সম্প্রসারিত মেলা অনন্য সাধারণ হয়ে উঠেছে

বুধবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : আমি চিত্তরঞ্জন সাহার সময় থেকেই মেলার সঙ্গে আছি। বইমেলা সংস্কৃতিকে সারা দেশব্যাপী সত্যিকার অর্থে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন মুক্তধারার প্রতিষ্ঠাতা চিত্তরঞ্জন সাহা। বই নিয়ে তার আন্দোলন রীতিমতো একটা জাতীয় আন্দোলনে পরিণত হয়েছিল। তিনি প্রথম কলকাতায় বইমেলা শুরু করেন। কলকাতায় ১৬টা মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বইও প্রকাশ করেছিলেন। এরপর ঢাকায় ফিরে এসে ১৯৭২ সাল থেকে পুরো আশি এবং নব্বই দশকজুড়ে বই নিয়ে বিপ্লব করেছেন। ১৯৭৬ সাল থেকে একেবারে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমি তার সঙ্গে জড়িত ছিলাম।

বইমেলার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ভোরের কাগজকে এসব কথা বলেন দেশবরেণ্য চিত্রশিল্পী হাশেম খান। তিনি আরো বলেন, সেইসময়ের মেলা ছিল বাংলা একাডেমিকে ঘিরে। এর ভেতরেই চেনাজানাদের সঙ্গে বেশ আড্ডা জমত। একুশে ফেব্রুয়ারির দিনে বাংলা একাডেমিতে কবিতা পাঠের আসর বেশ জমজমাট থাকত। এখন তো সারা মাস বইমেলা সরগরম থাকে। মনে হয় পুরো ঢাকা শহরই উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে। আমাদের সেইসব দিন আর আজকের এই বইমেলার ব্যাপ্তি নিঃসন্দেহে বিশাল পরিবর্তন। এটা ইতিবাচক পরিবর্তন।

এবারের বইমেলার পরিবেশ কেমন লাগছে? এ প্রশ্নের জবাবে হাশেম খান বলেন, দেখে খুব ছিমছাম মনে হলো। অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক জায়গায় ইমপ্রæভ হয়েছে। স্টলগুলো অনেক গোছানো এবং নান্দনিক মনে হয়েছে। প্রফেশনালিজম এসেছে।

সম্প্রসারিত মেলা প্রসঙ্গে বিশিষ্ট এই শিল্পী বলেন, সম্প্রসারিত মেলাটাই তো অনন্য সাধারণ হয়ে উঠেছে। ভালো লাগছে। এখন সবাই জায়গা পেয়েছেন। এতে করে বিক্রিও বাড়বে। আগে প্রকাশকরা অনেক বই প্রকাশ করলেও পাঠকের কাছে পৌঁছাতো না। এখন তারা ঘুরে ফিরে দেখে কিনতে পারবেন। সম্প্রসারণের কারণে মেলার স্পন্দন একটুও কমেনি। বরং শ্বাস নেয়ার জায়গা বেড়েছে। সম্প্রীতির জায়গা বেড়েছে। আড্ডার জায়গা বেড়েছে। ছোট ছোট শিশুরা মনের আনন্দে মেলায় ঘুরে বেড়াচ্ছে; সম্প্রসারিত মেলার এটাই তো আমাদের বড় পাওয়া। সম্প্রসারিত মেলা না হলে এই প্রাণের ছোঁয়াটা পাওয়া যেত না।

তিনি আরো বলেন, এই মেলাকে সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে হবে। ঢাকার বাইরের মানুষরা কিন্তু ঢাকায় এসে বই কিনতে পারে না। তাদের জন্য প্রতিটি জেলায় জেলায় বইয়ের মেলা করতে হবে।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj