আওয়ামী লীগ নয় জিতবে শেখ হাসিনা

শুক্রবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০১৮

বাংলাদেশ এক সময় তলাবিহীন ঝুড়ি ছিল, সেই তলাবিহীন ঝুড়ি এখন উন্নয়নের রোল মডেল হয়ে পৃথিবীর মানুষের সামনে আবির্ভূত হয়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন বিশ্বের মধ্যে দ্বিতীয় সেরা নারী প্রধানমন্ত্রী, অনেকগুলো সূচকেই বাংলাদেশ শীর্ষস্থান দখল করে দৃষ্টি কেড়েছে এশিয়া তথা বিশ্ববাসীর। এত এত অর্জন আছে যে দলের জাদুর ঝুলিতে সেই দল ক্ষমতায় না আসা চরম দুর্ভাগ্যের কারণ হবে দেশের জন্য। দেশের মানুষ বিশেষ করে শিক্ষিত ও রাজনীতি সচেতন মানুষ বুঝতে শিখেছে, শেখ হাসিনা ছাড়া উন্নত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয় আর এ কারণেই দেশবাসী তাদের নিজের প্রয়োজনে শেখ হাসিনাকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করে দেশ শাসনের সম্মান প্রদর্শন করবে। বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘদিন একটা ভুল ইতিহাসের পাঠক ছিল। অসংখ্য ভুল দলের সমর্থক ছিল। ভুল দলের ¯েøাগান আর ভুল ইতিহাসের তথ্য মুখস্থ করে করে এরা যখন ক্লান্ত, শ্রান্ত- তখনই এদের সামনে শান্তি ও সমৃদ্ধির আশীর্বাদ নিয়ে আবির্ভূত হয়েছেন শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনাই এখন বাংলাদেশের ভরসা। তিনিই এখন তার দল ও ষোলো কোটি মানুষের ত্রাতা। শেখ হাসিনা এখন এমন একটি জায়গায় অবস্থান করছেন যে জায়গায় বঙ্গবন্ধু ছাড়া আর কাউকে তার পাশে দাঁড় করানো যায় না। বাংলাদেশের মানুষের দুর্ভাগ্য যে, তারা শুধু দলীয় প্রধানদের রাজনীতি দেখেছেন, কখনো কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের রাজনীতি প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পাননি। এবারই প্রথম বাংলাদেশের মানুষ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দলীয় প্রধান নয়, সত্যিকারের রাজনীতিবিদের রাজনীতি অবলোকন করছেন। প্রত্যক্ষ করছেন সৎ, সাহসী, সিদ্ধান্ত গ্রহণে পারঙ্গম রাষ্ট্রনায়কের কর্মদক্ষতা। জনগণ এতদিন এটাই প্রত্যাশা করেছিলেন। জনগণের প্রত্যাশা শেখ হাসিনার মাধ্যমে পূরণ হয়েছে বলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে- দেশের সহজ-সরল-উন্নয়নকামী মানুষ শেখ হাসিনাকেই পুনরায় নির্বাচিত করবেন।

এবারের নির্বাচনে দেশের বিভিন্ন জায়গায়ই সংঘাতের খবর শোনা যাচ্ছে। এই সংঘাত কেন হচ্ছে সেটাও একটু বুঝে নেয়া দরকার। এই সংঘাতের মূল কারণ উন্নয়ন। সাধারণ মানুষ উন্নয়নকামী নেতার পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন বলেই উন্নয়নবিমুখ গুটি কয়েক দেশদ্রোহীর সঙ্গে সংঘাত করছেন। তাদের সুপথে আনার জন্য অভিভাবকসুলভ শাসন করছেন। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, দেশের অগ্রগতিতে কেউ বাধা হয়ে দাঁড়াক এটা সাধারণ মানুষ চায় না বলেই সংঘাতের দিকে পা বাড়াচ্ছে। এটাকে ‘সংঘাত’ না বলে উন্নয়নের স্বার্থে ‘জনতার ঐক্য’ বলাই সমীচীন। গ্রামের একজন সাধারণ মানুষও এখন সত্য-মিথ্যার প্রভেদ বুঝতে পারছে। অন্ধ আবেগ নয়, চিন্তার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতেই আজ সবাই উদগ্রীব। যে ভোটার চিন্তা করে ভোট দেবেন তার ভোট কখনোই শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যেতে পারে না। আর যদি যায়, তাহলে বুঝতে হবে এখনো এ দেশের বুকে আঁধার জমে আছে, এখনো এ দেশে বাস করছে কিছু দেশদ্রোহী দুশমন। এই দুশমনরা কখনোই বাংলাদেশের মঙ্গল চায়নি, তারা বাংলাদেশকে চিরদিন হতদরিদ্র আর জঙ্গিবাদী রাষ্ট্র হিসেবেই দেখতে চেয়েছে। এদের পতন অনেক আগে থেকেই শুরু হয়েছে। এবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের চূড়ান্ত পরাজয় হবে বলেই আশা করা যেতে পারে। ৩১ ডিসেম্বর বাংলাদেশে নতুন সূর্যোদয় হবে। সেই নব সূর্যের আলো আমাদের সবার জন্য শান্তি, সংহতি আর কল্যাণ নিয়ে আসুক সেই প্রত্যাশায় বুক বেঁধে আছে বাংলাদেশের কৌত‚হলী মানুষ। মানুষের আকাক্সক্ষা পরিপূর্ণ হোক। মঙ্গলময় নব কিরণে অভিষিক্ত হোন জননেত্রী শেখ হাসিনা।

সৈয়দ জাহিদ হাসান : কবি ও লেখক।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj