গরু জব্দ করা নিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ে সংঘর্ষ : বিজিবির গুলিতে নিহত ৩

বুধবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

ঠাকুরগাঁও ও হরিপুর প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার বেতনা সীমান্তের বহরমপুর এলাকায় ভারতীয় গরু জব্দ করাকে কেন্দ্র করে বিজিবির সঙ্গে এলাকাবাসীর সংঘর্ষে বিজিবির গুলিতে ৩ জন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরো ১৫ জন। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় এই সংঘর্ষ ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম জে আরিফ বেগ। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।

নিহতরা হলেন- বকুয়া ইউনিয়নের রুহিয়া গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে নবাব উদ্দীন (২৫), জাহির উদ্দীনের ছেলে সাদেক আলী (৪০) এবং বহরমপুর গ্রামের নূর ইসলামের ছেলে এসএসসি পরীক্ষার্থী জয়নাল। আহতদের মধ্যে চোখে গুলিবিদ্ধ আবুল কাসেম নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে রংপুর মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকি ১৪ জন হরিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে দিনাজপুরের এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তারা হলেন- জয়বুন নেছা, আব্দুল হান্নান, রুবেল, সাদেক, সাদেকুল, এরশাদি, আনছারুল, মিঠু, বাবু, মুন নাহার, সোহেল রানা, তৈয়বুর রহমান, মুন্নাত আরা ও রাসেল। এদের সবার বাড়ি বহরমপুর গ্রামে।

এলাকাবাসী জানান, বরহমপুর গ্রামের মাহাবুব আলী ৬ মাসে আগে একটি গরু কেনেন। মঙ্গলবার সকালে সেই গরুসহ আরো কয়েকটি গরু স্থানীয় যাদুরানী বাজারে বিক্রির জন্য বাড়ি থেকে বের হন তিনি। ওইসব গরু পাচার করে আনা হয়েছে সন্দেহে বেতনা ক্যাম্পের বিজিবি সদস্যরা সেগুলো জব্দ করতে গেলে মাহাবুবের পরিবার ও এলাকাবাসীর সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। পরে বিজিবি গুলি ছুড়লে যাদুরানী বাজারের উদ্দেশে আসা ২ পথচারীসহ ৩ জন নিহত ও ১৫ জন আহত হন।

অন্যদিকে বিজিবি কর্মকর্তারা বলছেন, ভারতীয় গরু আটক করায় সশস্ত্র চোরাকারবারিরা হামলা করলে তারা গুলি চালাতে বাধ্য হন। ঠাকুরগাঁও ৫০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তুহিন মো. মাসুদ বলেন, ওগুলো ভারতীয় গরু। সংঘবদ্ধ চোরাকারবারিরা কোনো এক সময় সেগুলো নিয়ে এসেছিল। তারা বাজারে নিয়ে যাওয়ার সময় সীমান্তের দুই কিলোমিটার ভেতরে আমাদের টহল দল তাদের ধরে। গরুগুলো বিওপিতে নেয়ার সময় দুই তিনশ লোক ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। আমরা প্রথমে ঠেকানোর চেষ্টা করেছি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দিয়েও বোঝানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু তারা কারো কোনো কথা শোনেনি। বরং উত্তেজিত হয়ে বিজিবির অস্ত্র ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। এ সময় ৪ বিজিবি সদস্য আহত হন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় আমরা গুলি করতে বাধ্য হই।

হরিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুস সামাদ বলেন, গুলিবিদ্ধ ১৪ জনের গুলি বের করে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের দিনাজপুর আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

হরিপুর থানার ওসি মো. আমিরুজ্জামান জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে গুলিবিদ্ধ লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পুলিশ যাওয়ার পর বিজিবি সদস্যরা সেখান থেকে চলে যান। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে গুলিতে হতাহতের খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিম ও পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান দুপুরে বহরমপুর গ্রামে যান। ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের জেলা প্রশাসক বলেন, চোরাই গরু ঢুকেছে সন্দেহে বিজিবি অভিযান চালায়। এ সময় তারা বেশ কয়েকটি গরু জব্দ করে। তখন গ্রামবাসীর সঙ্গে বিজিবির সংঘর্ষ বাধে এবং গুলিতে হতাহতের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিবেদন পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj