চোরাচালানের নিরাপদ রুট ঠাকুরগাঁও সীমান্ত

বুধবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

মনসুর আলী, ঠাকুরগাঁও থেকে : ভারতীয় গরু চোরাকারবারিদের নিরাপদ রুটে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ-ভারতের ঠাকুরগাঁও সীমান্ত। শুধু গরু নয়, মাদকদ্রব্য বিশেষ করে ফেনসিডিল আমদানির নিরাপদ রুটে পরিণত হয়েছে এই সীমান্ত এলাকা। জেলার পীরগঞ্জ, হরিপুর ও বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে গরু চোরাচালান আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। একই সঙ্গে বাড়ছে সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহতের সংখ্যাও। প্রায় দিনই এসব সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে প্রাণ যাচ্ছে সীমান্ত এলাকার নিরীহ মানুষের। অথচ এসব গরু ব্যবসায়ীদের আড়ালে যেসব গডফাদার রয়েছেন তারা সব সময়ের জন্য থাকেন পর্দার আড়ালে।

সূত্রমতে, বর্তমানে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যেকার সীমান্ত বেড়ে ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার সীমান্তের অধিকাংশ স্থানে কাঁটাতারের বেড়া (ফেন্সিং) দিয়েছে নয়াদিল্লি। ঢাকাও বেশ কিছু এলাকায় কাঁটাতার বসিয়েছে। এখন বাকি আছে মাত্র ২৮২ কিলোমিটারের সীমান্ত এলাকা। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁওয়ের ১২৫ বর্গকিলোমিটার বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন অবাধে ফেনসিডিলের চালান আসছে। গরু চোরাকারবারিরাও নিরাপদ রুট হিসেবে ঠাকুরগাঁও সীমান্ত ব্যবহার করছে। সীমান্তের ওপার থেকে গরু আনতে গিয়ে প্রাণ যাচ্ছে নিরীহ মানুষের।

সূত্র জানায়, জেলার বালিয়াডাঙ্গী, রাণীশংকৈল, হরিপুর ও পীরগঞ্জ ৪টি উপজেলায় সীমান্ত এলাকায় চোরাকারবারিরা ভারতে প্রবেশ করে। সেখান থেকে গরু নিয়ে আসে। ওই গরু বাংলাদেশে বিক্রি করে। কোনো কোনো চোরাকারবারি বিএসএফএর হাতে গুলি খেয়ে মারা যায়। এ নিয়ে বিজিবি ও বিএসএফএর মধ্যে পতাকা বৈঠক হয় এবং বাংলাদেশিদের লাশ ফেরত নিয়ে আসে। জেলার বালিয়াডাঙ্গী সীমান্তে এ জাতীয় ঘটনা প্রায়ই বেশি ঘটে থাকে।

সূত্র জানায়, অভাবের তাড়নায় সীমান্ত এলাকার কিছু নিরীহ মানুষ মাত্র ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকার বিনিময়ে ভারত থেকে গরু বাংলাদেশ সীমান্তে নিয়ে আসার দায়িত্ব নিয়ে পড়েন মহাবিপদে। অথচ বিএসএফের সঙ্গে গডফাদাররা আগে থেকে যোগাযোগ করে নিরীহ মানুষদের রাতের আঁধারে গরু আনার জন্য পাঠানো হয় সীমান্তের ওপারে ভারতে। গরু নিয়ে আসার সময় বিএসএফের গুলিতে অনেকে নিহত হন। এরপর তাদের পুরো পরিবারকে মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়।

বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির সীমান্ত এলাকার লোকজনের সঙ্গে বহুবার বৈঠক হয়। বৈঠকে বাংলাদেশি চোরাকারবারিদের ভারতে গরু আনতে যেতে মানা করা হয়। তারপরও এরা ভারতে গিয়ে গরু নিয়ে আসে। গতকাল মঙ্গলবার হরিপুর উপজেলার বেতনা সীমান্তে ভারতীয় গরু নিয়ে গ্রামবাসী ও বিজিবির সংঘর্ষ হয়। এ সময় ৪ জন মারা যান।

ঠাকুরগাঁও ৫০ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল তুহিন মো. মাসুদ জানান, সীমান্ত এলাকার লোকজনের সঙ্গে বারবার বৈঠক করা হয়েছে। তারা যাতে ভারতে গরু আনতে না যায় সে কারণে তাদের বারবার বলা হলেও লাভ হয়নি। এ জাতীয় ঘটনার জেরেই আজকের ঘটনা ঘটেছে বলে জানান তিনি। তারা ভারতীয় গরু বাসায় নিয়ে রেখে দেয়।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj