ক্যাম্পাসে বৈশাখ

বৃহস্পতিবার, ১১ এপ্রিল ২০১৯

অন্যদিনের চেয়ে ক্যাম্পাসের সাজ আর আবহটা হবে আলাদা। বিশ্ববিদ্যালগুলোর প্রধান ফটক থেকে শুরু করে প্রতিটি সড়কেই রঙ-বেরঙের পোস্টার, ব্যানার আর ফেস্টুন থাকবে। সড়ক আর ভবনের দেয়ালগুলোতে আঁকা হবে নানা রঙের আল্পনা। চেনা ক্যাম্পাস সাজবে নতুন সাজে। বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। পুরনো বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে এরমধ্যেই সাজানো শুরু হয়েছে দেশের পাবলিক-প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়সহ নানা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তারা আয়োজন করবে দিনব্যাপি নানা অনুষ্ঠান আর মেলার। বৈশাখের অন্যতম বড় আয়োজন হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদ বিভাগের উদ্যোগে বের করা হবে মঙ্গল শোভা যাত্রা। এ ছাড়াও, থাকবে গান ও দেশের গান।

সাদা শাড়িতে লাল পাড় : লাল-সাদা শাড়ি পরা তরুণী আর পাঞ্জাবি-ফতুয়া পরা তরুণদের ঢল নামে বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে। নানা রঙে নানা ঢঙে সেজে সবাই দিনভর মেতে উঠবে বর্ষবরণের নানা উৎসবে। ক্ষুদ্র গণ্ডি ছাড়িয়ে বৃহত্তর প্রীতি, সৌহার্দ্য, শুভ কামনা ও মাঙ্গলিক চেতনার এক অনাবিল আনন্দের উৎসব বৈশাখ। সারাদেশের বর্ণিল সাজের তুলনায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে পহেলা বৈশাখের উৎসব আরো বর্ণিল, প্রাণবন্ত, তারুণ্যদীপ্ত। বৈশাখে তারুণ্যের বাঁধভাঙ্গা জোয়ারে মুখরিত হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্যাম্পাস।

মেলা : বৈশাখের প্রথমদিনে ক্যাম্পাসগুলোতে বসে ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলা। মঞ্চ নাটক, জারি-সারি, মুর্শিদি, ভাটিয়ালিসহ ভক্তিরসের গান, দেশপ্রেম, লোকগীতি, কবিতা পাঠ ছাড়াও বিভিন্ন লোকজ সঙ্গীত। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আয়োজন করা হয় কনসার্ট।

ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে বসে নানা প্রকার, নানা আকার, নানা ঢঙের পিঠা প্রদর্শনী। এ ছাড়াও, মাটির গহনা, বিভিন্ন অলঙ্কার, শাড়ি, ফতুয়া, পাঞ্জাবি, মুখোশসহ শিক্ষার্থীদের হাতের তৈরি ও নকশা করা বিভিন্ন জিনিসপত্র এইদিন প্রদর্শন ও বিক্রি করা হয়। এর আগে সকাল থেকেই শুরু হয় গালে আল্পনা আঁকার পালা। পহেলা বৈশাখের দিন ক্যাম্পাসে একটু ঘোরাঘুরি, বন্ধুদের সঙ্গে মজা করে আড্ডা দেয়া কিংবা বৈশাখী পোশাক পরে ক্যাম্পাসে শুধুই ঘুরে বেড়ানো নয়। নাগরদোলার ঘূর্ণিপাক, তালপাতার বাঁশি ও বিচিত্র খেলনা কেনা, টমটম গাড়িতে ওঠা এবং বিভিন্ন ধরনের মিঠাই প্রাপ্তির কারণে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মেলার প্রতি শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের অন্যরকম আকর্ষণ থাকে। পান্তা-ইলিশের পাশাপাশি বাতাসা, তিলের খাজা, মণ্ডা, মিঠাইসহ দেশীয় সব ঐতিহ্যবাহী খাবারের সমারোহ থাকে ক্যাম্পাসগুলোতে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী সুমন ইসলাম বলেন, বৈশাখ আসার অন্তত এক সপ্তাহ আগে থেকে প্রস্তুতি নেয়া হয়। পরিকল্পনা করা হয়। প্রচণ্ড তাপদাহও যেন হার মানে। প্রাণের উৎসব মেতে উঠতে সব কিছুই যেন সহ্য হয়।

সকাল বেলা উঠে পাঞ্জাবি পরেই বন্ধুদের সঙ্গে সকালের নাস্তা করেই বৈশাখ বরণ শুরু করি। স্টেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী শামীম লিজা বলেন, অন্যদিনের চেয়ে পহেলা বৈশাখে একটু বেশিই ব্যস্ততা থাকে। বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা আর ঘোরাফেরা করেই দিন পার করি।

:: ক্যাম্পাস ডেস্ক

ক্যাম্পাস'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj