মিয়ানমার থেকে গরু ও কাঠ আমদানি ৩ সপ্তাহ ধরে বন্ধ

বুধবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

শাহীন শাহ, কক্সবাজার থেকে : মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতায় দেশটি থেকে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে সব ধরনের আমদানি বন্ধ রয়েছে। বিশেষ করে গবাদি পশু ও কাঠ আমদানি বন্ধ থাকায় এর প্রভাব পড়েছে স্থানীয় বাজারে। বৃদ্ধি পেয়েছে মাংসের দাম। পাশাপাশি শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

টেকনাফ শুল্ক বিভাগ জানায়, গত ২৩ জানুয়ারি হতে কক্সবাজারের টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ করিডোরে পশু আমদানি হচ্ছে না। এতে কমেছে রাজস্ব আয়। চলতি বছর ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত ৩ হাজার ৩৯১টি গরু, ৪৪০টি মহিষ আমদানি হওয়ায় ১৯ লাখ ১৫ হাজার ৫শ টাকা রাজস্ব আদায় হয়। এরপর থেকে করিডোরে কোনো ধরনের গবাদিপশু আসেনি। চোরাইপথে গবাদিপশু আসা রোধে ২০০৩ সালের ২৫ মে শাহপরীর দ্বীপ করিডোর চালু করা হয়। করিডোর দিয়ে আসা গরু-মহিষপ্রতি ৫০০ এবং ছাগলপ্রতি ২০০ টাকা হারে রাজস্ব আদায় করা হয়। বিজিবি ও শুল্ক বিভাগের তত্ত্বাবধানে এ রাজস্ব আদায় করা হয়।

টেকনাফ উপজেলা পশু আমদানি কারক সমিতির সভাপতি ও পৌরসভার প্যানেল মেয়র আবদুল্লাহ মনির বলেন, মিয়ানমারে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার কারণে সে দেশের ব্যবসায়ীরা রপ্তানি নিরাপদ মনে করছেন না। দেশটিতে সীমান্তে নিরপত্তার নামে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এ নিয়ে ব্যবসায়ীদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তাই চাহিদা পাঠানোর পরও সে দেশের ব্যবসায়ীরা পশু পাঠাচ্ছে না। এতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা।

আরেক পশু ব্যবসায়ী মো. শরীফ বলেন, দেশের চাহিদা পূরণে মিয়ানমার থেকে পশু আমদানি করা হয়। বর্তমানে পশু না আসায় এপারে গবাদি পশুর চাহিদা ও দাম বেড়ে গেছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে টেকনাফ সীমান্তে পণ্য আমদানিতেও প্রভাব পড়ছে। মিয়ানমার থেকে প্রতিমাসে বিপুল পরিমাণ কাঠ আমদানি হয়। গত তিন সপ্তাহ বন্দরে কাঠ আমদানি বন্ধ।

জানুয়ারি মাসে স্থল বন্দরে কাঠ আমদানি করে সরকার ২ কোটি ৭২ লাখ টাকার রাজস্ব আয় করে। চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে এ পর্যন্ত ৩০ লাখ টাকার মতো রাজস্ব আয় হয় বলে জানায় শুল্ক বিভাগ।

সূত্র জানায়, জানুয়ারি মাসে টেকনাফ শুল্ক স্টেশনে রাজস্ব আদায় হয় ২২ কোটি ১০ লাখ টাকা। ওই মাসে টার্গেট ছিল ১৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। টার্গেটের চেয়ে ৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা বেশি রাজস্ব আদায় হয়। চলতি মাসে টার্গেট পূরণ নিয়ে শঙ্কিত বলে জানান বন্দর সংশ্লিষ্টরা।

টেকনাফ স্থল বন্দর শুল্ক কর্মকর্তা শংকর কুমার দাশ বলেন, পশুর করিডোর থেকে সরকার প্রতি বছর কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করে আসছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পশু ব্যবসায়ীদের সহায়তায় তা সম্ভব হয়। এ বছর জানুয়ারি মাসের শেষে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে গবাদি পশু আসা বন্ধ রয়েছে। শুধু গবাদি পশু ও কাঠ নয়, আমদানি ও রপ্তানি সব ধরনের পণ্যে এর প্রভাব পড়েছে। এতে চলতি মাসে রাজস্ব আদায়ের টার্গেট পূরণ নিয়ে শঙ্কা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj