সিলেট সিটির হোল্ডিং ট্যাক্স পুনঃমূল্যায়ন

বুধবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

সিলেট ব্যুরো : সিলেট সিটি করপোরেশনের হোল্ডিং ট্যাক্স পুনঃমূল্যায়ন দীর্ঘ ১৩ বছর পর শুরু হয়েছে। তবে দীর্ঘদিন পরে শুরু হলেও হালনাগাদ করা হয়নি হোল্ডিং ট্যাক্স। নেয়া হচ্ছে আগের হিসাবেই। এতে করে নতুন করারোপ কিংবা করদাতাদের সংখ্যাও বাড়েনি। যে কারণে বিশাল অঙ্কের কর ফাঁকির ক্ষতিতে পড়ে আছে সিলেট সিটি করপোরেশন।

এ অবস্থা থেকে উত্তরণে নগরবাসীর নিজস্ব ভূমি ও ভবনের পরিমাপ এবং হোল্ডিং ট্যাক্স পুনঃমূল্যায়ন (জেনারেল রি-অ্যাসেসমেন্ট) কার্যক্রম শুরু করছে সিলেট সিটি করপোরেশন।

গত সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী কুমারপাড়ায় তার নিজ বাড়ির পুনঃমূল্যায়ন ফরম গ্রহণের মধ্যদিয়ে কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

সোমবার প্রথম দিনে সিটি করপোরেশনের ১, ২, ৪, ১৫, ১৭ ও ১৮ নং ওয়ার্ডে ৬টি টিমের সমন্বয়ে নতুন এবং পুরাতন বাসা-বাড়ির বিবরণ ও বাণিজ্যিক ভবন, স্থাপনা, জমির পরিমাণসহ বিস্তারিত বিবরণ প্রেরণের জন্য রি-অ্যাসেসমেন্ট ফরম বিতরণ করা হচ্ছে। ফরম পাওয়ার পর তা পূরণ করে ৭ দিনের মধ্যে নগর ভবনের অ্যাসেসমেন্ট শাখায় জমা দিতে হবে বলে জানিয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশনের রাজস্ব শাখা।

জানা গেছে- পাঁচ বছর পর হোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারণের বিধান থাকলেও দীর্ঘ প্রায় ১৩ বছরেও এ কার্যক্রমের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। দ্বিতীয় মেয়াদে আরিফুল হক চৌধুরী সিসিকের মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম দিকেই এ উদ্যোগ গ্রহণ করেন তিনি।

তবে প্রথম মেয়াদে উদ্যোগ গ্রহণের ইচ্ছা থাকলেও প্রায় তিন বছর কারাবাসের কারণে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি বলে জানান সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, রি-অ্যাসেসমেন্ট কাজে সংশ্লিষ্টদের কোনো অনিয়ম-গাফলতি বরদাশত করা হবে না।

এ কাজে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোনো অনিয়মের অভিযোগ থাকলে সরাসরি তাকে জানানোর অনুরোধ করেন তিনি।

মেয়র বলেন, হোল্ডিং ট্যাক্স মাফ করার কোনো বিধান নেই। অতীতে যারা হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় না করে ভোটের রাজনীতির স্বার্থে সম্মানিত নাগরিকদের শুধু বকেয়া ঋণের বোঝা বাড়িয়েছেন, তারা সম্মানিত নাগরিকদের মারাত্মক ক্ষতি করেছেন। এখন সেই ঋণ আদায় করতে নগরবাসীকে যেভাবে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে, ঠিক সেইভাবে আমাকেও পড়তে হচ্ছে বিভ্রান্তিতে। সিসিকের সচিব মোহাম্মদ বদরুল হক এ কাজে সকল নাগরিকের সর্বাত্মক সহযোগিতার আহ্বান জানান।

সিসিকের অ্যাসেসের চন্দন দাশ জানান, রি-অ্যাসেসমেন্ট ফরম গ্রহণের সময় থেকে ৭ দিনের মধ্যে তা পূরণ করে জমা দিতে হবে। অন্যথায় বিধি অনুযায়ী একতরফাভাবে কর নির্ধারণ করা হবে।

এ সময় সিসিকের কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-৩ এ বি এম জিল্লুর রহমান উজ্জ্বল, প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj