বিজয়ের মাসে নতুন বিজয় বার্তা শুনতে পাচ্ছি

রবিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮

কামাল লোহানী

আজ বিজয় দিবস। আটচল্লিশতম বিজয় দিন উদযাপন করছে গোটা জাতি। তবে বাদ যাবে কতিপয় মুক্তিযুদ্ধবিরোধী মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক অপশক্তি, যারা একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে মানুষ হত্যা করেছে, বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে গেছে- সেই সব যুদ্ধাপরাধী জামায়াত-শিবির, আলবদর, আলশামস, শাহীন ফৌজ আর ওদের দোসর রাজাকার বাহিনী। এরা বাদ যাবে। ওরা মুখে যত যাই বলুক না কেন বাংলাদেশের অভ্যুদয় মেনে নিতে পারেনি। নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা ও আদর্শকে রূপায়ণের গোপন কৌশল জারি রেখে এই দেশেই রাজনীতি করে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন ওদের নিবন্ধন বাতিল করেছে আর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অপরাধী হিং¯্র দল হিসেবে চিহ্নিত করেছে বারবার। তা সত্ত্বেও সরকার তাদের দল জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেনি। ফলে ওরা তাদের হিং¯্র মনুষ্যত্ববিরোধী নিষ্ঠুর ধর্মান্ধ নীতি অব্যাহত রেখেই নানা দলে অনুপ্রবেশ করে নিজেদের জায়গা করে নির্বাচনেও অংশগ্রহণ করার মতন সাহস দেখাচ্ছে। বিএনপি তো ২৫ জনকে ধানের শীষে আশ্রয় দিয়ে তাদের নির্বাচন করাচ্ছে আর শুনছি ২২ জন স্বতন্ত্র দাঁড়িয়েছে এবং বিএনপি জোট তাদের সমর্থক জোগাচ্ছে। এভাবেই জেনে শুনে বিষ পান করার মতো রাজনীতি করে যাচ্ছে ওরা। বিজয়ের মাস যেখানে ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানের তথাকথিত দুর্ধর্ষ সেনাবাহিনীর ৯৬ হাজার জওয়ান, অফিসার মিত্রবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে প্রাণে বেঁচে ভারতের সহযোগিতায় পাকিস্তান চলে গিয়েছিল। ওদের বিচার দেশে হবে বলে কথা দিয়েছিল। কিন্তু আজ পর্যন্ত বিচারতো করেইনি বরং তারা আজকাল বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে জামায়াত নেতাদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি দেয়ায় পাকিস্তান সরকারের সাথে বাংলাদেশের কুৎসিত সমালোচনা করেই চলেছে। বাংলাদেশের যে হাই কমিশনার আছেন তাকে ডেকে ভর্ৎসনা করে প্রতিবাদ জানিয়েছে মাত্র। পাকিস্তান দূতাবাস বহাল তবিয়তে ঢাকায় আজও অবস্থান করছে। যারা আমাদের সার্বভৌমত্ব নিয়ে নিষ্ঠুর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছে, তাদের সকল অপরাধই আমরা মেনে নিয়েছি। না হলে জামাতে ইসলামী কি করে মুক্তিযুদ্ধোত্তর বাংলাদেশে সক্রিয় রয়েছে, ওদের নির্মূল করার কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারিনি, বরং তারা দেদার মানুষ হত্যা করছে। জঙ্গি সন্ত্রাসবাদ কেবল জিইয়েই রাখেনি তারা নানা জঙ্গি গোষ্ঠী সৃষ্টি করে তাদের অর্থায়নেরও ব্যাপক ব্যবস্থা করে দিয়েছে এবং এখনো দিচ্ছে। আমরা আজো কঠোর কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে তাদের কার্যক্রমকে বন্ধ করতে পারিনি। কেবল নিষিদ্ধ করলেই চলবে না। যারা যুদ্ধাপরাধী, তাদের অনুসারী ও সমর্থক, তাদের অবাধে রাজনীতি করতে সুযোগ দিয়েছি এই মুক্তিযুদ্ধোত্তর বাংলাদেশে।

পৃথিবীর কোনো মুক্তিকামী দেশে মুক্তিসংগ্রামের শেষে বিরোধী কট্টরপন্থিদের নিশ্চিহ্ন করা হয়েছে। কিন্তু আমরা সেই কাজটি করতে পারিনি। তাই আজো এমন নৃশংস অপশক্তির তৎপরতাকে হজম করে যাচ্ছি। তাই বলছিলাম এবারের বিজয় দিবসে আর তার পরপরই ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ওরা কিন্তু কোমর বেঁধে নেমেছে মুক্তিযুদ্ধকে আবার পরাজিত করার মতলব নিয়ে। জানি, হাজার কসরত করলেও তারা তাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে না। তবু একটি কথা বলি, জামায়াতসহ যুদ্ধাপরাধী ক্রিমিনালগুলো যারা রাজনীতির লেবাসে জনগণের মধ্যে ঢুকে জনমনকে বিষাক্ত করে তুলছে ধর্মান্ধতার কথা বলে, তাদের শায়েস্তা করতে আজো পারিনি বলে ওরা নিজেরা তড়পাচ্ছে না, ঢুকছে অন্য দলে। এখানে কিন্তু আমাদের দৃষ্টি রাখতে হবে অত্যন্ত তীক্ষè নজরদারিতে যেন ওরা নির্বাচিত হতে না পারে। শুধু কি তাই, ওরাতো জনগণের সহানুভূতি পাওয়ার জন্য যুদ্ধাপরাধীদের সন্তান-স্বজনদের দাঁড় করিয়ে দিয়েছে নির্বাচনে। আমাদের খেয়াল রাখতে হবে, যেন এরা কেউ জিততে না পারে। কারণ মনে রাখবেন, এরাই কিন্তু একাত্তরে হন্তারক ও দোসর-ঘাতক হিসেবে কাজ করেছে। জঙ্গিবাদী তৎপরতা আঘাত হানার আগেই নিরাপত্তা বাহিনী ওদের ধরে ফেলছে। এটা অভিনন্দনযোগ্য সফলতা। কিন্তু ওরা যে বিষাক্ত বাতাস ছড়িয়ে দিয়ে দেশ ও জনগণকে বিপথে নিয়ে যাওয়ার কৌশল গ্রহণ করেছে। তাই দেশের মানুষ ওদের বিরুদ্ধে থেকেও ওদের ঠেকাতে পারছে না। আমার ধারণা, সরকারের উচিত জনগণকে সম্পৃক্ত করে পাড়ায় মহল্লায় ‘প্রতিরোধ কমিটি’ গঠন করা, যাতে তারা গোপনে কোথাও আশ্রয় নিতে না পারে। এতো গেল জামায়াত তথা যুদ্ধাপরাধীদের সম্পর্কে সতর্কবাণী। সরকার যদি এদিকে নিশ্চিন্তে ছাড় দিতে যায়, তবে ওরাও বেড়ে উঠবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে দেশকে সরিয়ে নিতে চেষ্টা করবে।

এতো গেল জামাতের তৎপরতা আর বিএনপির কৌশলী সহযোগিতার কথা। কিন্তু এবারের নির্বাচনে অদ্ভুত এক ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সে হলো প্রখ্যাত আইনজ্ঞ তবে তাঁর রাজনীতি নিয়ে সকলেরই যে ‘বিদেশি সম্পৃক্ততা’র ভীতি সেই ড. কামাল হোসেন এবারের নির্বাচনের প্রাক্কালে রব, মান্না আর বি. চৌধুরীর সাথে বৈঠক করে ‘প্রারম্ভে লঘু ক্রিয়া’ ফলাফলে একটু নিষ্ক্রিয় থাকলেন কিছুদিন। তারপর ওরা সবাই মিলে ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’ গঠন করলেন তবে কে নেতৃত্বে থাকবে কামাল হোসেন না বি. চৌধুরী এই দ্ব›েদ্ব বেশ কিছুদিন কেটে গেল। এই ঐক্যে ফাটলও ধরল। বি. চৌধুরী বেরিয়ে এসে ‘আওয়ামী ঘরানার’ সাথে হাত মেলালেন। কিন্তু তাতে কি যায় আসে? তবু বৈঠক, আলাপ চলল। আর অন্যদিকে ড. কামাল হোসেনরা, যাদের রাজনীতিতে মূল্যমান ০+০+০=০। কারণ এরা কেউ তেমন তৎপরতা দেখাতে পারেনি। তাই জনগণের কাছে এদের গ্রহণযোগ্যতা তেমন কিছু নেই। তবুও ওরা চারজন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নামে একটা মঞ্চ তৈরি করে ফেললেন। রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এদের মধ্যে ড. কামাল থাকায় ঐক্যফ্রন্ট কিছুটা গুরুত্ব পেল। এই না সুযোগ বুঝে, ঝোপ বুঝে কোপ মারলো বিএনপি এবং সুযোগ বুঝে কাদের সিদ্দিকীও মাথা নিচু করে এই জাতীয় ফ্রন্টে ঢুকে পড়েছেন। তাহলে এই কামাল হোসেন, কাদের সিদ্দিকী, আ স ম আব্দুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্না একত্রিত হয়ে নিজেদের শক্তি সম্পর্কে সন্দিহান হয়ে বিএনপির সাথে গাঁটছড়া বাঁধলেন কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোক বলে পরিচিত ঐক্যফ্রন্টের নেতাসর্বস্ব দলগুলো বুঝতে পেরেছিলেন বড় কোন দলের সাথে না থাকলে তাদের ‘জয়’ সুদূরপরাহত। তাই তাঁরা নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে পেছনে ফেলে জামায়াত অধ্যুষিত বিএনপির সাথে দোস্তি পাতালেন আর বলতে থাকলেন, ‘আমরাতো বিএনপির সাথে ঐক্য করেছি, বিশ দলের সঙ্গে নয়’। অথচ বিএনপি কিন্তু জামায়াতকে নিয়ে নির্বাচন করছে। জিততে হলে বিএনপিকে জামাতের ভোট প্রয়োজন। তাই এটা জগাখিচুড়ি হয়ে গেল। এদিকে বিএনপি নেতৃত্বহারা হয়ে এতিমের মতন লন্ডনে পলাতক তারেক রহমানের দিকে তাকিয়ে থাকল। অবশেষে ড. কামালকেই নেতা মেনে নিতে বাধ্য হলো বিএনপি। জামায়াতবিরোধী বলে নিজেদের জাহির করলেও রব-মান্নারাও জামায়াত অধ্যুষিত ২০ দলের সাথে না হলেও বিএনপির সাথে ঐক্য করতে বাধ্য হলো, তা না হলে তাদের যে শক্তি, তাতে তো বিজয়ের কোনো সম্ভাবনা নেই। আর এমনই অবস্থায় বিএনপিও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের ধানের শীষে নির্বাচন করতে বাধ্য করল। এই যে কিম্ভূতকিমাকার সমীকরণ তৈরি হলো, তাতে জনগণের কাছেও পরিষ্কার হয়ে গেল, এই ঐক্যের স্বার্থবাদী চরিত্র। জামাত তো ধানের শীষ নিয়েই নির্বাচন করছে, কারণ তাদের নিবন্ধন নেই। সেই মার্কা ধানের শীষ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সব প্রার্থীরও মার্কা হয়ে গেল। এবার রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা কি একটু মিলিয়ে দেখবেন, কাদের ফায়দা বেশি হলো। নির্ঘাত জামায়াত-বিএনপির। ড. কামাল নিজে নির্বাচন করবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন। বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছেন কারন ড. কামালের বিজয় নিশ্চিত ছিল না। তাই এই বয়সে যে রাজনৈতিক সম্মান পেয়েছেন, তাকে প্রার্থিতা ও পরাজয়ে নষ্ট করতে চাইলেন না। তবে তার দল ধানের শীষেই নির্বাচন করছে রব মান্নাদের সাথেই। হায়রে জাদরেল ছাত্রনেতা মাহমুদুর রহমান মান্না নিজদল থেকে প্রার্থী হলে কোনোভাবেই জিততে পারবেন না, তাই ঐক্যফ্রন্টের দল হিসেবে নাগরিক ঐক্যের প্রার্থী হয়ে মান্না এবারে বিএনপির ধানের শীষে জয়লাভ করবেন, আমি নিশ্চিত। অবশ্য এর পেছনে জামায়াত-বিএনপির অন্য কোনো গোপন চক্রান্ত আছে কিনা কে জানে। মীর্জা ফখরুলকে ধন্যবাদ দিই, তিনি বাঘে-ছাগলে এক ঘাটে জল খাইয়ে ছেড়েছেন। এবার দেখা যাক নির্বাচনী ফল কি বলে। এদিকে আওয়ামী লীগ তাদের রাজনৈতিক জোট ১৪ দল এবং নির্বাচনী জোট জাতীয় পার্টির সাথে জোট বেঁধে আসন ভাগাভাগি করেছে। তবে আওয়ামী লীগ বি. চৌধুরীকেও এবার এই ভাগাভাগিতে শামিল করে দু’তিনটে আসন দিয়েছেন। মেনন, ইনু কয়টি আসন পেয়েছেন। জাসদ বিভক্ত হওয়ায় শরীফ নূরুল আম্বিয়ার দলকে মনে হয় বাদলের আসনটিই মাত্র দিয়েছে। আর মহাজোটের অনিশ্চিত-চঞ্চল বন্ধু এরশাদকে দিয়েছিল ৪০টি আসন। সব বিলিয়ে সকলকে মোটামুটি সন্তুষ্ট করে আওয়ামী লীগ নিজে রেখেছে ২৪০টি আসন। অবশেষে জাতীয় পার্টির কপালে জুটেছে ২৬টি আসন। তাতে দলের ভিতর প্রচণ্ড বিক্ষোভ। আর এমনই দুর্যোগপূর্ণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জাতীয় পার্টির প্রধান জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ অসুস্থতার অজুহাতে সিঙ্গাপুর পাড়ি দিয়েছেন। কবে ফিরবেন তা উহ্য রেখেছেন। এদিকে তো মহাসচিব যিনি ছিলেন সেই রুহুল আমিন তালুকদার কুপোকাত, দলীয় দায়িত্ব পড়েছে রাঙ্গা সাহেবের ওপর। দলীয় রাজনীতি এবং আসন বণ্টনের ক্ষেত্রে কোনো ভানুমতির খেল যে চলছে তা নিয়ে দেখলাম রাঙ্গা সাহেব তার তীব্র ক্ষোভের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

বিএনপি গত দশ বছর মহাজোট সরকার বা শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে বিন্দুমাত্র আন্দোলন, সংগ্রাম করার সাহস দেখাতে পারেনি। সরকারের কৃতিত্বের কিংবা উন্নয়নের বাস্তব চিত্র চোখে দেখেও অবাস্তব সমালোচনা, কটাক্ষ, কট‚ক্তি করে গেছে কেবল। এর অধিক কোনো কিছু করার মতন শক্তি সংগঠন হিসেবে নেই। বিএনপি ও তাদের দোসর-সুহৃদদের একটিই ভরসা- আমাদের দেশের মানুষ সব সময় এসটাবলিসমেন্ট বিরোধী। আর নির্বাচনেই এই সুুুযোগটি নেয়া খুব সহজ। কিন্তু বিএনপি যে বাজিমাৎ করার কথা ভাবছে, আদৌ কি তার কোনো সম্ভাবনা আছে? বলেছিল খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া তারা নির্বাচন হতে দেবে না। সেই বিএনপি কিন্তু বঙ্গবন্ধু কন্যার হঠাৎ সংলাপ প্রস্তাবে সকলেই রাজি হয়ে বিরাট সংখ্যক দলীয় নেতৃবৃন্দ নিয়ে বৈঠকে গেলেন আর শেখ হাসিনার কৌশলের কাছে মার খেয়ে এখন সব দলইতো নির্বাচনে এসেছে। তবে একটা কথা বলতেই হয়, বিএনপি এখনো পর্যন্ত তাদের ‘ধমক’ সরকারকে দিয়েই যাচ্ছে। অনেকের ধারণা বিএনপি বোধহয় লেভেল প্লেইং গ্রাউন্ডের অজুহাত দেখিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কৌশল নেবে। আমার ধারণা সে সাহস বিএনপির নেই তাতে যে দলের অস্তিত্বই থাকবে না। বিএনপি ২০১৪ নির্বাচন বর্জন করে যে ভুল করেছিল, সেই ভুলের পুনারাবৃত্তি করতে চায় না বলেই নমনীয়তার মনোভাব নিয়ে মুখে যাই বলুক না কেন নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিয়েও চলছে। বিএনপি খালেদার মুক্তি, তারেককে দেশে ফেরানোর যে দাবি করেছিল, তা আজ উবে গেল। এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি ভেতরে ভেতরে নিয়ে বিএনপি তাদের কথা, বক্তব্য ও ভাষণে কট‚বাক্য যে কি হারে ব্যবহার করেছে তার পরিমাপ করা যাবে না। মীর্জা ফখরুল তো ছিলেনই, গয়েশ্বর, আব্বাস, নজরুল এরাও বলেছেন ওদের দাবী মেনে না নিলে নির্বাচনে যাবেন কিনা, ভেবে দেখবেন। আর রিজভী, সেতো এক বদ্ধ ঘরে বসে জবরদস্ত বাক্যবাণ সরকারের বিরুদ্ধে ছুড়তে ছুড়তে গণমাধ্যমের অ্যাট্রাকশন হয়ে গেছেন। কী জোরালো কণ্ঠ তাঁর, ভাষায়ও শক্তিশালী বাক্যরচনা আর ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। রিজভী কিন্তু বিরক্তি উৎপাদন করলেও বলে চলেছে নিরন্তর। কিন্তু দুঃখজনক, একটা বড় দলে, বড় পদে থেকে শুধু ঘরে বসে এত মিথ্যাচার তিনি করেছেন, যা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। তবু আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এককভাবে জবাব দিয়ে গেছেন, যা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের মুখে সাজে না। বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে তাঁকে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে হবে- সব কথার জবাব তিনি দেবেন না। সব কথার জবাব দিতে গিয়ে তিনি নিজেকে বড় দলের সম্পাদক হিসেবে ‘খেলো’ করে ফেলেন। এটা পরিহার অপরিহার্য।

সবশেষে বিজয়ের এই মাসে অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনকে জনমুখী শুদ্ধ নির্বাচনে পরিণত করতে হবে। তবে মহান বিজয়ের চার যুগ পূর্তি আমরা যথাযোগ্য মর্যাদায় নতুন বিজয় উদযাপন করতে পারবো। লাখো শহীদের রক্তে অর্জিত মুক্ত স্বদেশে সার্বভৌমত্ব আমরা কিছুতেই মুক্তিযুদ্ধবিরোধী অপশক্তির হাতে তুলে দিতে পারি না। তাই তরুণ থেকে সকল নাগরিককে সচেতন হতে হবে, এই বিজয়ের মাসে যে নির্বাচন সেই ভোটে যেন কোনো যুদ্ধাপরাধী, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী অপশক্তি প্রার্থী হতে না পারে। যেন কোনো যুদ্ধাপরাধীর স্বজন যারা এখনো মনেপ্রাণে মুক্তিযুদ্ধকে ‘ঘৃণা’ করে, তাদের কেউ যেন না দাঁড়াতে পারে, সেদিকে তীক্ষè নজর রাখতে হবে। এটাও তো সত্য, উন্নয়নের প্রকল্প হাতে নিয়ে দেশকে ক্রমশ প্রগতির পথে এগিয়ে নেয়ার যে প্রতিশ্রæতি, মনে রাখতে হবে, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হলে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের প্রার্থীকেই বিজয়ী করে আনতে হবে। কারণ আমাদের মাতৃভূমিকে আমরা বিরোধী অপশক্তি মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক শক্তির হাতে কখনই তুলে দিতে পারি না। এ বিষয়টি আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে। না হলে জনগণ পরাজিত হবে। বিজয়ের এই গুরুত্বপূর্ণ দিনটিকে নতুন বিজয়ে মহিমান্বিত করতে চাই, আমরা সবাই, জয় মহান বিজয়ের। জয় মুক্তিযুদ্ধের চেতনার।

আরও সংবাদ...'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj