নিজের ইচ্ছের বিরুদ্ধে কিছু করি না : জুহি চাওলা

শনিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

নব্বইয়ের দশকে বলিউড কাঁপিয়েছিলেন অভিনেত্রী জুহি চাওলা। তার অভিনয়শৈলী ও হাসিতে এখনো কাত সিনেমাপ্রেমিরা। বাণিজ্যিক হিন্দি ছবিতে দর্শকের কাছে তিনি নিঃসন্দেহে এখনো প্রিয় মুখ। সুলতানাত চলচ্চিত্রের মাধ্যমে প্রথম অভিষেক করেন চাওলা। কায়ামত সে কায়ামাত তাক এর মাধ্যমে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। মেলার পাঠকদের জন্য আজ তার সাক্ষাৎকার

কেরিয়ারের ৩৫ বছর হয়ে গেল। এখনকার ফিল্ম মেকিংয়ে আলাদা কী দেখেন?

জুহি : আমাদের সময়ে কাজ করতে করতে সেটে বসেই সংলাপ বা দৃশ্য লেখা হতো। গল্পের চার-পাঁচ লাইন শুনে গাট ফিলিংয়ের ভরসায় ‘হ্যাঁ’ বলে দিতাম। তবে যশ চোপড়া ‘আয়না’র পুরো স্ক্রিপ্ট আমাকে শুনিয়েছিলেন। এখন অনেক প্ল্যানিং করেই কাজ শুরু হয়।

আমির-শাহরুখের সঙ্গে কাজ করলেও সালমানের সঙ্গে কাজ করেননি। সালমান বলেন, আপনি নাকি ওর সঙ্গে কাজ করতে চাননি।

জুহি : এতদিনের পুরনো কথা আমার মনে নেই। ছবি না করলেও আমরা একসঙ্গে ওয়ার্ল্ড টুর করেছি। সেখানে আমির, রাবিনা টন্ডনও ছিল। তখন অল্প বয়স ছিল। কিছু না ভেবেই ‘হ্যাঁ-না’ বলে দিতাম। সে রকমই হয়তো কিছু হবে। এখন দেখছি, আমি ভুলে গেলেও সালমান সেটা মনে রেখেছে।

তখন আপনার আর মাধুরী দীক্ষিতের প্রতিযোগিতার কথা শোনা যেত। তা কতটা সত্যি ছিল?

জুহি : একেবারেই সত্যি। তখন এ বিষয়ে মুখ না খুললেও এখন বলতে দ্বিধা নেই। মাধুরীর সঙ্গে কোনো ছবিই করতে চাইতাম না। ও লিড হলে আমি সেকেন্ড লিড হতে রাজি হতাম না। যে কারণে ‘দিল তো পাগল হ্যায়’ করিনি। ওটা কারিশমা কাপুর করল। রাবিনা, কারিশমার সঙ্গেও আমার প্রতিযোগিতা ছিল। ‘নাইন্টিন ফর্টিটু আ লাভ স্টোরি’তে মনীষা কৈরালাকে দেখার পর মনে হয়েছিল, ও আমাদের সবার ছুটি করে দেবে!

আপনার ছেলেমেয়ে অর্জুন-জাহ্নবী বিদেশে পড়াশোনা করে। ওদের বাইরে পাঠালেন কেন?

জুহি : ছোটবেলায় আমার মা যখন আমাকে বোর্ডিং স্কুলে দেয়ার কথা বলতেন, আমি খুব কান্নাকাটি করতাম। তাই মা আমাকে বোর্ডিংয়ে পাঠাননি। কিন্তু আমার দুই ছেলেমেয়েই বাইরে পড়াশোনা করতে চেয়েছে। দুজনই পড়াশোনায় ভালো। বিশেষ করে আমার মেয়ে। অলরাউন্ডার বলা যায়। খুব ভালো গোলকিপার, স্কুবা ডাইভ করে। অভিনেত্রী হতে চায় কি না সেটা বলা মুশকিল। কোনো সময়ে বলে মডেল হবো, কখনো বলে সার্জন!

কয়েক বছর ধরে আপনি পরিবেশ সচেতনতামূলক কাজ করছেন…

জুহি : কেরিয়ারের শুরুতে সিনেমা ছাড়া অন্য কিছু নিয়ে ভাবতাম না। কিন্তু সন্তান হওয়ার পরে আমার জীবনে একটা বড় পরিবর্তন আসে। ওই সময়টা নিঃসন্দেহে টার্নিং পয়েন্ট ছিল। আগামী প্রজন্মকে কেমন পরিবেশ দিচ্ছি, কীভাবে তারা থাকবে… এগুলো আমাকে ভাবায়। সেই থেকেই এ ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত হই।

আত্মজীবনী লেখার ইচ্ছে আছে?

জুহি : না, কারণ আমার জীবনে কিছু অধ্যায় আছে যা, সবার সামনে তুলে ধরতে চাই না। তবে যদি কোনো দিন ইচ্ছে হয়, ছবির শুটিংয়ের অনেক অজানা গল্প নিয়ে লিখতে পারি।

এখন অনেকে মিড লাইফ ক্রাইসিসে ভোগেন। আপনি কীভাবে এর মোকাবেলা করেন?

জুহি : আমাদের জীবন খুব সরল। আমরাই এটাকে জটিল বানাচ্ছি। নিজের ইচ্ছের বিরুদ্ধে আমি কিছু করি না। শুধু মুখ দেখানোর জন্য কোনো পার্টিতে যাই না। একটা কথা এখন সবাই খুব ব্যবহার করে, ফোমো। যার মানে ফিয়ার অব মিসিং আউট। এগুলো মানুষকে আরো কষ্ট দেয়। আমি এ সব থেকে দূরে থাকি।

:: মেলা ডেস্ক

মেলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj