ভূমিহীনদের পুনর্বাসন দাবি : মোরেলগঞ্জে শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

বুধবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিনিধি : জেলার সাইনবোর্ড-মোরেলগঞ্জ-বগী আঞ্চলিক মহাসড়কে পাশে গড়ে ওঠা শতাধিক অবৈধ স্থাপনা ও ৫ একর সরকারি জমি উদ্ধার করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। গত সোমবার পার্শ¦বর্তী উপজেলার কাঁঠালতলা থেকে মোরেলগঞ্জ উপজেলার ছোলমবাড়িয়া পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় মহাসড়কের জায়গায় থাকা শতাধিক অবৈধ পাকা, আধাপাকা স্থাপনা, ১৯ কিলোমিটার সড়কের পাশে রাখা ইট, বালু ও গাছসহ বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী অপসারণ ও ৫ একর সরকারি জমি উদ্ধার করা হয়।

এ সময় সড়ক ও জনপথ বিভাগ খুলনা অঞ্চলের স্টেট ও আইন কর্মকর্তা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সিফাত মেহনাজের নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযানে মোরেলগঞ্জ নির্বাহী অফিসার মো. কামরুজ্জামান, সড়ক ও জনপথ বিভাগের বাগেরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী আনিসুজ্জামান মাসুদসহ ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ বিভাগ, গণমাধ্যমকর্মী ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সিফাত মেহনাজ বলেন, সরকারি জায়গা অবৈধ দখল মুক্ত রাখা সড়ক ও জনপথ বিভাগের একটি চলমান প্রক্রিয়া। তার অংশ হিসেবে সাইনবোর্ড-বগী আঞ্চলিক মহাসড়কের ১৯ কিলোমিটার সড়কের জায়গায় গড়ে ওঠা শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও ৫ একর সরকারি জমি উদ্ধার করা হয়েছে। উচ্ছেদকৃত জমি পুনরায় যাতে দখল না হয় সে জন্য কঠোর মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে।

এদিকে উচ্ছেদ হওয়া ভূমিহীন পরিবার বিপাকে পড়েছেন। এ সময় তারা পুনর্বাসনের দাবি জানান। জানা গেছে, মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা আঞ্চলিক মহাসড়কের দুপাশে পৌরসভার ৩ ও ৪নং ওয়ার্ড ও সদর ইউনিয়নের পূর্ব সরালিয়া, পশ্চিম সরালিয়া এবং বিশারিঘাটার একটি অংশে বসবাস করতো ভূমিহীন শতাধিক পরিবার।

ভ্যানচালক জলিল হাওলাদারের স্ত্রী হোসনেয়ারা বেগম জানান, দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে তিল তিল করে উপার্জিত সঞ্চয় থেকে গড়ে তোলা একটি কাঠের বসতঘর। পরিবারে রয়েছে ২ ছেলে ১ মেয়ে দিনমজুরের কাজ করে স্বামী ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার জোগান দিয়েছে। বড় ছেলে সোহাগ আকন কুরআনে হাফেজ, মেয়ে নাজমা আক্তার (১৯) অনার্স ২য় বর্ষের ছাত্রী ও ছোট ছেলে বায়জিদ ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। স্বামী পৈতৃক কোনো ভিটেমাটি পায়নি। এ ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের নিয়ে রাস্তার পাশে ঠাঁই নিয়েছিল। এখন আমরা কোথায় যাব।

একই অবস্থা দিনমজুর জামাল আকন স্বামী পরিত্যক্ত সূর্যবান বিবি, চম্পা বেগম, মিরাজ ঘরামি, জলিল আকন, নজরুল চাপরাশিসহ পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের ইউসুফ চাপরাশী, অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্য আবুল কাশেম, চুন্নু হাওলাদার, রাসেল হাওলাদার, মান্নান আকনসহ শকাধিক ভূমিহীন পরিবারের।

উচ্ছেদ অভিযানের ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলেও আগে থেকেই সড়ক ও জনপদ কর্তৃক নোটিশ পাওয়ার পরপরই বিভিন্ন স্থান থেকে সরিয়ে নিচ্ছে তাদের চায়ের দোকান, বসতবাড়িসহ অবৈধ স্থাপনা।

সদর ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদ আলী ভূমিহীনদের বসবাসের জন্য সরকারিভাবে স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. মোজাম্মেল হোসেনের সহযোগিতার মাধ্যমে এসব পরিবারদের পুনর্বাসনের জন্য জোর দাবি জানান।

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj