চট্টগ্রামে একুশে বইমেলা জমে উঠেছে

বুধবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

চট্টগ্রাম অফিস : চট্টগ্রামে শুরু থেকেই জমজমাট একুশের বইমেলা। মেলায় প্রতিদিনই বইপ্রেমীদের ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে। শিশুদের কার্টুন ও কমিক বই থেকে শুরু করে সব ধরনের বই পাওয়া যাচ্ছে এ বইমেলায়। নগরীর এমএ আজিজ স্টেডিয়ামের জিমনেসিয়াম প্রাঙ্গণে ১৯ দিনব্যাপী একুশের এ বইমেলায় ঢাকা-চট্টগ্রামের ১১০টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশ নিচ্ছে। তাই এবারের মেলা নিয়ে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে তরুণ-তরুণী এবং লেখক-প্রকাশকদের আগ্রহের কমতি নেই। সবাই যেন দীর্ঘদিন থেকে এ রকম একটি বইমেলার আয়োজনের অপেক্ষায় ছিলেন।

চট্টগ্রাম সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদের সভাপতি ও মেলার যুগ্ম আহ্বায়ক মহিউদ্দিন শাহ আলম নিপু ভোরের কাগজকে বলেন, আশা করছি, চট্টগ্রামেও ঢাকার মতো জমজমাট বইমেলা হবে। মেলায় আসা দর্শনার্থীদের অন্তত একটি বই কেনার অনুরোধ করেন তিনি।

গতকাল বিকেলে মেলায় ঘুরে দেখা যায়, বইয়ের স্টলগুলোতে দর্শনার্থীর ভিড়। চতুর্থ শ্রেণিতে পড়–য়া তানহা তার পছন্দের ভুতের গল্প ও ড্রয়িং বই কিনেছে। তার মা শাহিনুর আক্তার ভোরের কাগজকে বলেন, অন্যবারের চেয়ে এবারের বইমেলাকে অনেক আলাদা। নাসিরাবাদ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র আবরার সাদিদ গোয়েন্দা কাহিনীর ভক্ত। সাদিদ বলল, মা-বাবা তাকে গল্পের বই পড়তে উৎসাহ দেন। এদিকে শৈলী প্রকাশনী স্টলের আরিফ রায়হান বলেন,

আমাদের সব ধরনের বই রয়েছে। শিশুদের কার্টুন ও কমিক বইগুলো বেশ ভালো বিক্রি হচ্ছে। বিশ^সাহিত্য কেন্দ্রের স্টলের বিক্রেতা আদিত্য বলেন, চট্টগ্রামের এ বইমেলায় আমরা যতটুকু আশা করেছি তার থেকেও বেশি সাড়া পাচ্ছি। নন্দনের সুব্রত চৌধুরী বলেন, এবারের বইমেলা চট্টগ্রামের বইপ্রেমীদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে। শিশুতোষ বই বেশি বিক্রি হচ্ছে। সব মিলিয়ে এবারের একুশে বইমেলা অন্যবারের চেয়ে যেন একটু ভিন্নতা তৈরি করতে পেরেছে চট্টগ্রামের বইপ্রেমীদের মনে।

চসিক সূত্র জানায়, ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে ও ছুটির দিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য মেলা উন্মুক্ত থাকবে। প্রতিদিনই নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও নির্ধারিত স্থানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া মেলা প্রাঙ্গণে প্রতিদিনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে রবীন্দ্র ও নজরুল উৎসব, বসন্তবরণ উৎসব, ভালোবাসা দিবস উদযাপন, বিতর্ক-সাহিত্য-ইতিহাস-ঐতিহ্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতা এবং রবীন্দ্র-নজরুল-লোকসঙ্গীত, সাধারণ নৃত্য, লোক নৃত্য, আবৃত্তি, হামদ-নাত, উপস্থিত বক্তৃতা, দেশের গান, চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত রবিবার বিকেল ৫টায় ফেস্টুন উড়িয়ে এই মেলার উদ্বোধন করেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj