জিয়া জাদুঘর : জিয়ার নাম মুছে দিল ছাত্রজনতা

বুধবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

চট্টগ্রাম অফিস : চট্টগ্রামের পুরনো সার্কিট হাউস, যা ‘জিয়া স্মৃতি জাদুঘর’ নামে রয়েছে, তা নিয়ে চট্টগ্রামের রাজনীতি আবার কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। ওই স্থাপনাটি ‘মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে গড়ে তোলার দাবিতে মাঠে নেমেছে ছাত্রলীগ, মুক্তিযোদ্ধাসহ সচেতন প্রতিবাদী জনতা।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে এই দাবিতে মানববন্ধন-সমাবেশের পর ‘জিয়া স্মৃতি জাদুঘর’-এর নামফলক থেকে জিয়ার নাম মুছে দিয়েছে ছাত্রলীগ। প্রসঙ্গত গত সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে শিক্ষা উপমন্ত্রী জিয়া স্মৃতি জাদুঘরকে ‘মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘরে’ রূপান্তরের প্রস্তাব দেন। বিষয়টি দৈনিক ভোরের কাগজসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর এ নিয়ে মাঠে নামে মুক্তিযোদ্ধা, ছাত্রলীগসহ প্রতিবাদী ছাত্রজনতা। গতকাল সকালে জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের নাম পরিবর্তন করে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘর নামকরণ করার দাবিতে ‘মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের ছাত্র ফোরাম’ সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন করে প্রতিবাদী ছাত্রজনতা। এ সময় তারা বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদে দি ত যুদ্ধাপরাধী সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীসহ পাকিস্তানি সেনারা ১৯৭১ সালে অনেক নিরীহ বাঙালি ও মুক্তিযোদ্ধাকে ধরে এই ভবনে রেখে নির্যাতন করেছিল। এই ভবনের সঙ্গে মুক্তিকামী বাঙালির স্বাধীনতার জন্য প্রাণ বিসর্জনের স্মৃতি জড়িত। এই ভবন কখনো জিয়াউর রহমানের মতো একজন বিতর্কিত মানুষের নামে হতে পারে না।

‘মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের ছাত্র ফোরাম’ সংগঠনের সভাপতি ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য আবদুর রহিম শামীমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ও নগর ছাত্রলীগের সহসম্পাদক রাহুল দাশের পরিচালনায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন মহানগর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোজাফফর আহমদ, সহকারী কমান্ডার সাধন চন্দ্র বিশ্বাস, হেলাল উদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা প্রশান্ত সিংহ, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সরওয়ার আলম মনি, ছাত্রলীগ নেতা একরামুল হক রাসেল, জাহিদুল ইসলাম, মেজবাহ উদ্দিন শিকদার সুমন প্রমুখ।

তবে এর প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে চট্টগ্রাম নগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দিপ্তী ও সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শাহেদ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের সাইনবোর্ড থেকে জিয়ার নাম মুছে ছাত্রলীগ কর্মীরা একজন সেক্টর কমান্ডারের অপমান নয়, মুক্তিযুদ্ধের অবমাননা করেছে। বাংলাদেশের মতো একটি উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এটি লজ্জাজনক ঘটনা। এ ধরনের অন্যায়, অনৈতিক কাজের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

উল্লেখ্য, সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের নাম পরিবর্তন করে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘর নামকরণ করার প্রস্তাব তোলেন।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj