বিদেশ : ইতিহাসের দীর্ঘতম ‘শাটডাউন’ চলছে যুক্তরাষ্ট্রে

রবিবার, ১৩ জানুয়ারি ২০১৯

কাগজ ডেস্ক : মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের টাকা বরাদ্দ না করায় কংগ্রেসের অর্থ বিলে এখনো সই করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ফলে সরকার পরিচালনার অচলাবস্থা বা শাটডাউন অব্যাহত রয়েছে এখনো। এর আগে দেশটিতে দীর্ঘতম শাটডাউন ছিল প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের আমলে ১৯৯৬ সালে; ২১ দিনের। গত শনিবার তাকে পেছনে ফেলেছে ট্রাম্পের চলমান একগুঁয়েমি। ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সমঝোতায় তার ব্যর্থতার দায় মেটাতে বেতন ছাড়াই কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে মার্কিন সরকারের লাখ লাখ কর্মী।

মার্কিন অর্থবছর শুরু হয় ১ অক্টোবর থেকে। তার আগেই বাজেট অনুমোদন করিয়ে নিতে হয়। তবে সমঝোতার অভাবে কখনও কখনও মার্কিন কংগ্রেস তা পাস করাতে ব্যর্থ হয়। যুক্তরাষ্ট্রে কেন্দ্রীয় সরকারের তিন চতুর্থাংশ কার্যক্রম পরিচালনার অর্থ বরাদ্দ করা আছে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। বাকি এক চতুর্থাংশের বাজেট ফুরিয়ে যাওয়ায় অচলাবস্থা ঠেকাতে গত ২১ ডিসেম্বর নতুন অস্থায়ী বাজেট বরাদ্দ ছিল অপরিহার্য। কিন্তু মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের বরাদ্দ নিয়ে ডেমোক্র্যাট-রিপাবলিকান বিরোধিতায় শুরু হয় অচলাবস্থা।

শাটডাউনে এবার ক্ষতির মুখে পড়েছে বিমানবন্দর কর্মী, এয়ার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রক ও এফবিআই কর্মীরা। শাটডাউন চলতে থাকলে জননিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে। চীনের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরুর পর সয়াবিনের দাম পড়ে যাওয়ায় আমেরিকার বহু কৃষক ট্রাম্প প্রশাসনের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আশা করছিলেন। তবে শাটডাউনের কারণে বন্ধ হয়ে আছে সেই ক্ষতিপূরণও। অর্থনীতিবিদরা বলছেন চলতি শাটডাউনে গত শুক্রবার পর্যন্ত ক্ষতির পরিমাণ ৩৬০ কোটি মার্কিন ডলার। আরও দুই সপ্তাহ ধরে শাটডাউন অব্যাহত থাকলে এ ক্ষতির পরিমাণ ৬০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণে এর চেয়ে কম পরিমাণ অর্থ চাইছেন ট্রাম্প।

বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ মার্কিন এ শাটডাউনকে তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির আরও একটি পরিহাস হিসেবে দেখে এলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন এর বৈশ্বিক প্রভাব রয়েছে। কর্মীরা কাজে যোগ না দিলে বন্দরে কন্টেইনারগুলো অসহায় পড়ে থাকলে রপ্তানিকারক বা ব্যবসায়ীরা এর প্রভাব টের পেতে শুরু করবেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মার্কিন দূতাবাসে কর্মরত লাখ লাখ কর্মীও শাটডাউনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। শাটডাউনের কারণে মার্কিন জিওলোজিক্যাল সার্ভের আট হাজার কর্মীর মধ্যে মাত্র ৭৫ জন এখন কাজ করতে পারছে। ফলে বিশ্বের ভূতাত্তি¡ক ঘটনাগুলোর পূর্বাভাস দিয়ে আসা এ প্রতিষ্ঠানটি ইন্দোনেশিয়ার সুনামির কোনও আগাম তথ্য সরবরাহ করতে পারেনি।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj