্দেশনা দিয়েছেন জাহিদ রিপন। রবীন্দ্রনাথ মহাভারতের চিত্রাঙ্গদা-উপাখ্যান অবলম্বনে ১৮৯২-এ কাব্যনাট্যরূপে এবং ১৯৩৬-এ নৃত্যনাট্যরূপে ‘চিত্রাঙ্গদা’ রচনা করেন। স্বপ্নদলের ‘চিত্রাঙ্গদা’ প্রযোজনাটি নির্মিত হয়েছে রবীন্দ্রনাথের কাব্যনাট্য পাণ্ডুলিপিটি অবলম্বনে। এর নাট্যকাহিনীতে উপস্থাপিত হয়- মহাবীর অর্জুন সত্যপালনের জন্য একযুগ ব্রহ্মচর্যব্রত গ্রহণ করে মণিপুর বনে এসেছেন। মণিপুর-রাজকন্যা চিত্রাঙ্গদা, অর্জুনের প্রেমে উদ্বেলিত হলেও অর্জুন রূপহীন চিত্রাঙ্গদাকে প্রত্যাখ্যান করেন। অপমাণিত চিত্রাঙ্গদা প্রেমের দেবতা মদন এবং যৌবনের দেবতা বসন্তের সহায়তায় এক বছরের জন্য অপরূপ সুন্দরীতে রূপান্তরিত হন। এবারে অর্জুন যথারীতি চিত্রাঙ্গদার প্রেমে পড়েন। কিন্তু অর্জুনকে লাভ করেও চিত্রাঙ্গদার অন্তর দ্ব›েদ্ব ক্ষত-বিক্ষত হতে থাকে- অর্জুন প্রকৃতপক্ষে কাকে ভালোবাসেন, চিত্রাঙ্গদার বাহ্যিক রূপ নাকি তার প্রকৃত অস্তিত্বকে? এভাবে ‘চিত্রাঙ্গদা’ পৌরাণিক কাহিনির আড়ালে যেন এ কালেরই নর-নারীর মনোদৈহিক সম্পর্কের টানাপড়েন এবং পাশাপাশি পারস্পরিক সম্মানাবস্থানের প্রেরণারূপে উপস্থাপিত হয়। ‘চিত্রাঙ্গদা’ প্রযোজনার গ্রন্থিকরা হলেন- সোনালী, জুয়েনা, শিশির, শ্যামল, রানা, সামাদ, হ্যাপী, সুমাইয়া, আঁচল, ঊষা, অর্ক, স¤্রাট, আলী, বিপুল, অনিন্দ্য, নিসর্গ, অমর, মাসুদ, সুকুমার, বিমল প্রমুখ। প্রসঙ্গত, স্বপ্নদলের ‘চিত্রাঙ্গদা’ প্রযোজনাটি ২০১১-এ সার্ধশত রবীন্দ্রবর্ষ উপলক্ষে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুদানে নির্মিত হয়। বাংলাদেশ ও ভারতে এ পর্যন্ত প্রযোজনাটির ৭৪টি সফল মঞ্চায়ন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবারের পহেলা বৈশাখে ‘চিত্রাঙ্গদা’-র ৭৫ ও ৭৬তম প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

মেলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj