বউ-শাশুড়ির সম্পর্ক হোক বন্ধুত্বের

সোমবার, ৮ এপ্রিল ২০১৯

অন্যপক্ষ প্রতিবেদক

বউ-শাশুড়ি, বাঙালির চিরায়ত এক দ্ব›দ্বমুখর সম্পর্ক। এই সম্পর্ক কতটা বৈপরীত্য তা বোঝাতে ব্যবহৃত হয় ‘দা-কুমড়া’, ‘অহিনকুল’, ‘সাপে-নেউলে’ এমন অনেক বিপরীতধর্মী শব্দ। আজ যে মেয়েটি বউ হয়ে অন্যের ঘরে গেল, একদিন সে-ই আবার নিজের সন্তানকে বিয়ে দিয়ে শাশুড়ি হবেন। বউ হয়ে যে মেয়েটি শাশুড়িকে অন্যতম প্রতিদ্ব›দ্বী মনে করতেন, শাশুড়ি হয়ে সেই মেয়েটিই বউকে প্রতিদ্ব›দ্বী মনে করতে শুরু করেন। শুধু প্রতিদ্ব›দ্বী মনোভাবের কারণে নষ্ট হয় সংসারের সুখ শান্তি। ভেঙে যায় অনেক যৌথ পরিবার।

শুধু বাঙালি পরিবারেই নয়, বিভিন্ন গবেষণা থেকে জানা যায়, বিশ্বের প্রায় সব দেশেই বউ-শাশুড়ির সম্পর্ক সাধারণভাবে প্রায় একই রকম। জার্মানিতে দুজন নারীর মধ্যে সম্পর্ক খারাপ থাকলে বউ-শাশুড়ি কিংবা ননদ-ভাবীর মতো সম্পর্ক বলে ঠাট্টা করা হয়।

তবে সব ক্ষেত্রেই যে এই সম্পর্কের বৈপরীত্য দেখা যায় তা কিন্তু নয়। অনেক পরিবারেই এ দুটি মানুষ আত্মার বন্ধনে আবদ্ধ হন। হয়ে ওঠেন পরম বন্ধু। বউ-শাশুড়ির সম্পর্ককে আরো মধুময় করতে ঢাকার সাভার, সিরাজগঞ্জ, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রতি বছরই মজার এক মেলা হয়। এর নাম বউ-শাশুড়ির মেলা।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, মূলত শাশুড়িরা মনে করেন, বিয়ের পর তার ছেলে পর হয়ে যায়। ছেলের ওপর তার একচ্ছত্র আধিপত্য থাকে না। যে ছেলে সব সময় মাকে প্রাধান্য দিত এখন স্ত্রীকে প্রাধান্য দেয়। এটা অনেক মা-ই মানতে পারেন না। অপরদিকে বিয়ের পর একজন নারী চান তার স্বামী তার দিকেই পূর্ণ মনোযোগ দিক। এ থেকে একটা মানসিক দ্ব›েদ্বর মধ্য দিয়ে যেতে হয় দুজনকেই। এ ছাড়া দেখা যায়, বেশিরভাগ সময়ই একজন আরেকজনের ঘাড়ে দোষ চাপান। নিজের জীবনে না পাওয়াগুলো ছেলের বউকে পেতে দেখলে অনেক শাশুড়ি তা মেনে নিতে পারেন না। আবার অনেক শাশুড়ি ধরেই নেন, তিনি তার শাশুড়ির কাছে খারাপ ব্যবহার পেয়েছেন। তার ছেলের বউয়ের ক্ষেত্রে কেন এর ব্যতিক্রম হবে? ছেলের সঙ্গে বউয়ের অহেতুক খোঁচাখুঁচি লাগিয়ে রাখার প্রবণতাও থাকে অনেক শাশুড়ির মধ্যে।

সমাধানের উপায় প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফারহা দিবা বলেন, বউ-শাশুড়ির সম্পর্ক মধুর করতে শাশুড়িকে যেমন ভূমিকা রাখতে হয় তেমনি রাখতে হয় বউকেও। বউ সব সময় শাশুড়িকে মায়ের মতো শ্রদ্ধা করবে এবং তা তাকে বুঝতে দেবে। এতে বউয়ের প্রতি শাশুড়ির মমতা বাড়তে থাকবে। তবে বউ কখনো শাশুড়ি থেকে সেরকম ভালোবাসা আশা করবেন না, যা আপনার মা-বাবা আপনাকে দিয়েছে। শাশুড়ির কোনো পরামর্শ পছন্দ না হলেও চুপ করে থাকা বুদ্ধিমানের কাজ। এ ছাড়া এখন নারীদের অনেকেই চাকরিজীবী, তাই সবকিছু সামলে নিয়ে আগের দিনের মতো শাশুড়ির সেবা করা তাদের জন্য বেশ কঠিন। সেটা শাশুড়িকেও বুঝতে হবে। আবার বউকেও বুঝতে হবে, শাশুড়ির দিকে মনোযোগ দেয়া উচিত। কোনো কারণে দুজনের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হলে দ্রুত তা মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা করুন। ভয়ে বা লজ্জায় মনের মধ্যে কথা চেপে না রাখাই ভালো। এতে সম্পর্ক সুন্দর হবে। একটু বুঝে চললে, একটু সহমর্মী হয়ে মেনে নিতে শিখলে অনেক জটিল মুহূর্তও সরল হয়ে উঠতে পারে।

অন্যপক্ষ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj