কোহলিদের অস্ট্রেলিয়া জয়

মঙ্গলবার, ২২ জানুয়ারি ২০১৯

বিরাট কোহলির নেতৃত্বে এবার অস্ট্রেলিয়া সফরে দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলেছে টিম ইন্ডিয়া। অস্ট্রেলিয়া সফরে ৭১ বছরের ইতিহাস বদলে দিয়েছে রবি শাস্ত্রীর শিষ্যরা। টেস্ট এবং ওয়ানডে সিরিজ জয় করেই ক্ষান্ত হয়নি কোহলি বাহিনী। টি-টোয়েন্টি সিরিজ ১-১ ব্যবধানে ড্র করে অপরাজিত থাকার তকমা নিয়ে দেশে ফিরেছে দুবারের বিশ^ চ্যাম্পিয়নরা। এবারের সফরটা বেশ স্মরণীয় হয়ে থাকবে টিম ইন্ডিয়ার।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টিম পেইনদের বিপক্ষে রবি শাস্ত্রীর শিষ্যরা ৩টি করে টোয়েন্টি ও ওয়ানডে এবং ৪ ম্যাচের টেস্ট সিরিজে অংশ নেয়। টি-টোয়েন্টি সিরিজ ১-১-এ ড্র হয়। প্রথম ম্যাচে স্বাগতিকরা ৪ রানে জিতে। দ্বিতীয় ম্যাচ ভেসে যায় বৃষ্টিতে। আর শেষ ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ায় ভারত। এরপর ৪ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ২-১ ব্যবধানে এবং ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতে কোহলিরা।

তবে ক্রিকেট ভক্তদের বেশি নজর কেড়েছে টেস্ট ম্যাচগুলো। ৪ ম্যাচের টেস্ট সিরিজে দুদল চমৎকার লড়াই করেছে। যা দর্শকরা প্রাণভরে উপভোগ করেছেন।

এডিলেডে ৩১ রানে প্রথম ম্যাচ জিতে ভারত। পার্থে ১৪৬ রানে দ্বিতীয় টেস্ট জিতে ১-১-এ সমতা আনে অজিরা। এরপর তৃতীয় টেস্টে জিততে মরিয়া হয়ে ওঠে কোহলিরা। মেলবোর্নে বক্সিং ডে টেস্ট ১৩৭ রানে জিতে ২-১-এ এগিয়ে যায় সফরকারীরা। তবে সিডনিতে চতুর্থ ও শেষ টেস্ট ম্যাচে টিম পেইনদের নাস্তানাবুদ করে ছেড়েছে রবি শাস্ত্রীর শিষ্যরা। এই ম্যাচে চতুর্থ দিন স্বাগতিকদের ফলোঅন করিয়েছে ভারত। নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৭ উইকেট হারিয়ে ৬২২ রান সংগ্রহ করে কোহলিরা। অস্ট্রেলিয়া অলআউট হয় ৩০০ রানে। ফলে ৩২২ রানের বোঝা মাথায় নিয়ে ফলোঅনে পড়ে স্বাগতিকরা। ৩১ বছর পর প্রথমবারের মতো ঘরের মাঠে টেস্টে ফলোঅনে নামতে বাধ্য হয় অজিরা। সর্বশেষ এমন ঘটেছে এই সিডনিতেই ১৯৮৮ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। আর যে কোনো মাঠ বিচারে ২০০৫ সালে ট্রেন্ট ব্রিজ টেস্টের পর এই প্রথম ফলোঅন করতে নামে টিম পেইন বাহিনী।

পঞ্চম দিন বৃষ্টির জন্য খেলা মাঠে গড়ায়নি। ফলে চতুর্থ টেস্ট ড্র হয়। এ কারণে ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ জেতে না হলেও ২-১ ব্যবধানে জিতে ইতিহাস গড়ে কোহলিরা। এর আগে কপিল দেব, আজহার উদ্দিন, সৌরভ গাঙ্গুলিরা যা পারেননি সেই অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছে রবি শাস্ত্রীর শিষ্যরা। টেস্টের পর তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে হারলেও দ্বিতীয় ম্যাচে জিতে সমতায় ফিরে কোহলিরা। মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ৭ উইকেটে জিতেছে রবি শাস্ত্রীর শিষ্যরা। এই জয়ে তারা ২-১ ব্যবধানে নিশ্চিত করেছে সিরিজের ট্রফিটা। এর মধ্যে ১১টি টেস্ট সিরিজ খেলেছে তারা। কিন্তু তেমন দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজ খেলা হয়নি। ২০১৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজ খেলে ভারত। আর চলতি সিরিজটি দ্বিতীয়। প্রথম সিরিজটি ৪-১ ব্যবধানে জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া। তবে রঙিন পোশাকে সিরিজ জয় করে সেই সাফল্যকে রাঙালো ভারত। শেষ ওয়ানডেতে ভারতের জয়ের মূল নায়ক দুজন। তারা হলেন লেগ স্পিনার যুজবেন্দ্র চাহাল ও মহেন্দ্র সিং ধোনি। প্রথমজন স্পিনের জাল বিছিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে গুঁড়িয়ে দেন ২৩০ রানে। এ ছাড়াও গড়েছেন অজিদের মাটিতে ওয়ানডে সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড। ১০ ওভার শেষে চাহালের বোলিং ফিগার দাঁড়ায় ১০-০-৪২-৬। যা কিনা ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে অজিদের মাটিতে সেরা বোলিং ফিগারের রেকর্ড। তিনি ছাড়া ওয়ানডে ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ৫ উইকেট নিয়েছেন মাত্র ৭ জন স্পিনার। তারা হলেন রবি শাস্ত্রি, সাকলাইন মুশতাক, ব্র্যাড হগ, শেন ওয়ার্ন, জিমি অ্যাডামস, ইমরান তাহির এবং আবদুল কাদির।

আর ব্যাট হাতে দলকে লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে দ্বিতীয়জন খেলেছেন অপরাজিত ৮৭ রানের ইনিংস। অস্ট্রেলিয়ার ২৩১ রানের জবাবে খেলতে নেমে ৪৯.২ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে ভারত। ধোনি ৩৭ বছর বয়সে ফুরিয়ে যাননি, সেটা দেখিয়ে দিলেন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ ওয়ানডে সিরিজে। অজিদের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজের সব ক’টি ম্যাচেই ফিফটি করেছেন, এর মধ্যে শেষ দুই ম্যাচেই অপরাজিত ছিলেন ধোনি। ঠিক যেন সেই পুরনো ফিনিশার। ২৩১ রানের জবাবে ব্যাট হাতে নেমে ১৫ রান তুলতেই রোহিত শর্মার উইকেট হারিয়ে ধাক্কা খেয়েছিল ভারত। শেখর ধাওয়ানও ২৩ রানের বেশি এগোতে পারেননি। তবে চার নম্বরে নামা ধোনি খেলেছেন একেবারে দেখেশুনে। তৃতীয় উইকেটে বিরাট কোহলিকে নিয়ে ৫৪ রানের জুটি গড়েন ধোনি, যে জুটিতে কোহলিরই অবদান বেশি। ব্যক্তিগত ৪৬ রানে কোহলি ফিরে গেলে দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন ফিনিশার মহেন্দ্র সিং ধোনি। কেদর যাদবকে নিয়ে চতুর্থ উইকেটে ১২১ রানের জুটিতে দলকে একেবারে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন ভারতের উইকেটরক্ষক এই ব্যাটসম্যান। ১১৪ বলে ৬ বাউন্ডারিতে ধোনি খেলেন হার না মানা ৮৬ রানের ইনিংস। ৫৭ বলে ৭ চারে ৬১ রানে অপরাজিত ছিলেন কেদর যাদব।

– কামরুজ্জামান ইমন

গ্যালারি'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj