সফলতার দ্যুতি ছড়াচ্ছেন নারী ইউএনওরা : সেবিকা দেবনাথ

সোমবার, ৮ এপ্রিল ২০১৯

দিন-রাতের তফাৎ ভুলে পুরুষই পারে মাঠ দাপিয়ে বেড়াতে। দিতে পারেন নিজের দক্ষতা, যোগ্যতার পরিচয়। এ কথা যে ডাহা ভুল তা প্রতিনিয়তই প্রমাণ করছেন নারীরা। দেশের উন্নয়নের বিশাল কর্মযজ্ঞে নারীরা এগিয়ে চলছে বীরদর্পে। দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি বাল্যবিয়ে ঠেকানো, ঝরেপড়া শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে ফিরিয়ে আনা, সামাজিক কিংবা পারিবারিক সমস্যা সমাধানে তাদের ছুটতে হয় রাত-বিরেতে। ঘড়ির কাঁটায় সময় মেপে চলার সুযোগ তাদের নেই বললেই চলে। বিরামহীনভাবে মাঠে-ঘাটে তারা ছুটে চলেন মানুষের কল্যাণে। ভালো কাজের জন্য নিজেরা যেমন প্রশংসিত হন; তেমনি নিজ দপ্তরের ভাবমূর্তিও তারা উজ্জ্বল করছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিয়োগপ্রাপ্ত নারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও)।

চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী দেশের ১২২টি উপজেলায় ইউএনওর দায়িত্ব পালন করছেন নারী। একজন ইউএনও উপজেলা প্রশাসন পরিচালনা ও সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেন। উপজেলায় তারাই কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি। ফলে প্রচুর কাজের চাপ থাকে তাদের ওপর।

ঝিনাইদহের ছয় উপজেলার মধ্যে চারটিতে রয়েছেন নারী ইউএনও। ঝিনাইদহ সদরে শাম্মী ইসলাম, কালীগঞ্জে সুবর্ণা রানী সাহা, কোট চাঁদপুরে নাজনিন সুলতানা, মহেশপুরে শ্রাবতী সিং। টাঙ্গাইলের ১২ উপজেলার তিনটির দায়িত্বে আছেন নারী। তারা হলেন- বাসাইলে শামসুন নাহার স্বপ্না, ধনবাড়িতে আরিফা সিদ্দিকা, দিলদুয়ারে নাদিরা আক্তার। কুমিল্লার ১৭টি উপজেলার পাঁচটিতে নারী ইউএনও। মুরাদনগরে বেগম মিতু মরিয়ম, মনোহরগঞ্জে শামীম বানু শান্তি, মেঘনায় আফরোজা পারভীন, ব্রাহ্মণপাড়ায় ফৌজিয়া সিদ্দিকা, তিতাসে রাশেদা আক্তার। কিশোরগঞ্জের ১৩ উপজেলার মধ্যে ৭টিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে দায়িত্বে আছেন সাত নারী। তারা হলেন- তাড়াইল উপজেলার ইউএনও লুৎফুন নাহার, করিমগঞ্জ উপজেলার ইউএনও শারমিন সুলতানা, কটিয়াদী উপজেলার ইউএনও ইসরাত জাহান কেয়া, নিকলী উপজেলার ইউএনও মুছাম্মৎ শাহীনা আক্তার, মিঠামইন উপজেলার ইউএনও তাসলিমা আহমেদ পলি, কুলিয়ারচর উপজেলার ইউএনও কাউসার আজিজ, ভৈরব উপজেলার ইউএনও ইসরাত সাদমীন।

তৃণমূল প্রশাসনে সিদ্ধান্ত গ্রহণের এসব গুরুত্বপূর্ণ পদে নারীর এই অগ্রগতিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের নারী উন্নয়ন ও অর্জন এখন বিশ্বের কাছে দৃশ্যমান। তবে সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর অংশগ্রহণ এখনো কম। তার মতে, তৃণমূলে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে ডিসি ও ইউএনওর পদটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এসব পদে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি খুবই ইতিবাচক।

অন্যপক্ষ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj