রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা : নির্বাচনে জনগণ সাম্প্রদায়িক শক্তিকে প্রত্যাখ্যান করেছে

বুধবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করে দেশের জনগণ অন্ধকারের শক্তিকে প্রত্যাখ্যান করে আলোর পথের যাত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার পক্ষেই গণরায় দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সরকারদলীয় সংসদ সদস্যরা। বক্তারা বলেছেন, ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন নিজেকে সংবিধান প্রণেতা দাবি করলেও কীভাবে তাদের নির্বাচিত এমপিদের শপথ নিতে বারণ করেন? এই কথা বলা তো সাংবিধানিক অপরাধ। রাষ্ট্রপতির ভাষণ সম্পর্কিত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা এমন মন্তব্য করেন।

ডেপুটি স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে গতকাল মঙ্গলবার রাতে রাষ্ট্রপতির ভাষণ সম্পর্কে আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা এসব কথা বলেন। আলোচনায় অংশ নেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ, সরকারি দলের মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম, আবদুল মান্নান, বিরোধী দল জাতীয় পার্টির ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, আবদুল মান্নান ও তানভীর ইমাম।

আলোচনায় অংশ নিয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কেউ আবাসহীন থাকবে না। আমরা সবার জন্য আবাসন তৈরি করতে চাই। তিনি বলেন, বিপন্ন, দুর্দশাগ্রস্ত, দুর্নীতিগ্রস্ত, পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন একটি দেশকে কীভাবে স্বল্পতম সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়ন-সমৃদ্ধির মহাসড়কে নিয়ে এলেন সেটাই আজ বিশ্ব নেতাদের কাছে বিস্ময়। পাকিস্তানি স্টাইলে চলা দেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। কিছু জ্ঞানপাপী আছে তারা কোনো উন্নয়নই দেখেন না। কিন্তু তারা একবারও বলেন না যে, কীভাবে আকণ্ঠ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত ব্যক্তি একটি দলের প্রধান হন? দণ্ডিত পলাতক আসামি কীভাবে দলের প্রধান হন। তিনি বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় প্রমাণিত হয়েছে কীভাবে খালেদা জিয়া-তারেক রহমানরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য কী ভয়াবহ ষড়যন্ত্র করেছিলেন। নির্বাচন প্রতিহতের নামে বিএনপি-জামায়াত জোট পেট্রোল বোমা মেরে গোটা বাংলাদেশকেই বার্ন ইউনিটে পরিণত করেছিল। সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে দাবি করে বলেন, ৯৩ দিন ধরে দেশকে অবরুদ্ধ করে শত শত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা দেশবাসী ভুলে যায়নি। নির্বাচনে তারই প্রভাব পড়েছে। বিএনপি নেতা ড. কামাল হোসেন জনগণ থেকে প্রত্যাখ্যাত। অন্যদিকে বিএনপির মনোনয়ন বাণিজ্যও দেশের মানুষ মেনে নেয়নি।

এদিকে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে দেশের সব বিষয়ে প্রভূত উন্নয়নের কথা বললেও অনেক সমস্যার বিষয় এড়িয়ে গেছেন। যাকে পাটোয়ারি উটপাখির বালিতে মুখ গুঁজে কিছু না দেখার সঙ্গে তুলনা করে বলেন, রাষ্ট্রপতি দেশের বেকার সমস্যা এড়িয়ে গেছেন। তিনি একবারেও তার ভাষণে দেশের ২১ শতাংশ দরিদ্র ও ১১ শতাংশ অতি দরিদ্র মানুষের উন্নয়নের কথা বলেননি। শিশু শ্রমের সমস্যার কথা বলেননি, দুর্নীতি দূর করার কথা বলেননি। এটা না করতে পারলে এসডিজি অর্জন করা অসম্ভব।

দ্বিতীয় সংস্করন'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj