অনিকের স্বপ্ন : মিজানুর রহমান মিথুন

বুধবার, ৩০ জানুয়ারি ২০১৯

অনিক সব সময় বাসা এলোমেলো করে রাখে। বাসার মধ্যে ক্রিকেট খেলে, গাড়ি চালায়। আলমারি-শোকেসের একটার জিনিসপত্র আর একটার মধ্যে রাখে। নানা রকম কাগজপত্র কেটেকুটে ঘরের মেঝে নোংরা করে রাখে। অনিকের এমন কর্মকাণ্ডে তার মা খুবই বিরক্ত, অনিককে সামলানো নিয়েই তাকে ব্যস্ত থাকতে হয়।

দুষ্টুমির জন্য অনিকের মা অনিককে মাঝেমধ্যে লাঠিপেটা করেন। কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয় না। অনিকের মা সব সময় অনিককে বলেন- বাসার জিনিসপত্র ভাঙতে নেই। এলোমেলো করে রাখতে নেই। যারা ভালো মানুষ তারা কখনো বাসা এলোমেলো করে রাখে না। মেহমান এসে দেখলে বলবে ছেলেটি খুব নোংরা। কেউ তোমাকে পছন্দ করবে না। আদর করবে না। সব কিছু গুছিয়ে রাখলে তোমাকে সেরা মানুষ বলবে।

মায়ের এই কথা শুনে অনিক বুঝতে পারে সে যে কাজ করছে তা মোটেই ভালো নয়। সেই সঙ্গে প্রতিজ্ঞা করে আজ থেকে বাসার কোনো কিছু এলোমেলো করে রাখবে না, বরং মায়ের সঙ্গে সব কিছু গোছানোর কাজে সহযোগিতা করবে।

অনিক প্রতিদিন মায়ের সঙ্গে স্কুলে যায়। আজ মায়ের শরীর খারাপ থাকায় মাহীনের সঙ্গে স্কুলে যাবে। মাহীন অনিকের ফুপাতো ভাই। সে তাদের বাসায় থেকেই কলেজে পড়াশোনা করছে। স্কুলে যাওয়ার পথে অনিক প্রতিদিনের মতো দেখতে পায় কয়েকজন লোক হাতে বিশাল ঝাড়– নিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করছে। অনিক এদের দেখে মাহীনের কাছে জিজ্ঞেস করে- ভাইয়া ওনারা কারা?

উত্তরে মাহীন বলে- এদের বলা হয় পরিচ্ছন্নতাকর্মী। এরা ঢাকার শহরের রাস্তাঘাট অলিগলি পরিষ্কার ঝকঝকে সুন্দর করে রাখে। এরা ঢাকা সিটি করপোরেশনে চাকরি করে।

– হুম, বুঝতে পেরেছি।

কথা বলতে বলতে তারা নবাবপুর স্কুলের গেটে পৌঁছে যায়। মাহীন অনিককে স্কুলের গেটে নামিয়ে দিয়ে বাসায় ফেরে।

অনিকের স্কুলের ক্লাস শুরু হয়েছে। আজ তাদের নতুন ক্লাস টিচার যোগদান করেছেন। নতুন স্যার একে একে সবার সঙ্গে পরিচিত হয়ে জানতে চাচ্ছেন বড় হয়ে কে কি হতে চায়। এতে কেউ কেউ বলেছে, পাইলট হতে চাই, কেউ ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার কেউ বা শিল্পী, সাংবাদিক হওয়ার কথা জানিয়েছে।

যখন অনিকের পালা এসেছে, তখন দাঁড়িয়ে বলে- আমি পরিচ্ছন্নতাকর্মী হতে চাই।

অনিকের এই কথা শুনে ক্লাসের সবাই হো হো করে হেসে উঠল। কেউ কেউ হাততালিও দিল।

হাততালি ও হাসাহাসি শুনে অনিক ক্লাসের চারদিকে একবার তাকিয়ে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকে। সে এতে ভীষণ লজ্জা পায়।

স্যার ব্যাপারটা বুঝতে পারেন। স্যার সঙ্গে সঙ্গে অনিকের কাছে গেলেন। পিঠে মাথায় হাত বুলিয়ে বলেন- তুমি পরিচ্ছন্নতাকর্মী হতে চাও বেশ ভালো কথা। তবে কেন তুমি পরিচ্ছন্নতাকর্মী হতে চাও বলো।

মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকে অনিক।

– লজ্জা পাচ্ছো কেন? বলো।

– আমি সব সময় বাসা এলোমেলো ও ময়লা করে রাখি। এতে আম্মু অনেক বকাবকি করেন। আম্মু বলেছেন ভালো মানুষ, সেরা মানুষ হতে হলে সবকিছু গুছিয়ে রাখতে হবে, বাসা ময়লা করা যাবে না। বাসা ময়লা হলে, অপরিষ্কার হলে পরিষ্কার করে রাখতে হবে। তাছাড়া স্কুলে আসার সময় প্রতিদিনই দেখি পরিচ্ছন্নতাকর্মী লেখা পোশাক পরে অনেকে রাস্তা পরিষ্কার করেন, এটা দেখতে আমার ভালোলাগে, তাই আমি পরিচ্ছন্নতাকর্মী হতে চাই।

অনিকের এই কথা শুনে ক্লাসজুড়ে হাসির রোল পড়ে গেল।

ইষ্টিকুটুম'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj