চারুকলায় ব্যস্ত সবাই

বৃহস্পতিবার, ১১ এপ্রিল ২০১৯

আর কদিন পরেই বাঙালির দরজায় কড়া নাড়বে পহেলা বৈশাখ। উদ্দীপনা, উচ্ছ¡াস, আবেগ আর উল্লাসে ওইদিন ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সমগ্র বাঙালি জাতি মেতে উঠবে এক আনন্দ উৎসবে।

‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’ রবীন্দ্রনাথের এই গানের সঙ্গে চির নতুনের ডাকে পহেলা বৈশাখের ভোরে জেগে উঠবে নগর গ্রাম মফস্বল। বাঙালির এই অসা¤প্রদায়িক উৎসবে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ বাংলা নববর্ষবরণে জেগে উঠবে প্রাণের আনন্দে আর আবেগের উচ্ছলতায়। রমনায় গান ও চারুকলায় আনন্দ মিছিলের পাশাপাশি রাজপথে নাগরিকদের জটলা পহেলা বৈশাখকে করে তুলবে আনন্দ ও সুষমামণ্ডিত। পান্তার সঙ্গে ইলিশের স্বাদে বাঙালির পহেলা বৈশাখের আনন্দের ঢেউ আছড়ে পড়বে গ্রাম থেকে নগরে, শহর থেকে বন্দরে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এদিন বৈশাখ ও বাঙালিয়ানার উন্মাদনায় মেতে উঠবে সমগ্র বাঙালি। বরাবরের মতো এবারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ হাতে নিয়েছে নানা ধরনের কার্যক্রম। বাঙালির পহেলা বৈশাখের সবচেয়ে বড় মঙ্গল শোভাযাত্রাটি বের করে থাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা। এখন দম ফেলারও ফুরসত নেই তাদের। পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রার কাজে বর্তমানে নিরলস পরিশ্রম করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী। চারুকলার এই আয়োজনটিকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয় রাজধানীর বৈশাখ বরণের কার্যক্রম। চারুকলার শিক্ষার্থীরা জানান, এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রায় বরাবরের মতো বাংলা সংস্কৃতির সব কিছুই থাকবে। বাঁশের চটা বেঁধে তৈরি বাঘ, হাঁস, বিড়াল, শখের হাঁড়ি, শিশু হরিণ, পেঁচা, কাগুজে বাঘ, ছোট বড় মাঝারি আকৃতির তুহিন পাখিসহ দারুণ সব মোটিফ রয়েছে এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজনে। এসবের পাশাপাশি কেউবা আবার হাঁড়ি-পাতিলের ওপর কারুকার্য তৈরি করছেন। কেউবা আবার ব্যস্ত মঙ্গল শোভাযাত্রায় ব্যবহার্য বেতের তৈরি বিভিন্ন প্রতিকৃতি অঙ্কনে। এগুলোর গায়ে রঙিন কাগজ বসিয়ে এতে প্রাণের সঞ্চার করবেন শিক্ষার্থীরা। বাংলা সংস্কৃতিপ্রিয় বাঙালিদের কাছ থেকে বরাবরের মতো এবারও ভালো সাড়া পাচ্ছেন বলে জানান এই আয়োজনের সঙ্গে সম্পৃক্তরা। রাজধানীর দূর দূরান্ত থেকে প্রতিদিনই দর্শনার্থীরা চারুকলা প্রাঙ্গণে ছুটে আসছেন এবং শিল্পকর্ম ও চিত্রকর্ম কিনে বৈশাখ উদযাপনের মঙ্গল শোভাযাত্রার গর্বিত অংশীদার হয়েছেন। নিজেদের পরিশ্রমের পাশাপাশি শিক্ষকদের সহযোগিতা ও আন্তরিকতা এই আয়োজনের সফলতার অংশীদার হয়ে থাকবে বলে মনে করেন চারুকলার বেশিরভাগ শিক্ষার্থী।

প্রসঙ্গত, ১৯৮৯ সালে চারুকলা অনুষদের আয়োজনে প্রথমবারের মতো বের করা হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা।

:: ক্যাম্পাস ডেস্ক

ক্যাম্পাস'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj