দিল্লির যন্তর-মন্তরে আজ বিরোধীদের মহাসমাবেশ

বুধবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

কাগজ ডেস্ক : বিজেপি সরকার ও মোদিবিরাধী লড়াই দিল্লি পৌঁছে দেয়ার প্রস্তুতি চলছে ভারতে। আজ বুধবার রাজধানীর যন্তর-মন্তরে মহাসমাবেশ করতে যাচ্ছে দেশটির বিরোধী দলগুলো। সমাবেশে যোগ দিতে গতকাল মঙ্গলবার রাতেই দিল্লি পৌঁছেছেন পশ্চিমঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী এবং তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

গত ১৯ জানুয়ারি তৃণমূল কংগ্রেসের আয়োজনে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডের সমাবেশে যেসব বিরোধী দল যোগ দেয়, ‘ইউনাইটেড ইন্ডিয়া’র ব্যানারে তারা প্রায় সবাই হাজির থাকছে আজকের সমাবেশে। স্থানীয় শাসক দল হিসেবে এ সমাবেশের আয়োজক আম আদমি পার্টি। এ কারণে সমাবেশে কংগ্রেসের যোগদান নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশা রয়েছে। কেননা আম আদমি দলের নেতা কেজরিওয়ালের সঙ্গে দিল্লি কংগ্রেসের ঘোর বৈরিতার কোনো সুরাহা হয়নি এখনো।

বিরোধী দলগুলো বলছে, দেশের অখণ্ডতা, সংবিধান এবং গণতন্ত্র সুরক্ষার তাগিদেই মোদির বিরুদ্ধে একজোট হওয়া দরকার। কলকাতায় পুলিশ কমিশনারের বাসভবনে সিবিআই হানা দেয়ার প্রতিবাদে ধরনায় বসে মমতাও বলেছিলেন, সংবিধান ও গণতন্ত্র বাঁচাতেই এ পদক্ষেপ নিচ্ছেন তিনি। মমতার ধরনা কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে গোটা দেশের রাজনৈতিক শিবির থেকে একের পর এক ফোন করেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল, চন্দ্রবাবু নাইডু, অখিলেশ যাদব, মায়াবতী, তেজস্বী যাদব, এম কে স্ট্যালিন, শারদ পাওয়ার এবং শরৎ যাদবের মতো ডাকসাইটে নেতারা।

ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলের এই ধরনা কর্মসূচি যে শিগগিরই সর্বভারতীয় বিরোধী রাজনীতির জন্য প্রেরণা হয়ে উঠবে, তা অভ্রান্ত উপলব্ধি করেন মমতা। এ কারণে সেখানে নির্মিত মঞ্চে কোথাও তৃণমূল কংগ্রেসের নাম বা প্রতীক ব্যবহার করেননি তিনি। ব্যানারে শুধু লেখা ছিল ‘সেভ ইন্ডিয়া’।

সর্বোচ্চ আদালতের রায় পাওয়ার পর ধরনা তুলে নেন মমতা। কিন্তু সেদিনই চন্দ্রবাবু নাইডু কলকাতার ধরনা মঞ্চে দাঁড়িয়ে ঘোষণা দেন, লড়াই এখানেই শেষ নয়, একে পৌঁছে দেয়া হবে দিল্লিতে। ওই ঘোষণা অনুসারেই আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে যন্তর-মন্তরের সমাবেশ।

শুধু সমাবেশ নয়, একটি বড় মিছিলের ডাক দেয়া হয়েছে। রামলীলা ময়দান থেকে শুরু হয়ে যন্তর-মন্তরে গিয়ে শেষ হবে ওই মিছিল। আগামীকাল বৃহস্পতিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি বৈঠক করতে পারেন বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে। দিল্লিতে মমতা যেখানে থাকবেন, সেখানেই ওই বৈঠক হবে বলে সূত্র জানায়। বিজেপিবিরোধী সমঝোতা আরো কতটা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, বৈঠকে তা নিয়ে তো আলোচনা হবেই; লোকসভা নির্বাচনের আগে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে আরো বড় কোনো যৌথ কর্মসূচি নেয়া হবে কিনা, তা নিয়েও কথা হতে পারে ওই বৈঠকে।

দ্বিতীয় সংস্করন'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj