অধ্যক্ষ মাহফুজা খুন : সন্দেহভাজন এক নারী আটক

বুধবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : ইডেন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মাহফুজা চৌধুরী পারভীন (৬৬) হত্যা মামলায় অভিযুক্ত দুই গৃহকর্মীকে গ্রেপ্তার করতে না পারলেও সন্দেহভাজন রুনু আক্তার নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। ওই নারীই নিহতের বাসায় দুই গৃহকর্মী এনে দিয়েছিলেন। আর তাকে নিয়েই গৃহকর্মী রেশমা ও স্বপ্নাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে। খুব শিগগিরই খুনিরা গ্রেপ্তার হবে বলে নিউ মার্কেট থানা পুলিশ জানিয়েছে।

থানা সূত্র বলছে, রুনু আক্তারকে গত সোমবারই আটক করা হয়। তাকে নিয়ে রাতভর অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। রাজধানীসহ ঢাকার বাইরে একাধিক স্থানে পুলিশ কাজ করছে। রুনুকে সঙ্গে নিয়ে এরই মধ্যে বেশ কয়েক জায়গায় অভিযান চালানো হয়েছে। বাদী যেহেতু দুই আসামির নাম উল্লেখ ছাড়াও রুনু আক্তারের নাম এজাহারের শেষে জড়িত থাকতে পারে বলে উল্লেখ করেছেন তাই তাকে আটক করা হয়েছে।

গত সোমবার সকালে ইডেন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষের স্বামী মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ভাইস চেয়ারম্যান ইসমত কাদির গামা একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, প্রায় ২ মাস আগে রুনু আক্তার নামে এক নারী দুই গৃহকর্মী রেশমা ও স্বপ্নাকে তাদের বাসায় আনেন। এ ছাড়া আগে থেকেই একজন বয়স্ক গৃহকর্মী ছিল এই বাসায়। এই তিনজন মিলে বাসার কাজের পাশাপাশি ৬৬ বছর বয়সী সাবেক অধ্যক্ষকে দেখাশোনা করতেন। বাসাটি ডুপ্লেক্স হওয়ায় উপরের তলায় অধ্যক্ষ ও তার স্বামী থাকতেন আর নিচ তলায় রান্নাঘর ও গৃহকর্মীরা থাকতেন। ঘটনার দিন গামা বাসার বাইরে

ছিলেন। সন্ধ্যার দিকে বাসায় ফিরে দরজা বন্ধ পেয়ে ডাকাডাকি করলে বয়স্ক গৃহকর্মী দরজা খুলে দেন। বাসার ভেতরে ঢুকে তিনি আলমারি ভাঙা দেখতে পান। এরপর স্ত্রীকে বালিশ চাপা অবস্থায় বিছানায় শুয়ে থাকতে দেখেন। রেশমা ও স্বপ্নাকে না পেয়ে বুঝতে পারেন তারা তার স্ত্রীকে হত্যা করে টাকা পয়সা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পালিয়েছে। পরে ২০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ ৫০ হাজার টাকা খুঁজে পাওয়া যায়নি। পালিয়ে যাওয়ার সময় যে ফোনটাতে তাদের দুজনের ছবি তুলে রাখা হয়েছিল সেই ফোনটাও নিয়ে যায়। এজাহারে আরো উল্লেখ করেছেন, রেশমা ও স্বপ্নার সঙ্গে গৃহকর্মী এনে দেয়া রুনু আক্তারও জড়িত থাকতে পারে।

অন্যদিকে তদন্ত সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, সাবেক অধ্যক্ষ হত্যার ঘটনায় একাধিক লোক জড়িত থাকতে পারেন। কারণ হত্যার সময় কেউ বালিশ চাপা দিয়ে ধরেছে, কেউ পা ধরেছে, কেউ হাত আবার কেউ মুখে আঘাত করেছে। যার চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ জন্য ড্রাইভারকেও সন্দেহের বাইরে রাখা হচ্ছে না। তাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তিনিও নজরদারিতে রয়েছেন। এ বিষয়ে নিউমার্কেট থানার অফিসার ইনচার্জ আতিকুর রহমান ভোরের কাগজকে বলেন, ইডেন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ হত্যার ঘটনায় জড়িত দুই গৃহকর্মীকে আটক করতে আমাদের কয়েকটি টিম কাজ করছে। শিগগিরই আসামিরা গ্রেপ্তার হবে।

দ্বিতীয় সংস্করন'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj