আনসার-ভিডিপির কুচকাওয়াজে প্রধানমন্ত্রী : মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে সজাগ থাকুন

বুধবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : জাতীয় সংকট ও জরুরি মুহূর্তে বাংলাদেশ আনসার এবং গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) সদস্যদের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আনসার-ভিডিপি সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, জাতীয় সংকটকালে ও জরুরি মুহূর্তে আপনারা দক্ষতা ও সফলতার পরিচয় দিয়েছেন। মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের সবাইকে সব সময় সজাগ থাকতে হবে। গতকাল মঙ্গলবার গাজীপুরের সফিপুরে আনসার-ভিডিপি একাডেমিতে বাহিনীটির ৩৯তম জাতীয় সমাবেশ ও কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের কুচকাওয়াজ পরিদর্শন এবং সালাম গ্রহণ করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালসহ বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

বক্তব্যের শুরুতেই ভাষা আন্দোলনের শহীদ আনসার সদস্য আবদুল জব্বারসহ সব ভাষা শহীদ ও মুক্তিযুদ্ধে শহীদ আনসার বাহিনীর সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও তাদের কথা স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতীয় নির্বাচনে এ বাহিনীর সদস্যদের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪০ হাজার ১৮৩টি ভোট কেন্দ্রে প্রায় ৫ লাখ আনসার-ভিডিপি সদস্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। একটি সুষ্ঠু নির্বাচন বাংলাদেশের জনগণকে উপহার দিয়েছেন। এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ৫ জন আনসার সদস্যকে জীবন দিতে হয়েছে। আমরা আজ তাদের মরণোত্তর সাহসিকতা পদক দিয়েছি।

২০১৪-১৫ সালে বিএনপির সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় আনসার বাহিনীর ভূমিকার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ২০১৩-১৪ ও ২০১৫ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট অগ্নিসন্ত্রাস এবং মানুষকে ককটেল বোমা মেরে রেলগাড়ি, লঞ্চসহ সাধারণ মানুষের চলাচলে বাধা তৈরি করেছিল। আগুন দিয়ে পুড়িয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করছিল। সেই অগ্নিসন্ত্রাস প্রতিরোধে বিশেষ করে রেলের নিরাপত্তায় আনসার বাহিনীর সদস্যরা বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন। তাদের এই অনবদ্য ভূমিকার জন্য আমি তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

দেশ ও জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ‘একটি বাড়ি-একটি খামার’ কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। যাতে গ্রামীণ মানুষ অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল হয়ে ওঠে। কোনো জমি যেন অনাবাদি না থাকে। এই কর্মসূচির পুনঃনামকরণ করা হয়েছে ‘আমার বাড়ি-আমার খামার’। যেহেতু এ বিষয়ে আপনাদের (আনসার-ভিডিপি সদস্য) প্রশিক্ষণ আছে। সেজন্য এই প্রকল্পে আপনারা আরো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। আপানারা যেন এর মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছলতা অর্জন করতে পারেন। সেজন্য আমি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আপনাদের সঙ্গে কাজ করতে বলেছি।

বাহিনীর উন্নয়নে সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি বলেন, আনসার সদস্যদের জন্য ঝুঁকিভাতা চালু এবং আনসার-ভিডিপি ব্যাংক চালু করা হয়েছে। দেশের শান্তিশৃঙ্খলা-নিরাপত্তা ও মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নতিই আমাদের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। আসুন, সবাই মিলে আমাদের মাতৃভূমিকে আমরা উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে যেন গড়ে তুলতে পারি সেজন্য কাজ করি। দেশে-বিদেশে সব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ, বাঙালি জাতি যেন মাথা উঁচু করে মর্যাদার সঙ্গে চলতে পারে, সেজন্য কাজ করি।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj