আওয়ামী লীগের যৌথসভায় প্রধানমন্ত্রী : গণতন্ত্রের স্বার্থে সংসদে আসা দরকার বিএনপির

রবিবার, ১৩ জানুয়ারি ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : গণতন্ত্রের স্বার্থে বিএনপির সংসদে আসা দরকার বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, নির্বাচনে প্রার্থী দেয়ার ক্ষেত্রে বিএনপি মনোনয়ন বাণিজ্য না করলে ফলাফলে আরো কিছুটা হয়তো ভালো করতে পারত। হত্যাসহ বিভিন্ন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে দিয়ে রাজনীতি করতে গেলে কী হয়, বিএনপি তার ফল পেয়েছে। বাংলার জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। গতকাল শনিবার বিকেলে ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের যৌথসভায় সভাপতি বক্তব্যে এসব কথ বলেন তিনি। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ ও সভাপতিমণ্ডলীসহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সদস্যরা সভায় উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্যের শুরুতে প্রয়াত আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য প্রয়াত সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোক প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা। বক্তব্যের শুরুতেই সভার এজেন্ডা হিসেবে নতুন সরকারের কার্যক্রম, নির্বাচনী ইশতেহার, সংগঠনকে শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা করা হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

বিকেল সাড়ে ৩টায় শুরু হওয়া যৌথসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৮ এর নির্বাচনে বিএনপি যদি মনোনয়ন বাণিজ্য না করত, তাহলে হয়তো তাদের ফলাফল আরো কিছুটা ভালো হতে পারত। নির্বাচনে জয়ী হওয়ার মতো নেতাদের বাদ দিয়ে তারা মনোনয়ন দিয়েছিল টাকার বিনিময়ে। সকালে ১টা, দুপুরে ১টা, বিকেলে ১টা, ঠিক মনোনয়নের শেষ মুহূর্তে আরেকজন- এভাবে একই আসনে ৩ জন, ৪ জন, ৫ জন করে প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়া হয়। সেই বাণিজ্য নিয়ে তাদের অফিসের মধ্যে মারামারি, জামা ছেঁড়াছেঁড়ি, অফিসে ভাঙচুর- এতে মানুষ জানতে পেরেছে তাদের চরিত্রটা কী। এসব কারণে বাংলাদেশের জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। যে কয়টা আসনে তারা জিতেছে, গণতন্ত্রের স্বার্থে তারা যদি চায়, তাদের সংসদে আসা প্রয়োজন।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আমরা যখনই সরকারে এসেছি, দেশের মানুষের জন্য কাজ করেছি। জনগণের জন্য কাজ করেছি। আমরা কাউকে কোনো হয়রানি করতে যাইনি। তাদের কৃতকর্ম ও দুর্নীতির জন্য যেসব মামলা হয়েছে, সেগুলো তার আপন গতিতেই চলবে। কারণ বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন। আমরা তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা দেইনি। ক্ষমতায় এসে বিএনপি আমার বিরুদ্ধেই ১২টি মামলা দিয়েছে। তত্বাবধায়ক সরকার এসে আরো ৫টি মামলা দিয়েছে। এসব মামলা দিয়ে আমাকে শাস্তি দেয়ার চেষ্টা করেছিল। এরপর পদ্মা সেতু নিয়ে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের অভিযোগ। প্রত্যেকটি মামলা মোকাবেলা করেছি। সবগুলোর তদন্ত হয়েছে। এমনকি আন্তর্জাতিকভাবেই তদন্তে প্রমাণ হয়েছে, পদ্মা সেতুতে কোনোরকম দুর্নীতি হয়নি। যার ফলে জনগণের বিশ^াস-আস্থাটা আমাদের ওপর এসেছে। কারণ আমরা কাজ করি জনগণের কল্যাণে, জনগণের স্বার্থে। সেটা তারা উপলব্ধি করতে পারে।

গ্রামের মানুষ নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন করুক আওয়ামী লীগ তা চায় উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা চাই গ্রামের মানুষ উন্নত জীবন পাবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান ও কর্মসংস্থান পাবে। প্রতিটি ক্ষেত্রে যেন তাদের জীবনমান উন্নত হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা কর্মসূচি নিয়েছি।

বিএনপি-জামায়াতের অগ্নি সন্ত্রাসের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এটা দেশের মানুষ কখনো মেনে নিতে পারেনি। ২০১৪ সালে আবার আমরা সরকার গঠন করি। আমাদের সৌভাগ্য যে আমরা একটানা দশ বছর হাতে সময় পেয়েছিলাম, যার ফলে বাংলাদেশ সারা বিশে^ একটা উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

টানা তৃতীয় মেয়াদে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করায় দেশের সব স্তরের মানুষের সমর্থনের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ এবং ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এবারের নির্বাচনে সব থেকে লক্ষণীয় বিষয়, মানুষের মধ্যে একটা স্বতঃস্ফ‚র্ততা এবং ভোট দেয়ার আগ্রহ ছিল। বিশেষ করে এদেশের তরুণ সমাজ, যারা প্রথম ভোটার হয়েছে। এ ক্ষেত্রে নারী সমাজের কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হসিনা বলেন, এবারের নির্বাচনটা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে হলেও কিছু কিছু জায়গায় বিএনপি-জামায়াত জোট মিলে ব্যালট বাক্স ছিনতাই করতে গেছে। কোথাও তারা নির্বাচনকে বানচাল করার চেষ্টা করেছে। তাদের এই অপকর্মের কারণে বেশকিছু প্রাণহানি ঘটেছে, যার মধ্যে আমাদের দলীয় নেতাকর্মীরা অনেক আছেন। আমার কাছে সব ঘটনা লিপিবদ্ধ আছে। আপনারা মাঠে ঘাটে দেখেছেন, টেলিভিশনে দেখেছেন কীভাবে তারা প্রচেষ্টা চালিয়েছিল কোনোমতে নির্বাচনটা যেন বানচাল করা যায়। কিন্তু তারা তা পারেনি। এখন বিএনপি নির্বাচনে হেরেছে, এই দোষটা তারা কাকে দেবে? দোষ দিলে তাদের নিজেদের দিতে হয়। কারণ একটি রাজনৈতিক দলের যদি নেতৃত্ব না থাকে, মাথাই না থাকে তাহলে সেই রাজনৈতিক দল কীভাবে নির্বাচনে জয়ের কথা চিন্তা করতে পারে।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর কথা উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ৯৬ সালে যখন স্বাধীনতার ২৫ বছর পূর্তি অর্থাৎ রজতজয়ন্তী উদযাপন করি, তখন আমরা ক্ষমতায় ছিলাম। সে সময় সারা দেশে মুক্তিযুদ্ধের মশাল আমরা জ¦ালিয়েছি। সে সময় স্বাধীনতা দিবসে দক্ষিণ আফ্রিকার মহান নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা, প্যালেস্টাইনের প্রেসিডেন্ট ইয়াসির আরাফাত ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট সোলায়মানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। তারা এসেছিলেন। আমরা শিখা চিরন্তন স্থাপন করি। সেই উৎসবটা আমরা যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে উদযাপন করেছি। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীও আমরা ব্যাপকভাবে উদযাপন করতে পারব। আমি দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞ, তারা ভোট দিয়ে আমাদের সরকার গঠনের সুযোগ দিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দলকে তারা ক্ষমতায় এনে দেশসেবার সুযোগ দিয়েছে। আমরা স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তীটা সেভাবে উদযাপন করতে পারব।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj