কার্টুনিস্ট মোর্শেদ মিশুর হ্যাপিনেস

রবিবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০১৮

নাজমুল হক ইমন

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে হঠাৎ বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা নিজ থেকেই একটি কার্টুন শেয়ার শুরু করে। কয়েকদিনের মধ্যে কার্টুনটি ভাইরালে পরিণত হয়। মানুষের বাহবা সঙ্গে প্রশংসাও পেতে শুরু করে। এ ধরনের কনসেপ্ট কার্টুন এর আগে হয়নি বা সব ধরনের মানুষের নজর কাড়েনি। কার্টুনিস্ট মোর্শেদ মিশুর ‘গ্লোবাল হ্যাপিনেস চ্যালেঞ্জ’ মুখে মুখে চলে আসে সামাজিক গণমাধ্যম ব্যবহারকারীদের কাছে।

যুদ্ধ-বিগ্রহ, সংঘাতে আহত ও নিহত মানুষদের নির্মমতার ছবি নাড়িয়ে তোলে কার্টুনিস্ট মোর্শেদ মিশুকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভেসে বেড়ানো ছবিগুলো এড়িয়ে যেতেন বারবার। সেখান থেকেই ভিন্ন দৃষ্টি নিয়ে ছবিগুলো দেখতে চাইলেন মিশু।

যুদ্ধাক্রান্ত নির্দোষ মানুষেরা যদি সংঘাতের মুখোমুখি না হতেন, কেমন হতে পারত সে ছবিগুলো? সেখান থেকেই ‘গ্লোবাল হ্যাপিনেস চ্যালেঞ্জ’ সিরিজটি আঁকতে শুরু করেন তরুণ এই কার্টুনিস্ট।

সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। দ্রুত বিশ্ব মিডিয়ার নজর কাড়ে কার্টুনিস্ট মোর্শেদ মিশু।

ভারত, ইরান, ভিয়েতনাম, তুরস্ক, ইরাক, চীন, আফগানিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, গ্রিস, সাইপ্রাস, ইতালি, আলবেনিয়া, ফ্রান্স, থাইল্যান্ডসহ বিশ্বের ২২টি দেশের মিডিয়ায় প্রচার হয় মিশুর এই সিরিজ কার্টুন।

কষ্টের ছবিকে হ্যাপিনেসের রূপ দেয়া সম্পর্কে মোর্শেদ মিশু বলেন, হ্যাপিনেস এঁকে তো আর কষ্ট ঢাকা যায় না। বরঞ্চ আঁকা ছবিগুলো মানুষের কষ্ট আরো বাড়িয়ে দেয়। এরপরও সবার দৃষ্টিভঙ্গিটা পাল্টানো জরুরি। এতসব কষ্টের মধ্য থেকে সুখ বের করে আনার চেষ্টাই একদিন গ্লোবাল হ্যাপিনেস তৈরি করবে।

মিশু আরো বলেন, আমার আঁকা শুরুতে খুব একটা ভালো হতো না। ২০১২ সালে আমার আঁকাআঁকির মোড় ঘুরে যায়। কারণ সে বছর পরিচয় হয় দেশ সেরা কার্টুনিস্ট ও উন্মাদ পত্রিকার সম্পাদক আহসান হাবিবের সঙ্গে। এরপর উন্মাদের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ি।

কার্টুনিস্ট মোর্শেদ মিশু বিভিন্ন পত্রিকার জন্য এঁকেছেন, করেছেন বইয়ের প্রচ্ছদ। তার আঁকা কার্টুন প্রদর্শিত হয়েছে দেশ ছাপিয়ে বিদেশেও। এসবের মাঝে বেশ কিছুদিন এজেন্সিতে চাকরিও করেছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন কোম্পানির নানা ধরনের কাজও করেন।

চলতি বছর উন্মাদের ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে তার কার্টুন প্রদর্শিত হয় এবং সেখানে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। কার্টুন সিরিজটি উন্মাদ উৎসবে জিতে ‘উন্মাদ কার্টুন উৎসব’-এর প্রথম পুরস্কার।

ক্যারিয়ার নিয়ে মিশু বলেন, টাকা আমাকে ওভাবে টানে না। আমি আমার মন থেকে কার্টুন আঁকি। এটা সত্যি কথা কার্টুন এঁকে খুব বেশি টাকা পাওয়া যায় না। তবে বেঁচে থাকা এবং সামাজিকভাবে চলার মতো অর্থ উপার্জন করা যায়। আমি আত্মতৃপ্তি পাই। কার্টুনেই আমার সুখ। তবে এখন বিভিন্ন এজেন্সি হয়েছে বিভিন্ন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি হয়েছে সেখানে কার্টুনের কাজ করার অনেক সুযোগ আছে; আমি মনে করি কার্টুনিস্ট হিসাবে ক্যারিয়ার আগের চেয়ে এখন সহজ।

তবে মিশুর বিশ্বাস কার্টুন প্রতিবাদের অনেক গুরুত্বপ‚র্ণ একটি ভাষা। এই ভাষার সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো এটি সার্বজনীন। সমগ্র বিশ্বের সব ভাষাভাষী মানুষই এর ভাষা বুঝতে পারে। আর এ কারণেই কার্টুন হয়ে উঠতে পারে বৈশ্বিক পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার।

গ্লোবাল হ্যাপিনেস চ্যালেঞ্জ

সিরিজ এই কার্টুনের কনসেপ্ট ‘আমি শুধু আঁকতে জানি, কষ্টগুলো ঢাকতে জানি।’ ছড়াকার অনিক খানের মাথা থেকে আসে এই ছন্দ। আমার কাছে কার্টুনের সব কিছু শুনেই আমাকে লাইন দুটো দেন। সিরিজের সব কার্টুনের যাবতীয় ক্যাপশন দুই লাইনের কথাতেই পূর্ণতা পাচ্ছে। পৃথিবীর নানা প্রান্তে যুদ্ধ লেগে আছে। সে যুদ্ধে ক্ষতির সম্মুখীন অসংখ্য মানুষ। ক্ষতিগ্রস্ত, দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের হাজারো ছবি সামনে আসে। সেখান থেকেই যুদ্ধের ছবিকে হ্যাপিনেসে রূপ দিয়েছে কার্টুনিস্ট মোর্শেদ মিশু। গ্লোবাল হ্যাপিনেস চ্যালেঞ্জ সিরিজের ৯টি কার্টুন এখন পর্যন্ত প্রকাশিত হয়েছে। চলতি বছর ৩০টি হ্যাপিনেস কার্টুন নিয়ে একক প্রদর্শনী করার ইচ্ছা আছে মিশুর।

ফ্যাশন (ট্যাবলয়েড)'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj