গ্যাস সংকটের স্থায়ী সমাধান করুন

রবিবার, ১৩ জানুয়ারি ২০১৯

গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে গ্যাস সংকটের কথা বারবার উঠে আসছে। গ্যাস সংকটের প্রত্যক্ষ শিকার রাজধানীর গৃহিণীরা। রান্না করতে গিয়ে তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যয় হচ্ছে। অধিকাংশ আবাসিক এলাকায় চুলা জ্বলছে টিমটিম করে। আবার এমন অনেক এলাকায় চুলা জ্বলছে না বললেই চলে। বিশেষ করে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এই প্রকট পরিস্থিতি থাকছে। রাজধানীর কল্যাণপুর, কলাবাগান, পল্লবী, মোহাম্মদপুর, গাবতলী, শঙ্কর, রায়েরবাজার, খিলগাঁও, রামপুরা, বনশ্রী, নয়াপল্টন, দক্ষিণখান, কামরাঙ্গীরচর ও দনিয়ায় গৃহস্থালির গ্যাসের তীব্র সংকট বিদ্যমান। রাজধানীতে গৃহস্থালি পর্যায়ে গ্যাসের চাহিদা প্রতি বছরই ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিতাস গ্যাস কোম্পানি সমস্যার বিষয়ে বলছে, এক হাজার ৮০০ থেকে প্রায় দুই হাজার মিলিয়ন ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে পেট্রোবাংলা থেকে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। চাহিদা ও জোগানের পার্থক্যই সমস্যার প্রকটতা বলে দেয়। রাজধানী এবং আশপাশের এলাকায় তিতাসের প্রায় ১৭ লাখ গ্রাহকের মধ্যে আবাসিক গ্রাহক সাড়ে ১৫ লাখ। এর মধ্যে রাজধানীতে তিতাসের গ্রাহক রয়েছেন ৪ লক্ষাধিক। রাজধানীর এসব গ্রাহকের চাহিদা ১ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট। বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে ১৫০০ ঘনফুট গ্যাস। পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা বলছেন, ঘরে ঘরে রান্নার চুলা এবং সিএনজি স্টেশনে যানবাহনে গ্যাসের চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে গ্যাসের সরবরাহ কমিয়ে দিতে হবে।

অন্যদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস সরবরাহ সংকুচিত করা হলে, বিদ্যুৎ উৎপাদন কমবে, ফলে লোডশেডিং বাড়বে। এ সমস্যা দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। গৃহস্থালির চাহিদা পূরণে সিলিন্ডার গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো এবং দাম সহনশীল রাখার জন্য সর্বাত্মক পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে সরকারি সিদ্ধান্ত হয়েছিল বহুদিন আগেই। কিন্তু সিদ্ধান্ত অনুয়ায়ী কাজ হয়নি। একে তো গ্যাসের অভাব, তার ওপর অবৈধ গ্যাস সংযোগ সংকট বাড়াচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোকজন নাকি স্থানীয় প্রভাবশালীদের অবৈধ গ্যাস সংযোগ নেয়ার ক্ষেত্রে সহায়তা করছে; এমনকি তিতাসের লোকজন এ অবৈধ সংযোগ প্রদানের সঙ্গে জড়িত। যত্রতত্র অবৈধ সংযোগের কারণে সরবরাহ লাইন ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া শীতে সরবরাহ লাইনে গ্যাসের উপজাত জমেও গ্যাস সরবরাহ সংকুচিত করে ফেলছে, যা পরিষ্কারের কোনো ব্যবস্থা নাকি দেশে নেই। শীতে এমনিতেই গ্যাসের চাহিদা বেড়ে যায়, তার ওপর অবৈধ সংযোগ ও সঞ্চালন ও সরবরাহে বিঘ্ন থাকলে পরিস্থিতি নাজুক না হয়ে পারে না। বর্তমান সংকট সমাধানে গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। এ ব্যাপারে দীর্ঘমেয়াদে পরিকল্পনার বাস্তবায়ন দরকার। তবে জনজীবন স্বাভাবিক রাখতে কিছু ব্যবস্থা জরুরিভিত্তিতেই নিতে হবে। রেশনিং করে হলেও গৃহস্থালিতে গ্যাস সরবরাহ অবারিত রাখতে হবে। রান্নাবান্নার জন্য সুলভ দামে সিলিন্ডার গ্যাস প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে। অবৈধ গ্যাস সংযোগ এবং সঞ্চালন ও সরবরাহজনিত অপচয় বন্ধ করতে হবে।

সম্পাদকীয়'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj