ক্লাসে লেকচার নোট লেখা

বৃহস্পতিবার, ২৮ মার্চ ২০১৯

নোট ব্যাপারটা নিয়ে আমাদের চিন্তা হলো, নোট শুধু মেধাবীরাই করে। কিন্তু ঘটনাটা সে রকম না। নোট সবারই করা উচিত। তুমি বিশ্বাস করো আর নাই করো। নোট নামক জিনিসটার কিছু বিশেষ গুরুত্ব আছে। আর সেটা তখনই, যখন তুমি সুন্দরভাবে নোট করতে পারছো

নোট কত প্রকার ও কী কী : নোট জিনিসটা ক্লাসের লেকচার নোটসও হতে পারে আবার বাসায় করা নোটসও হতে পারে। ক্লাসে টিচার কী বললেন সেগুলো শর্টহ্যান্ডে লিখে রাখাটাও নোট আর বাসায় এসে টিচারের বলা কি-ওয়ার্ডস এবং পয়েন্টসগুলো ব্যাখ্যা করে খাতায় লেখাটাও নোট।

কীভাবে শুরু করব : খুব ভালো হয় যদি প্রত্যেকটা কোর্স বা সাবজেক্টের জন্যে আলাদা নোটবুক বা খাতা রাখা যায়। স্বাভাবিকভাবেই তোমার যদি চৌদ্দটা সাবজেক্ট থাকে তাহলে চৌদ্দটার জন্য চৌদ্দটা দুইশ’ পেজের খাতার ব্যবস্থা করা আর সেগুলো নিয়ে ক্লাস থেকে ক্লাসে দৌঁড়াদৌঁড়ি করা একটু ঝামেলা হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে পাতলা পাতলা খাতার ব্যবস্থা করো, দরকার হলে প্রয়োজনমত কাগজ কিনে খাতা বানিয়ে নাও। এ ছাড়াও, ফাইল অর্গানাইজার বলে একটা জিনিস পাওয়া যায়, সেটার মধ্যে আলাদা আলাদা পকেটের মত ভাগ করা থাকে, যেগুলোতে বিষয়ভিত্তিক লেকচার শিট বা হ্যান্ড আউটস রাখতে পারো।

ক্লাসে ঘুমানো বন্ধ করো : ক্লাসে টিচার ঢোকার আগ পর্যন্ত যত গসিপ যত খাওয়া-দাওয়া যত ঘুম আছে একটু শেষ করে নিতে পারলে ভালো হয়। টিচার ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে এলার্ট হয়ে যাও কারণ তোমার নোট নিতে হবে। কে অঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁাঁতেল বলল, সেদিকে নজর না দিলেও চলবে কারণ ওরাই পরে তোমার কাছে নোট চাইতে আসতে পারে, আর এই ফাঁকে তুমি দু’একটা ট্রিটও পেয়ে যেতে পারো। টিচার যখন কথা বলছেন তখন তার মৌখিক এক্সপ্রেশনগুলোর দিকে খেয়াল করো। ‘আমি প্রশ্ন করলে এই টপিকটা অবশ্যই রাখব’, ‘এই জিনিসটা তোমাদের পরীক্ষার জন্যে ইম্পরট্যান্ট’ কিংবা ‘তোমরা চাইলে এটা লিখে রাখতে পারো’ টিচার এগুলো বলা মানেই তখন তোমার ঐ ব্যাপারটা নোট করতে হবে। আর হ্যাঁ, নোট শুরু করার আগে তারিখ, টাইটেল, রেফারেন্স ইত্যাদি লিখে নিতে ভুলবে না।

ইফেক্টিভ নোট টেকিং

ক. এসো লেখা শিখি : নোট একটা করেছো, সেটা কাজে যাতে লাগে তার প্রধান শর্ত হচ্ছে পরিস্কার হাতের লেখা। পরিস্কার বলতে সুন্দর মুক্তোর মত না হলেও চলবে। বেশি কাটাকাটি, মোছামুছিবিহীন পরিচ্ছন্ন একটা লেখা হতে হবে, যাতে ক্লাসের পরে ওটা পড়ে বুঝতে পারো যে কী ক্লাস করেছো। ক্লাসের মধ্যে নোট নিতে যেয়ে আবার এমন যেন না হয় যে টিচার কী কনসেপশন বুঝিয়েছেন ঐটাই ধরতে পারো নাই। যখন স্কুল কলেজ বা ভার্সিটির ক্লাস হবে তখন নোট লেখার সময় পুরো বাক্য লেখাটা এভয়েড করো। তাই বলে নোট করে নোটখাতা শোকেসে তুলে রাখতে বলছি না কিন্তু বিভিন্ন শর্টহ্যান্ড পদ্ধতি ব্যবহার করে বিশাল ব্যাখ্যাটা ছোট করে অথচ সহজবোধ্য করে লিখে ফেলো। ‘দুই অণু হাইড্রোজেন আর এক অণু অক্সিজেন মিলে দুই অণু পানি হয়’ লেখার চেয়ে রাসায়নিক বিক্রিয়াটা লিখে ফেলা সোজা না? অনেকটা ঐরকম। লেখার ক্ষেত্রে নিজের স্টাইলটা বুঝে নাও, কোনভাবে লিখলে পরে সেটা তোমার বুঝতে ও মনে করতে সুবিধা হবে, সেটা তোমার নিজেরই বের করতে হবে। স্যার একটা শব্দ নিজের ভাষায় ব্যাখ্যা করেছেন বলে ঐটাকেই বেদবাক্য ধরে ঐভাবেই মুখস্থ করতে হবে এমনটা কোনো শাস্ত্রে লেখা নেই। তুমি তোমার নিজের ভাষায় নিজের সুবিধামত নোট লিখবে।

খ. নোট করার কর্নেল মেথড : কর্নেল মেথড বলে একটা জিনিস আছে যেটা আমিও জানতাম না, এখন আমি এটা করার চেষ্টা করি। খাতার পৃষ্ঠার নিচের দিকে মোটামুটি পৃষ্ঠাটার এক-চতুর্থাংশ জায়গা নিয়ে এমাথা থেকে ওমাথা একটা দাগ টানো।

:: ক্যাম্পাস ডেস্ক

ক্যাম্পাস'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj