তিন দেশের বিশ^কাপ জয়ের গল্প : রইল বাকি ৭২ দিন

মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ ২০১৯

খেলা ডেস্ক : দেখতে দেখতে ঘনিয়ে আসছে ১২তম বিশ^কাপের আসর। প্রথম, দ্বিতীয় বিশ্বকাপের পর তৃতীয় বিশ্বকাপেরও আয়োজন করেছিল ইংল্যান্ড। আগের ১১ আসরের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া সর্বাধিক ৫ বার, ভারত, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২ বার করে এবং পাকিস্তানি-শ্রীলঙ্কা একবার করে বিশ^কাপ জিতেছে। আমাদের নিয়মিত আয়োজনে আজ থাকছে ভারত, অস্ট্রেলিয়া এবং পাকিস্তানের বিশ^কাপ জয়ের গল্প।

১৯৮৩ সালে যথারীতি তৃতীয় আসরের স্পন্সরও হয়েছিল প্রæডেনশিয়াল কোম্পানি। ৮টি দেশকে দুই গ্রুপে বিভক্ত করে ৯ থেকে ২৫ জুন ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত তৃতীয় বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হ্যাটট্রিক শিরোপা জিততে দেয়নি ভারত। ২৫ জুন লর্ডসের ফাইনালে কপিল দেবের ভারত আগে ব্যাট করে ৫৪.৪ ওভারে মাত্র ১৮৩ রান সংগ্রহ করে। টানা দুবারের চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং লাইনআপের কাছে ১৮৩ রান ছিল বেশ মামুলি ব্যাপার। সবার ধারণা ছিল ট্রফি জয় ক্লাইভ লয়েডের জন্য সময়ের ব্যাপার মাত্র। কিন্তু সব ধারণাকে ভুল প্রমাণিত করে উইন্ডিজকে ১৪০ রানে গুটিয়ে দিয়ে ৪৩ রানে ম্যাচ জিতে শিরোপা নিয়ে ঘরে ফেরেন কপিল দেবের দল। এর আগে প্রথম সেমিফাইনালে স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালের টিকেট অর্জন করেছিল ভারত। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ পাকিস্তানকে ৮ উইকেটে হারায়।

ভারতের মহিন্দার অমরনাথ সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২৭ রানে ২ উইকেট এবং ৪৬ রান করায় এবং ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ব্যাট হাতে ২৬ রান এবং বল হাতে ১২ রানে ৩ উইকেট শিকার করায় সেমিফাইনাল এবং ফাইনালে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার জিতে নেন।

টানা তিনটি বিশ্বকাপ ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ১৯৮৭ সালে চতুর্থ বিশ্বকাপ আয়োজনের সুযোগ পায় ভারত-পাকিস্তান। যৌথ আয়োজক হওয়ার দৌড়ে নিউজিল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়াকে পেছনে ফেলে ভারত-পাকিস্তান রিলায়েন্স কোম্পানির নামানুসারে রিলায়েন্স বিশ্বকাপের আয়োজন করে। পাকিস্তান এবং ভারতের একুশটি ভেন্যুতে মোট সাতাশটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। আগের ৩টি বিশ্বকাপের মতো চতুর্থ বিশ্বকাপেও ৮টি দেশকে দুই গ্রুপে বিভক্ত করা হয়। এ সময়ে উপমহাদেশের দিন ইংল্যান্ডের তুলনায় ছোট হওয়ার কারণে চতুর্থ বিশ্বকাপ নির্ধারিত ৬০ ওভারের পরিবর্তে ৫০ ওভারে আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়। ‘বি’ গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান ‘এ’ গ্রুপের রানার্সআপ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪ নভেম্বর লাহোরে প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয়। পাকিস্তানকে ১৮ রানে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে অজিরা। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড ৩৫ রানে ভারতকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে। ৮ নভেম্বর ইডেন গার্ডেনের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়া ৭ রানে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে চতুর্থ বিশ্বকাপ জিতে নেয়। চতুর্থ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার ক্রেক ডরমেট ১৮ উইকেট সংগ্রহ করে টুর্নামেন্টের সেরা বোলার নির্বাচিত হন। ইংল্যান্ডের গ্রাহাম গুচ সর্বাধিক ৪৭১ রান সংগ্রহ করেন।

চতুর্থ বিশ্বকাপের ধারা অনুযায়ী পঞ্চম বিশ্বকাপের যৌথ স্বাগতিক দেশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপ আয়োজনে সমর্থ হয়। নানাবিধ কারণে পঞ্চম বিশ্বকাপ স্মরণীয় হয়ে রয়েছে। বর্ণবাদের কারণে দক্ষিণ আফ্রিকা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে একঘরে ছিল। ১৯৯২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞার বেড়াজাল তুলে নেয়া হয়। দক্ষিণ আফ্রিকাসহ ৮টি টেস্ট প্লেয়িং দেশের সঙ্গে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন জিম্বাবুয়েকে নিয়ে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা দাঁড়ায় ৯। অংশগ্রহণকারী ৯টি দেশ লীগ পদ্ধতিতে ৮টি করে ম্যাচে অংশ নেয়। পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা ৪টি দেশকে নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় সেমিফাইনাল। প্রথম সেমিফাইনালে ইমরান খানের পাকিস্তান ৬ উইকেটে নিউজিল্যান্ডকে এবং দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২০ রানে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে। ২৫ মার্চ মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত ফাইনালে পাকিস্তান ২২ রানে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতে নেয়। ফাইনালে ব্যাট হাতে ৩৩ রান এবং ১০ ওভারে ৪৯ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেয়ায় ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার জিতে নেন ওয়াসিম আকরাম।

খেলা-ধূলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj