মেরুদণ্ডে আঘাতজনিত পুনর্বাসন চিকিৎসায় ফিজিওথেরাপি

শুক্রবার, ১২ এপ্রিল ২০১৯

ডা. এম ইয়াছিন আলী

আমাদের দেশে নিয়মিত ঘটছে বিভিন্ন রকম সড়ক দুর্ঘটনা যার ফলে কিছু মানুষ অকালে জীবন হারাচ্ছেন এবং পাশাপাশি পঙ্গুত্ব বরণ করছেন অসংখ্য মানুষ। সম্প্রতি মাত্র ১০ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ২৪২ জন আর আহত হয়েছেন সহস্রাধিক। এর মধ্যে কেউ হাত, কেউ পা আবার কেউবা মেরুদণ্ডে আঘাত পেয়ে হারাচ্ছেন হাঁটাচলার ক্ষমতা। কেউ যদি মেরুদণ্ডে আঘাত পেয়ে থাকে তাহলে তাকে সোজা করে শুইয়ে দিন এবং দ্রুত রোগীকে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে পাশাপাশি রোগীর আঘাতের পরিমাণ নির্ণয় করার জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে।

মেরুদণ্ডে আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তির সাধারণত

যে সমস্যাগুলো দেখা দিতে পারে :

১. হাতের ও পায়ের অনুভূতি না থাকতে পারে,

২. যদি আঘাত মেরুদণ্ডের সারভাইক্যাল স্পাইনের ওপর দিকে সি২-৩ অথবা সি৩-৪ লেভেলে কম্প্রেশন ইনজুরি হয় সেক্ষেত্রে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যবস্থা লাগতে পারে কারণ এই জায়গা থেকে আমাদের রেসপিরেটরি মাংসপেশিগুলোর নার্ভ সাপ্লাই হয়ে থাকে সেজন্য রোগীকে খুবই সাবধানতার সঙ্গে নিকটস্থ হাসপাতালে নিতে হবে,

৩. কিছু কিছু ক্ষেত্রে সারভাইক্যাল স্পাইনের বা ঘাড়ের জন্য প্যারাফ্লেজিয়া বা চার হাত পা অবশ্য হয়ে যেতে পারে এবং লম্বোর স্পাইন বা কোমরের জন্য দুই পা অবশ হয়ে যেতে পারে,

৪. রোগী প্রস্রাব ও পায়খানার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলতে পারে, এসব ক্ষেত্রে রোগীর ক্ষতি বা আঘাত পরিমাণ নির্ণয় করে কখনো স্কেলিটাল ট্রাকশন কখনো পেলভিক ট্রাকশন দেয়ার প্রয়োজন পড়ে এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে সার্জারির প্রয়োজন পড়ে।

পাশাপাশি রোগীর পুনর্বাসনের জন্য চাই দীর্ঘমেয়াদি ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা যা ধীরে ধীরে রোগীকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। মেরুদণ্ডে আঘাতজনিত প্যারালাইসিস বা পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগীকে আবার আগের স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরিয়ে আনার জন্য ওষুধের পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা হলো আধুনিক ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা। এই চিকিৎসার মাধ্যমে একজন মেরুদণ্ডে আঘাত-পরবর্তী প্যারালাইসিস বা পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগীকে সম্পূর্ণ পুনর্বাসন করা সম্ভব সে ক্ষেত্রে একজন বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের তত্ত্বাবধায়নে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে নিয়মিত দিনে ৩-৪ বার ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা নিতে হবে ২-৬ মাস।

এ ক্ষেত্রে একজন বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক রোগীকে পুনর্বাসনের জন্য একটি ট্রিটমেন্ট প্ল্যান তৈরি করে থাকেন। যার মধ্যে

-ম্যানুয়াল থেরাপি

-স্ট্রেন্দেনিং এক্সারসাইজ

– প্রোগ্রেসিভ কন্ডিশনাল এক্সারসাইজ

-প্যারালাল বার এক্সারসাইজ

-গেইট ট্রেনিং বা গেইট রি-এডুকেশন এক্সারসাইজ

-ইলেক্ট্রথেরাপি বা ইলেক্ট্রিক্যাল ইস্টিমুলেশান থেরাপি

-অকুপেশনাল ট্রেনিং

-বাউএল, ব্লুাডার ট্রেনিং ইত্যাদি।

বাত, ব্যথা, প্যারালাইসিস ও

ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞ

চেয়ারম্যান ও চিফ কনসালটেন্ট

ঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি হাসপাতাল

বাড়ি-১২/১, রোড-৪/এ, ধানমন্ডি, ঢাকা।

পরামর্শ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj