ওয়ার্ল্ড ওরাল হেলথ ডে-২০১৯ : আপনার মুখের স্বাস্থ্যের যতœ নিন আপনার মুখ ও শরীরের সুরক্ষার জন্য

শুক্রবার, ২২ মার্চ ২০১৯

প্রতি বছর ২০ মার্চ ‘ওয়ার্ল্ড ওরাল হেলথ ডে’ সারা বিশ্বে পালিত হয়ে থাকে। বিশ্বের প্রায় ২০০টি দেশে আনুমানিক ১০ লক্ষাধিক ডেন্টাল সার্জন এ দিনটি পালন করে থাকেন। এটি একটি আন্তর্জাতিক দিবস যার মাধ্যমে সবাইকে জানানো হয় স্বাস্থ্যবান মুখের লাভ ও প্রাপ্তি সম্পর্কে। এ ছাড়া দাঁতের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতি বছর ৬ মার্চ ‘ডেন্টিস্ট ডে’ পালিত হয়ে থাকে। মার্চ মাসের এ দুটি আন্তর্জাতিক দিবসে দাঁত ও মুখের যতেœ মানুষকে সচেতন করে তোলার পাশাপাশি মুখের বিভিন্ন রোগের কারণ ও করণীয় সম্পর্কে সবাই যেন অবহিত হতে পারে সেই জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়ে থাকে।

২০০৭ সালে ওয়ার্ল্ড ডেন্টাল ফেডারেশন (ঋউও) প্রথম ‘ওয়ার্ল্ড ওরাল হেলথ ডে’ দিবসটির ঘোষণা দেন এবং ২০১৩ সালে প্রথম অফিসিয়ালি দিবসটি পালিত হয়। ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ‘ওয়ার্ল্ড ওরাল হেলথ ডে’ কার্যক্রমের মূল থিম বা বিষয় নির্ধারিত হয় ‘ঝধু অযয’ মূল থিমের সঙ্গে প্রতি বছর ভিন্ন সাব থিম বা বিষয় সংযুক্ত হবে। ২০১৮ সালে ‘ওয়ার্ল্ড ওরাল হেলথ ডে’ কার্যক্রমের বিষয় ছিল ‘ঝধু অযয : ঞযরহশ গড়ঁঃয ঞযরহশ ঐবধষঃয’ একই ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালের ‘ওয়ার্ল্ড ওরাল হেলথ ডে’ ক্যাম্পেইন বা কার্যক্রমের থিম বা বিষয় হলো ‘ঝধু অযয : অপঃ ড়হ গড়ঁঃয ঐবধষঃয’ আপনার মুখের স্বাস্থ্যের যতœ নিন আপনার মুখ ও শরীরের সুরক্ষার জন্য। এই আহ্বান প্রত্যেক মানুষকে উদ্দীপনা দেয় সবাই যেন মুখের স্বাস্থ্যের যতœ নেয় এবং এটি সার্বিক স্বাস্থ্যের সেইফ গার্ড। বিশ্বের মোট জনসংখ্যার শতকরা ৯০ ভাগ মানুষ জীবনের কোনো না কোনো সময় মুখের রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। অধিকাংশ মুখের রোগের ক্ষেত্রেই অন্যান্য শরীরের রোগের সঙ্গে একই ধরনের রিস্ক ফ্যাক্টর বিদ্যমান থাকে। হৃদরোগ ইতোমধ্যেই শীর্ষ ঘাতক ব্যাধি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে যা মাঢ়ি রোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত। মাঢ়ি রোগের মাধ্যমে যদি ‘ভিরিড্যানস স্ট্রেপটোকক্কাই’ ব্যাকটেরিয়া রক্ত প্রবাহে সংক্রমিত হয় তাহলে হার্টের ভাল্ব নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই মাঢ়ি রোগের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার অবহেলা করবেন না। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায় পেরিওডন্টাল রোগে যে ব্যাকটেরিয়া পাওয়া যায় বা দেখা যায় তার মধ্যে স্টেপটোকক্কাস স্যানগুইস বা স্যানগুইনিস হার্টে সংক্রমিত হয়ে থাকে এবং এর মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়াল এন্ডোকার্ডাইটিস দেখা দিতে পারে। স্টেপটোকক্কাস স্যানগুইনিস সুস্থ মানুষের মুখে বিদ্যমান বিশেষ করে ডেন্টাল প্ল্যাকে বিদ্যমান থাকতে পারে। তাই মাঢ়ি রোগের ক্ষেত্রে অবহেলা না করে যথাযথ চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। সাধারণত পেরিওডন্টাইটিসের ক্ষেত্রে দাঁত নড়ে যায়। কিন্তু দাঁত বেশি নড়ে গেলেই সেটি পেরিওডন্টাইটিসের কারণে হয়েছে, এমনটি ভাবা ঠিক নয়। আর এ ক্ষেত্রে পেরিওডন্টাইটিস ভেবে দাঁত তোলাও ঠিক নয়। রোগীদেরও দাঁত নড়ার ক্ষেত্রে ডাক্তারকে এসে বলা উচিত নয় যে দাঁত ফেলে দেয়ার জন্য। কারণ পেরিওডন্টাইটিস ছাড়াও মাঢ়ির ক্যান্সারের কারণে দাঁত নড়ে যেতে পারে। এ ছাড়া রক্তনালীর টিউমার হেমানজিওমা হলেও দাঁত নড়ে যেতে পারে। সেসব ক্ষেত্রে ভালোভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে দাঁত ফেলে দিলে বড় ধরনের সমস্যা যেমন অঝোর ধারায় রক্তপাত হতে পারে। মোট কথা টিউমার, সিস্ট এবং অন্য কারণেও দাঁত নড়ে যেতে পারে। মাঢ়ি রোগ বা মাঢ়ির পাশে আলসার বা ঘা দেখা দিলে নিজে নিজে চিকিৎসা না করে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। এসব বিষয়ে রোগীদের সচেতন করে তোলাই হবে ওরাল হেলথ ডে-এর লক্ষ্য। ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের মতো লিভারের রোগের সঙ্গে পেরিওডন্টাল রোগের যোগসূত্র রয়েছে। লিভারের রোগে অনেক সময় মুখে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ হয়ে বিড়ম্বনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে থাকে। পেরিওডন্টাইটিসের সঙ্গে লিভারের রোগ যেমন নন এলকোহলিক লিভার ডিজিজ, লিভার সিরোসিস এবং হেপাটোসেলুলার কারসিনোমার যোগসূত্র খুঁজে পাওয়া যায়, অর্থাৎ এসব রোগের অবস্থার অবনতি ঘটে থাকে। মুখের অভ্যন্তরে কোনো সার্জারির পর রক্তপাত বেশি হতে পারে লিভারের রোগে। কোয়াগুলোপ্যাথির জন্য সামান্য আঘাতে মাঢ়ি থেকে অতিরিক্ত রক্তপাত হতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে ক্রনিক লিভার ডিজিজে দাঁত ও মাঢ়িতে সবুজ দাগ এবং এনামেল হাইপোপ্লাসিয়া দেখা যেতে পারে। হিউম্যান প্যাপিওলোমা ভাইরাসের কারণে মুখের ক্যান্সার ও সারভাইক্যাল ক্যান্সার হতে পারে। হিউম্যান প্যাপিওলোমা ভাইরাস টাইপ-১৬কে মুখের ক্যান্সারের রিস্ক ফ্যাক্টর হিসেবে গণ্য করা হয়। মুখকে নিয়ে ভাবুন, মুখ আপনার সার্বিক স্বাস্থ্যকে নিয়ে ভাববে। মনে রাখবেন মুখগহŸরকে অবহেলা করে কখনোই আপনার সার্বিক স্বাস্থ্য ভালো রাখা সম্ভব নয়।

ডা. মো. ফারুক হোসেন

মুখ ও দন্তরোগ বিশেষজ্ঞ

ইমপ্রেস ওরাল কেয়ার

মিরপুর, ঢাকা।

পরামর্শ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj