পানিপথ

বুধবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

পানিপথ যাতায়াত করার কায়দা শিখতে আগেকার দিনের মানুষের বোধহয় বেশি দেরি লাগেনি। প্রথমে লোকে গাছের গুঁড়ির সাহায্যে পানিতে ভেসে থাকার কৌশল শেখে। পরে ভেসে থাকার উন্নত ধরনের সরঞ্জাম প্রস্তুতের কৌশল আবিষ্কার করে। গাছের গুঁড়ির মাঝখানকার কিছুটা কাঠ কেটে বের করে নিয়ে পানির ওপর তাকে ভাসিয়ে রাখা শিখতে গিয়েই মানুষ নৌকা তৈরি করতে শেখে।

মিসরে খ্রিস্টের জন্মের তিন-চার হাজার বছর আগে থেকেই নৌকা ব্যবহারের নজির পাওয়া যায়। প্রথম যুগের নৌকা কেবল ¯্রােতের অনুক‚লেই চলতে পারত। পরে পাল খাটিয়ে বাতাসের সাহায্যে খুশিমতো নৌকা চালানো শুরু হয়। ফিনিসীয়রা খ্রি. পূ. দ্বাদশ শতাব্দীতে প্রথম নৌকাকে নিজের প্রয়োজনমতো যেদিকে খুশি চালাতে শেখে।

বাইবেলে বিখ্যাত নোয়ার আর্কের বর্ণনা পাওয়া যায়। এই নোয়ার আর্ক ছিল এক বিরাট নৌকা। তাতে নোয়া ও তার পরিবারের লোকজন এবং পৃথিবীর প্রত্যেক রকম প্রাণীর এক একটি আশ্রয় পায় ও প্লাবনে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পায়। নৌকার আকারের উন্নতি থেকেই ক্রমশ জাহাজ তৈরি শুরু হয়। জাহাজ তৈরি প্রকৃত পক্ষে শুরু হয় গ্রিকদের আমলে। রোমানদের সময়ে অসংখ্য জাহাজ তৈরি হয়। রাজ্য জয়ের জন্য সেসব জাহাজ ব্যবহৃত হতো। মিসরের রানী ক্লিওপেট্রার সময়ে রোমান যুদ্ধ জাহাজের অনেক উন্নতি হয়।

রোমানদের এক একটি জাহাজে ৩৫০ জন পর্যন্ত লোক একসঙ্গে দাঁগ টানত এবং এসব জাহাজে ১২০ জন পর্যন্ত সৈন্য থাকতে পারত। উত্তর ইউরোপের দুর্ধর্ষ নাবিকদস্যু ভাইকিংরা উত্তাল সমুদ্রের দক্ষতার সঙ্গে জাহাজ চালিয়ে খুব নাম করেছিল।

চতুর্দশ শতাব্দীতে বাণিজ্যিক প্রয়োজনে সমুদ্রগামী জাহাজের চলমান নিয়মিতভাবে শুরু হয়। এর বেশ কিছু আগে থেকেই ভূমধ্যসাগরে ইতালিয়রা যাত্রী ও মালপত্র বহন করার জন্য তিনতলা ৬০০-৭০০ টনের জাহাজ ব্যবহার করা শুরু করে। প্রথম দিকে স্পেনীয়, পর্তুগিজ, ডাচ, ইতালি ও ফরাসিরা জাহাজে নির্মাণ শিল্পে অগ্রণী থাকলেও রানী এলিজাবেথের সময় থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত নৌশিল্পে ইংল্যান্ড শ্রেষ্ঠত্বের দাবি করতে পারে। তবে জাপান বর্তমানে নৌশিল্পে বিস্ময়কর উন্নতি করেছে। গ্রন্থনা : ইমরুল ইউসুফ

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj