চান্দিনার স্কুলগুলোতে অতিরিক্ত ফি

রবিবার, ১৩ জানুয়ারি ২০১৯

রিপন আহমেদ ভূঁইয়া, চান্দিনা (কুমিল্লা) থেকে : কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার অধিকাংশ স্কুলে তৃতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়া শিক্ষার্থীদের নতুন বই পেতে অভিভাবকদের গুনতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। উপজেলার বিদ্যালয়গুলোতে ৫শ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত নেয়া হচ্ছে পাস করে নতুন ক্লাসে উঠতে। তাই এসব স্কুল পড়–য়া শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা বছরের শুরুতেই টাকা সংগ্রহ করতে হিমশিম খাচ্ছেন।

অভিভাবকরা জানান, সরকারি স্কুলগুলোতে ভর্তিযুদ্ধে টেকা সবার পক্ষে সম্ভব হয় না। তাই বাধ্য হয়ে সন্তানকে এসব স্কুলে ভর্তি করাতে হয়। সরকার এসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে বিতরণের বই দিচ্ছে। কিন্তু বিদ্যালয়ের নির্ধারিত রসিদে টাকা জমা না দেয়া পর্যন্ত একজন শিক্ষার্থীর হাতে সেগুলো দেয়া হচ্ছে না।

সরেজমিন এসব বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, বেতন আদায়ের রসিদে ২৭ রকমের খাত দেখিয়ে ৫শ থেকে ২ হাজার টাকা লিখে অভিভাবকদের হাতে ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে তা জমা দেয়ার জন্য। কেউ কেউ ধারদেনা করে টাকা জমা দিয়ে ভর্তি করাতে পারলেও বেশির ভাগই এসব ফি থেকে অব্যাহতি পাওয়া কিংবা কিছুটা কমানোর জন্য ধরনা দিচ্ছেন দ্বারে দ্বারে। বিদ্যালয়গুলো সুচতুরভাবে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি করে উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা কিংবা এমন প্রভাবশালী রাজনীতিকদের কাছে টাকা কমানোর সুপারিশ করতে যাওয়া সাধারণ অভিভাবকদের কাছে কল্পনারও অতীত। অনেক অভিভাবক কিছুটা ফি কমানোর জন্য প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে দেখা করতে গেলে তারা সাক্ষাৎও দেন না। এক হিসেবে দেখা গেছে, এসব স্কুলের এক একটিতে ৮শ থেকে ১ হাজার ২শ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। নতুন ক্লাসে ওঠার সময় এদের সবার কাছ থেকে গলাকাটা ফি নিয়ে আদায় করা হয় লাখ লাখ টাকা। কোনো কোনো স্কুলে এই আদায়ের পরিমাণ অর্ধকোটি ছাড়িয়ে যায়। অথচ এই টাকা খরচের হিসাব সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক ছাড়া আর কেউ জানেন না। ব্যাংক থেকে এই দুজনের যৌথ স্বাক্ষরে এই টাকা তোলা হয়, যার খরচের খাত অন্যরা জানতে পারে না। অভিভাবকদের অভিযোগ, প্রভাবশালী কাউকে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি করা হয় সহজে গলাকাটা ফি আদায়ের জন্য। পরে এসব টাকা তুলে ভুয়া ভাউচারে খরচ দেখানো হয়। এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক প্রতিবাদ করলে তাদের চাকরি হুমকির মুখে পড়ে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, উপজেলার বিদ্যালয়গুলোতে ম্যানেজিং কমিটিতে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা রয়েছেন। শিক্ষা বোর্ড থেকে বারবার এসব স্কুলে ন্যায্য ফি নেয়ার জন্য বলা হয়েছে। গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের প্রতিও বিশেষ খেয়াল রাখতে বলা হয়েছে। তবুও তারা শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা মানছেন না। নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে কয়েকজন অভিভাবক বলেন, শিশুরা পাস করার পর স্কুলগুলো যা করছে তা তাদের শিক্ষাজীবনকে ‘জিম্মি’ করে টাকা আদায় ছাড়া আর কিছু নয়। সরকারি স্কুলে সবাই ভর্তি হতে পারে না। আর এসব স্কুলে ভর্তি করে অভিভাবকদের বেতন দেয়ার সক্ষমতা থাকলেও বছরের প্রথমে এই গলাকাটা ফির রসিদ ধরিয়ে দেয়ার অনৈতিক চর্চা বন্ধ করতে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ করা উচিত।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj