সংরক্ষিত আসনে এমপি হওয়ার দৌড়ে সিলেটের ১১ নেত্রী

রবিবার, ১৩ জানুয়ারি ২০১৯

ফারুক আহমদ, সিলেট ব্যুরো : সিলেট বিভাগ থেকে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত ২টি আসনে এমপি হতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন অন্তত ১১ জন নারী নেত্রী। এদের অনেকেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরাসরি ভোটযুদ্ধে অংশ নিতে দলের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন; কিন্তু চূড়ান্ত মনোনয়ন পাননি। তাই এবার সংরক্ষিত আসনের নারী এমপি হয়ে সংসদে যেতে মাঠে নেমেছেন। অন্যদিকে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যারা নারী এমপি ছিলেন তারা চাইছেন পদটি ধরে রাখতে। আর নতুনরা চাইছেন যোগ্যতাবলে নিজেদের জায়গা করে নিতে। তবে মন্ত্রিসভার মতোই সংরক্ষিত নারী আসনেও চমক থাকবে বলে জানিয়েছে দলের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র। এ ক্ষেত্রে অধিকতর তরুণ ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তিসম্পন্নদের প্রাধান্য দেয়া হতে পারে।

জানা যায়, সরাসরি নির্বাচিত ছয়জন এমপির বিপরীতে একটি নারী আসন পাওয়া যায়। তবে সিলেট বিভাগে ১৯টি আসন থাকলেও সংরক্ষিত নারী আসন মাত্র ২টি। এবার সিলেট বিভাগ থেকে সংরক্ষিত আসনে ৩ জন এমপি দেয়ার দাবি উঠেছে। যদিও বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে সংসদ নেত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ওপর।

সিলেট বিভাগ থেকে সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য হতে আলোচনায় রয়েছেন- সাবেক সাংসদ সৈয়দা জেবুন্নেছা হক, প্রয়াত সমাজকল্যাণমন্ত্রী সৈয়দ মহসীন আলীর স্ত্রী সাবেক সাংসদ সৈয়দা সায়রা মহসীন, বিদায়ী সংসদের সংরক্ষিত আসনের এমপি এডভোকেট শাহানা রব্বানী, এডভোকেট আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী, কেন্দ্রীয় মহিলা লীগ নেত্রী এডভোকেট মাহফুজা বেগম সাঈদা, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক নাজনীন হোসেন, সিলেট জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী রুবী ফাতেমা ইসলাম, মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসমা কামরান, সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মারিয়ান চৌধুরী মাম্মী, মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী ডা. নাজরা চৌধুরী ও কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় নেত্রী শামীমা শাহরিয়ার। এদের মধ্যে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সিলেট বিভাগ থেকে সংরক্ষিত নারী সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী (সিলেট-হবিগঞ্জ) ও শামসুন্নাহার বেগম শাহানা রব্বানী (সুনামগঞ্জ-মৌলভীবাজার)। এবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এরা দুজনই সরাসরি নির্বাচনের জন্য আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন চান। কেয়া চৌধুরী হবিগঞ্জ-১ ও শাহানা রব্বানী সুনামগঞ্জ-৪ আসন থেকে সরাসরি নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন চেয়ে না পেলেও সংরক্ষিত নারী সাংসদের সুযোগ যাতে হাতছাড়া না হয়, সে লক্ষ্যে জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন তারা।

এ ছাড়াও সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে ডা. নাজরা চৌধুরী হবিগঞ্জ-১, সায়রা মহসীন মৌলভীবাজার-৩ ও শামীমা শাহরিয়ার সুনামগঞ্জ-১ আসনে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কিন্তু তাদের কেউই আওয়ামী লীগের টিকেট পাননি। সাধারণ আসনে টিকেট না পেলেও সংরক্ষিত সাংসদ হয়ে যাতে সংসদে যাওয়া যায়, সে লক্ষ্যে তারাও আছেন লবিংয়ে। তবে দলের একটি সূত্র জানিয়েছে, গত মেয়াদে যারা সংরক্ষিত আসনে এমপি হয়েছিলেন তাদের বড় অংশই এবার বাদ পড়ছেন।

এদিকে তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা চাচ্ছেন, সিলেট জেলা থেকে নাজনীন হোসেন, আসমা কামরান অথবা রুবী ফাতেমা ইসলাম- এই তিনজনের মধ্যে থেকে একজনকে মনোনয়ন দেয়া হোক। এদের মধ্যে মনোনয়ন দৌড়ে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক নাজনীন হোসেন কিছুটা এগিয়ে রয়েছেন বলে জানিয়েছে একটি সূত্র। সিলেট সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি হিসেবে সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও নাজনীন হোসেনের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে বলে জানা গেছে।

সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ ভোরের কাগজকে বলেন, দেশব্যাপী সংরক্ষিত আসনের সদস্য বাছাই করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে।

যারা দুর্দিনে দলের সব কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন, স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যার সম্পর্ক ভালো এবং যিনি উন্নয়ন করতে পারবেন এমন কাউকেই মনোনয়ন দেয়া হতে পারে। তবে প্রধানমন্ত্রী এবার সংরক্ষিত আসনের সদস্য বাছাইয়ে নতুনদের অগ্রাধিকার দেবেন বলে তিনি মনে করেন।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj