রাউজানে বিস্তীর্ণ ক্ষেতজুড়ে হলুদের মনমাতানো দৃশ্য

বুধবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

এম রমজান আলী, রাউজান (চট্টগ্রাম) থেকে : বিস্তীর্ণ ক্ষেতজুড়ে সরিষার আবাদ। যেদিকে চোখ যায় শুধু হলুদ আর হলুদ। সরিষা ক্ষেতের মনমাতানো এই দৃশ্য দেখে উপচে পড়ছে কৃষকের হাসি। সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে এই চিত্র। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবারের মতো এ বছরও রাউজানে সরিষার আবাদ হয়েছে। অল্প পুঁজিতে ফলনও হয় ভালো। তাই সরিষার চাষে কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।

রাউজান উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের সিনিয়র উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা কাজী আতিকুর রহমান চৌধুরী জানান, উপজেলার রাউজান পৌর এলাকা, উরকিরচর, বিনাজুরি, পশ্চিমগুজরা, ডাবুয়া, হলদিয়া, চিকদাইর, বাগোয়ান, নোয়াজিশপুর ও কদলপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ জমিতে এবার সরিষার আবাদ হয়েছে। বিশেষ করে উত্তর রাউজানের কয়েকটি ইউনিয়নে সরিষা ক্ষেতের মনমাতানো দৃশ্য নজর কাড়ছে পথচারীদের। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশে এখন ১৫ জাতের সরিষার চাষাবাদ হচ্ছে। প্রতি কেজি সরিষা থেকে ৫০০ গ্রাম সরিষা তেল পাওয়া যায়। চাষাবাদের তিন মাসের মধ্যে সরিষার ক্ষেত থেকে ফসল ঘরে তোলা যায়।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, পুরাতন টরি-৭ থেকে বারি-১৪, ১৫ ও ১৬ জাতের সরিষায় তেলের পরিমাণ বেশি হওয়ায় কৃষকরা আধুনিক জাতের সরিষা আবাদে বেশি আগ্রহী। রাউজান পৌর এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক তসলিম উদ্দিন চৌধুরী জানান, এ বছর তিনি এক একর কৃষি জমিতে সরিষার আবাদ করেছেন। তার সরিষা ক্ষেত এখন হলুদে বর্ণে টইটুম্বুর।

রাউজান পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল সালাম বলেন, আমন মৌসুমের ধান কাটার পর তার কৃষি জমিতে সরিষার চাষ করেছেন। ফলন ভালো হলে কম খরচে লাভবান হওয়া যায়। তাই শীতকালীন বিভিন্ন সবজির পাশাপাশি তিনি সরিষা চাষ করেছেন। রাউজান ইউনিয়নের সুজন জানান, বিগত কয়েক বছর ধরে তিনি সরিষার চাষাবাদ করে আসছেন। কম পুঁজিতে লোকসানের তেমন আশঙ্কা না থাকায় সরিষা চাষাবাদে তার মতো অনেকেই এগিয়ে আসছেন।

রাউজান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন বলেন, চলতি বছর রাউজানের বিভিন্ন ইউনিয়নে ৭০ হেক্টর কৃষি জমিতে সরিষার চাষাবাদ করা হয়েছে। আশানুরূপ ফলন হলে ৭ টন সরিষা উৎপাদন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj