চান্দিনার কৃষকদের সরিষা চাষে আগ্রহ বাড়ছে

রবিবার, ১৩ জানুয়ারি ২০১৯

রিপন আহমেদ ভুঁইয়া, চান্দিনা (কুমিল্লা) থেকে : চান্দিনায় সরিষা চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। সরিষা চাষ স্বল্প সময়ে উৎপাদনশীল একটি লাভজনক রবিশস্য ফসল হওয়ায় এ উপজেলায় দিনে দিনে সরিষা চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বৃদ্ধি পাচ্ছে কৃষকের সংখ্যা।

অতীতে এ উপজেলার কৃষকরা নিজেদের ব্যবহারের জন্য শুধু সরিষা চাষ করতেন। কিন্তু আমন ফসল ঘরে তোলার পর স্বল্প সময়ে এ চাষ একটি লাভজনক ফসল হওয়ায় এখন বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ শুরু করেছেন কৃষকরা। এ চাষের পাশাপাশি এখান থেকে উৎপাদন হচ্ছে প্রকৃতির বিশুদ্ধ মধু।

বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলের মাঠ সরিষার হলুদ ফুলে ভরে উঠেছে। সরিষার ওইসব হলুদ ফুলে ভরে ওঠা মাঠের দিকে তাকালে প্রাকৃতিক দৃশ্যই যেন হাতছানি দেয়, হলুদ ফুলে হারিয়ে যেতে।

প্রকৃতির হলুদ ফুলে মৌমাছিরা মনের আনন্দে যেমন মধু সংগ্রহের নেশায় ছুটে আসে সরিষা ক্ষেতে। তেমনি সরিষা চাষ লাভজনক হওয়ায় চাষিরাও মনের আনন্দে ঝুঁকে পড়েছেন সরিষা চাষে।

কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তর ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরিষা চাষে কৃষকদের প্রতি হেক্টর জমিতে উৎপাদন খরচ হয় ২০ হাজার টাকা। আর উৎপাদিত সরিষা বিক্রি হয় প্রায় ১ লাখ টাকা।

আমন ধান কাটার পর বোরো মৌসুমের আগেই সরিষা ৮০-৯০ দিনের মধ্যেই কৃষকরা অনায়াসে ঘরে তুলতে পারে এ ফসলটি। সরিষা ঘরে তোলার পর সরিষা আবাদকৃত জমি উর্বরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এসব জমিতে বোরো উৎপাদনও হয় বেশি।

উপজেলা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ বছর চান্দিনা উপজেলায় ৬০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। চান্দিনা উপজেলায় গত বছর সরিষার আবাদ হয়েছিল ২০ হেক্টর জমিতে। এবার আবাদ হয়েছে ৬০ হেক্টর জমিতে। এ উপজেলায় সরিষা চাষির সংখ্যা প্রায় ৫শ।

এ ব্যাপারে উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মো. মাজেদুল ইসলাম বলেন, এবার উপজেলায় সরিষার ক্ষেতে ১৯ জন মৌচাষি প্রাকৃতিক উপায়ে ১২ টন মধু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করে আসছেন। কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের উদ্যোগ ও পরামর্শে আগামীতে সরিষা আবাদের পরিমাণ আরো বৃদ্ধি পাবে।

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj