জিততে মরিয়া মেয়েরা : আশাবাদী কৃষ্ণা

মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ ২০১৯

খেলা প্রতিবেদক : সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের পঞ্চম আসরের সেমিফাইনালে আগামীকাল শক্তিশালী ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশের মেয়েরা। নেপালের বিরাটনগরের শহীদ রঙ্গাশালা স্টেডিয়ামে হতে যাওয়া ম্যাচটিতে সাবিনা-মৌসুমীদের জন্য যে কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে তা সবারই জানা। কেননা মেয়েদের ফুটবলে ভারত দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী দল। তাই চারবারের সাফ শিরোপাজয়ী দলটিকে হারিয়ে ফাইনালে যাওয়া মোটেই সহজ হবে না লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের জন্য। তবে ভারত যত কঠিন প্রতিপক্ষই হোক না কেন, আশা হারাচ্ছে না বাংলাদেশ দল। ভারত বধে মরিয়া গোলাম রব্বানী ছোটনের শিষ্যরা গতকাল কঠোর অনুশীলন করেছেন। ভারতের বিপক্ষে লড়াইয়ের আগে মেয়েদের অনুপ্রেরণা দিতে কাঠমান্ডু থেকে বিরাটনগর এসে সাবিনাদের সঙ্গে দেখা করেন নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাশফি বিনতে শামস। এ সময় বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক তাকে জাতীয় দলের জার্সি উপহার দেন। শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে সেমিফাইনালে খেলতে নামার আগে দারুণ এক সুখবর পেয়েছে বাংলাদেশ দল। ইনজুরি কাটিয়ে পুরোপুরি ফিট হয়ে উঠেছেন মিডফিল্ডার কৃষ্ণা রানী সরকার। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে নেপালের বিপক্ষে ৩-০ গোলে হেরে যাওয়া বাংলাদেশ দল পরের দিন (রবিবার) বিশ্রামে কাটালেও কঠোর অনুশীলন করেছে গতকাল। বিরাটনগরের দিল্লি পুলিশ স্কুল মাঠে সতীর্থদের সঙ্গে অনুুশীলনে ঘাম ঝড়িয়েছেন কৃষ্ণাও। হাঁটুর চোটের কারণে ভুটান ও নেপালের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের দুটি ম্যাচেই খেলতে না পারা এই মিডফিল্ডার ভারতের বিপক্ষে শেষ চারের ম্যাচের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, গত দুই ম্যাচে আমি খেলতে পারিনি। তবে এখন পুরোপুরি ফিট। আশা করি, সেমিফাইনালে শুরুর একাদশেই খেলতে নামতে পারব।

সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ মানেই ভারতের একচেটিয়া আধিপত্য। এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত চারটি আসরেরই শিরোপা জিতেছে তারা। শুধু তাই নয়, প্রতিযোগিতায় এখন পর্যন্ত একটি ম্যাচেও হারেনি ভারতের মেয়েরা, ড্র করেছে একটি ম্যাচ। সেটি বাংলাদেশের বিপক্ষে, ২০১৬ সালে শিলিগুড়ি-গুয়াহাটি আসরে। সেবার গ্রুপ পর্বের ওই ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়েছিল। ম্যাচটিতে খেলেছিলেন কৃষ্ণা রানী। সব মিলিয়ে ভারতের বিপক্ষে তিনটি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে কৃষ্ণার। সেই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বলেন, এর আগে ভারতের সিনিয়র দলের বিপক্ষে আমি তিনটি ম্যাচ খেলেছি। এর মধ্যে দুটি ছিল গত সাফের। সেখানে গ্রুপ পর্বে ড্র করেছিলাম। আর ফাইনালে হেরেছিলাম। আমাদের দলের শক্তি গত সাফের তুলনায় বেড়েছে। সে তুলনায় ভারত এখনো একই জায়গায় রয়েছে বলে মনে করি আমি। কৃষ্ণা আত্মবিশ^াসের সঙ্গে বলেন, গতবার যদি আমরা ড্র করতে পারি, তাহলে এবার কেন হারাতে পারব না। তবে কৃষ্ণা যতই বলুক, ভারতকে হারানো অনেকটাই অসম্ভব। ভারত ও বাংলাদেশের জাতীয় নারী ফুটবল দল এখন পর্যন্ত ৯টি ম্যাচ খেলেছে। এর মধ্যে ৮টিই জিতেছে ভারতের মেয়েরা, অপরটি ড্র হয়েছে।

খেলা-ধূলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj