বছরের প্রথমার্ধে রাজস্ব ঘাটতি হিলি স্থলবন্দরে

রবিবার, ১৩ জানুয়ারি ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে চলতি অর্থবছর (২০১৮-১৯) লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি রাজস্ব আহরণের মধ্য দিয়ে শুরু হলেও পরে আর সে ধারাবাহিকতা থাকেনি। প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর) ৬ মাসের মধ্যে ৪ মাসেই বন্দরে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আহরণে ঘাটতি দেখা গেছে। সবচেয়ে বেশি ঘাটতি ছিল নির্বাচনের মাস ডিসেম্বরে, ৩৯ কোটি ৫১ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে ২৮ কোটি ৫ লাখ টাকা ঘাটতির মধ্য দিয়েই শেষ হয়েছে অর্থবছরের প্রথমার্ধ।

জুলাই-ডিসেম্বর মেয়াদে হিলি স্থলবন্দর থেকে ১২২ কোটি ৮২ লাখ টাকা রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর)। বিপরীতে আহরণ হয়েছে ৯৪ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। ফলে রাজস্ব ঘাটতি রয়ে গেছে ২৮ কোটি ৫ লাখ টাকা।

হিলি স্থল শুল্কস্টেশন সূত্র অনুযায়ী, অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসের মধ্যে কেবল ২ মাসে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। প্রথম মাস জুলাইয়ে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ কোটি ৫ লাখ টাকা। বিপরীতে আহরণ হয় ২৫ কোটি ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। উদ্বৃত্ত থাকে ২০ কোটি ৯৮ লাখ টাকার বেশি। এ ছাড়া সেপ্টেম্বরে ৯ কোটি ৩৮ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব আসে ১৯ কোটি ৭১ লাখ টাকার। উদ্বৃত্তের পরিমাণ ১০ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।

২ মাসে ৩১ কোটি ৩১ লাখ টাকার বেশি উদ্বৃত্ত, তার পরও প্রথমার্ধ শেষে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আহরণে ঘাটতি থেকে গেছে। এর সবচেয়ে বড় কারণ ডিসেম্বরের ৩৯ কোটি ৫১ লাখ টাকার ঘাটতি, যা উল্লিখিত দুমাসের উদ্বৃত্তের চেয়েও বেশি। গত মাসে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। বিপরীতে আহরণ হয়েছে মাত্র ১০ কোটি ১৩ লাখ টাকা।

এ ছাড়া আগস্টে ১৭ কোটি ১০ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ১৫ কোটি ২১ লাখ, অক্টোবরে ১৬ কোটি ১৬ লাখ টাকার বিপরীতে ১০ কোটি ও নভেম্বরে ২৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকার বিপরীতে ১৪ কোটি ৬৯ লাখ ৯৪ হাজার টাকার রাজস্ব আহরণ হয়। এ ৩ মাসে ঘাটতির পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ১ কোটি ৮৯ লাখ, ৬ কোটি ১৬ লাখ ও ১১ কোটি ৭৯ লাখ ৬ হাজার টাকা।

এ ব্যাপারে হিলি স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশীদ সংবাদমাধ্যমকে জানান, বেশ কিছু জটিলতার কারণে বন্দর থেকে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হচ্ছে না। বিশেষ করে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বাণিজ্যিক পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে এ জটিলতা একটু বেশি। স্থানীয় কাস্টমস কর্মকর্তারা হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বাণিজ্যিক পণ্য আমদানি করতে ব্যবসায়ীদের নিরুৎসাহিত করেন।

হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুল হালিম জানান, হিলি স্থলবন্দর মূলত আমদানিনির্ভর বন্দর হিসেবে পরিচিত। বন্দর দিয়ে আমদানির পরিমাণ কিছুটা কমে যাওয়ায় রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হচ্ছে না। বিশেষ করে চাল আমদানিতে শুল্কহার বাড়ানোর পর পণ্যটির আমদানি একেবারে শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। এ ছাড়া ফারাক্কা ব্রিজের চলমান সংস্কার কাজের পাথর আমদানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ডিসেম্বরে রাজস্ব আহরণে সবচেয়ে বেশি ঘাটতি ছিল, কারণ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে গত মাসে আমদানি-রপ্তানির পরিমাণ ছিল কম।

অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj