সুপার ওভারে জিতল চিটাগং : হারের বৃত্তে খুলনা

রবিবার, ১৩ জানুয়ারি ২০১৯

খেলা প্রতিবেদক : শেষ ওভারে জয়ের জন্য চিটাগং ভাইকিংসের প্রয়োজন ছিল ১৯ রান। ক্রিজে ছিলেন নাইম হাসান ও সানজামুল ইসলাম। এমন পরিস্থিতিতে খুলনা টাইটান্সের অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ বল তুলে দেন আরিফুল হকের সামনে। শেষ ওভারের প্রথম বলটিতে রান নিতে ব্যর্থ হওয়া নাইম পরের বলেই ছক্কা হাঁকালে জমে ওঠে লড়াই। তবে তৃতীয় বলেই ক্যাচ আউট হন তিনি। রান নিতে গিয়ে প্রান্ত বদল করায় স্ট্রাইকিং চলে আসে ছন্দে থাকা রোবি ফ্রিলিঙ্কের হাতে। আরিফুলের করা শেষ ওভারের চতুর্থ ও পঞ্চম বলে ছক্কা হাঁকান তিনি। ফলে জয়ের জন্য শেষ বলে চিটাগংয়ের প্রয়োজন দাঁড়ায় মাত্র ১ রান। ওই বলে ফ্রিলিঙ্ক রান আউট হলে ম্যাচ হয়ে যায় টাই। ওয়ানডে হলে ম্যাচটি সেখানেই শেষ হয়ে যেত। কিন্তু টি-টোয়েন্টির নিয়ম অনুযায়ী জয়ী দল নির্ধারণের জন্য ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে।

সুপার ওভারে জুনাইদের হাতে বল তুলে দেন খুলনার অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। জুনাইদের ওভার থেকে ১১ রান তুলে মুশফিকের দল। অপরদিকে ৬ বলে ১২ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ফ্রিলিঙ্কের ওভার থেকে ১০ রান তুলে খুলনা। ফলে ১ রানের জয় পায় চিটাগং ভাইকিংস। পরতে পরতে রোমাঞ্চ ছড়ানো এ ম্যাচে ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত পারফরমেন্সের জন্য ম্যাচসেরা হয়েছেন রোবি ফ্রিলিঙ্ক। এ নিয়ে বিপিএলের এবারের আসরে নিজেদের প্রথম ৪ ম্যাচের সবকটিতেই হারের স্বাদ পেল খুলনা।

মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গতকাল দিনের প্রথম ম্যাচে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নামে খুলনা টাইটান্স। উদ্বোধনী জুটিতে দলের স্কোরে ৩১ রান যোগ করে আউট হন মারকুটে আইরিশ ব্যাটসম্যান পল স্টার্লিং। তার ব্যাট থেকে আসে ১০ বলে ১৮ রান। স্টার্লিংয়ের বিদায়ের পর দলের স্কোরে আর মাত্র ১০ রান যোগ হতেই সাজঘরে ফেরেন জুনায়েদ সিদ্দিকী। জুনাইদ করেন ২০ রান। তৃতীয় উইকেটে ৭৭ রানের জুটি গড়ে দলকে বড় স্কোর সংগ্রহের ভিত তৈরি করে দেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও দাউয়িদ মালান। মাহমুদউল্লাহ আউট হন ৩৩ রানে। এ ছাড়া দলীয় সর্বোচ্চ ৪৫ রান আসে মালানের ব্যাট থেকে। শেষ দিকে কার্লোস ব্র্যাথওয়েটের ৫ বলে ১২ ও আরিফুল হকের ৮ বলে অপরাজিত ৯ রানের ওপর ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৫১ রানের লড়াকু স্কোর সংগ্রহ করে খুলনা টাইটান্স। চিটাগং ভাইকিংসের পক্ষে সানজামুল ইসলাম ২টি উইকেট নেন।

জবাব দিতে নেমে শুরুতেই মোহাম্মদ শেহজাদের উইকেট হারায় চিটাগং। আফগান এই ক্রিকেটারের ব্যাট থেকে আসে ১০ রান। এরপর ক্যামেরুন ডেলফোর্টের ১৭, ইয়াসির আলীর ৪১ ও মুশফিকের ৩৪ রানের ওপর ভর করে একপর্যায়ে জয়ের সম্ভাবনা তৈরি করে চিটাগং। দলীয় ১২১ রানে ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে মুশফিক বিদায় নিয়ে শেষ ১৬ বলে জয়ের জন্য তাদের প্রয়োজন দাঁড়ায় ৩১ রান। তবে ১৮ ও ১৯তম ওভারে খুলনার দুই বোলার ব্র্যাথওয়েট ও জুনাইদ খান। শেষ ওভারে জয় পেতে ১৯ রান দরকার ছিল মুশফিকের দলের। আরিফুলের করা ওভারটিতে ১৮ রান তুলতে সমর্থ হয় চিটাগং। ফলে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে দুদলের স্কোরই সমান (১৫১ রান) হয়ে যায়। যে কারণে ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে।

খেলা-ধূলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj