মুক্তিযুদ্ধের দেশে ফেরা

রবিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮

মুনতাসীর মামুন

বাংলাদেশ ৪৮ বছরে পা দিল। প্রায় পঞ্চাশ বছর। আমরা তখন ছিলাম তরুণ, এখন বৃদ্ধ, কীভাবে সময় চলে গেল বুঝলাম না। তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায় যে ‘কবি’-তে লিখেছিলেন-‘জীবন এতো ছোট ক্যানে?’ বা ‘কালো যদি মন্দ তবে কেশ পাকিলে কান্দ ক্যানে?’ এসব বাক্য যে কতো সত্য তা এখন হাড়ে হাড়ে বুঝি। আমাদের জেনারেশন এতো ঝড়ঝাপ্টা পেরিয়েছি যে বলার নয়। পৃথিবীর খুব কম জেনারেশন এতো ঝঞ্চামুখর সময় পেরিয়েছে। তবে, আমাদের সৌভাগ্য, বাংলাদেশের ইতিহাসের পথ ধরে এগিয়েছি, আমাদের বাদ দিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাস নির্মাণ করা যাবে না।

নিজেদের জেনারেশনকে আমরা বলি মুক্তিযুদ্ধের জেনারেশন। আমাদের যৌবনের সংগ্রামের ফল মুক্তিযুদ্ধ। স্বাধীনতার দিন বেঁচে থাকা এক অপার সৌভাগ্য।

আমরা যখন মুক্তিযুদ্ধকে পরবর্তী ঘটনাসমূহ বিচারে মাপকাঠি হিসাবে ধরি তখন অনেকে বলেন, এটি বাড়াবাড়ি। আজ প্রায় ৫০ বছর হলো বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে, এখনো মুক্তিযুদ্ধকে মাপকাঠি হিসেবে বিচার করা অযৌক্তিক। আজ থেকে ৪০ বছর আগে মোশতাক এবং পরবর্তীকালে জেনারেল জিয়ার মতো স্বাধীনতাবিরোধীরা যখন ক্ষমতা দখল করেছিলেন তখনো প্রায় একই ধরনের কথা বলতেন। কবে কী হয়েছে তা এখনো মনে রাখতে হবে? সব ভুলে নতুনভাবে অগ্রসব হতে হবে। এই ভুলিয়ে দেয়ার চেষ্টাটা শাসক/স্বাধীনতা বিরোধীদের একটি বড় অস্ত্র। ভুলিয়ে দেয়া বা ভুলে যাওয়াটা মৃত্যুর শামিল। স্মৃতি বিলুপ্ত বা ডিমেনশিয়া যে মানুষের, সে কি বেঁচে থাকে? না, তাকে বেঁচে থাকা বলে?

মুক্তিযুদ্ধের চাওয়া পাওয়ার বিষয়টি বিধৃত হয়েছিল ১৯৭২ সালের সংবিধানের মূলনীতিতে। বঙ্গবন্ধুর প্রজ্ঞার নিদর্শন এই সংবিধান। বিশ্বের কোনো রাষ্ট্রনেতা স্বাধীনতার পরপর সংবিধানে যুক্ত করতে পারেননি যে, রাজনীতিতে ধর্ম নিষিদ্ধ করা হবে। ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ হলো। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবে। রাষ্ট্রের মূলনীতি হবে ধর্মনিরপেক্ষতা। এগুলি বঙ্গবন্ধুর তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নয়। শেখ হাসিনা সম্পাদিত ‘সিক্রেট ডকুমেন্টস’-এর প্রথম খণ্ড পড়লে বোঝা যায় শেখ মুজিব ১৯৪৬-৪৭ সাল থেকেই এ বিষয়গুলো নিয়ে ভেবেছিলেন। অভিজ্ঞতার চেয়ে বড় জ্ঞান নেই। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে অভিজ্ঞতাই অবলম্বন করেছিলেন।

১৯৭৫ না হলে, প্রবন্ধের এই শিরোনাম প্রয়োজন হতো না। ১৯৭৫ সালে সপরিবারে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের চার নেতা হত্যা স্বাধীনতার সব অর্জনকে বিনষ্ট করেছিল। আজ পর্যন্ত কোনো দেশে যেটি হয়নি সেটি হয়েছিল ১৯৭৫ সালে। জেনারেল জিয়া, মোশতাক, এরশাদ, খালেদা জিয়া ও নিজামীর আমলে ধরে ধরে মুক্তিযুদ্ধের সাফল্য ও চেতনা ধ্বংস করে দেয়ার প্রচেষ্টা নেয়া হয়েছিল। এরা বাংলাদেশের যে ক্ষতি করেছিলেন আর কেউ তা করতে পারেননি। তাদের দর্শনের মূল কথা ছিল, ১৯৭১ ছিল বিচ্যুতি। ১৯৪৭ সালের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হবে। সুতরাং ১৯৭১ সালের বিচ্যুতি থেকে ‘মূলপথ’ অর্থাৎ পাকিস্তানের দিকে যাত্রা করার জন্য ১৯৭৫ ছিল প্রয়োজন। সংবিধান থেকে চার মূলনীতি বাদ, যুদ্ধাপরাধী রাজনীতি করার অধিকার ও ক্ষমতায় বসানো, ইতিহাস জোর করে বদলানো, শেখ হাসিনাকে ২৩ বার হত্যা প্রচেষ্টা, রাষ্ট্রীয় মদতে জঙ্গিবাদের বিকাশ- এসব ছিল পাকিস্তানে ফেরার স্ট্যাটেজি।

পাকিস্তান একটি ব্যর্থতার নাম, একটি ব্যর্থতার কনসেপ্ট বা প্রত্যয়। কিন্তু এ প্রত্যয় জিয়া, খালেদা, নিজামীরা কেন আঁকড়ে ধরেছিলেন? কারণ ব্যর্থতা সাফল্য তাদের ব্যাপার ছিল না। ক্ষমতা ভোগ করা, একক কর্তৃত্ব বজায় রাখাই ছিল মূল বিষয়। আর ধর্মের অপব্যবহার ছিল তাদের বড় হাতিয়ার। একটি জাতি, একটি রাষ্ট্র তখনই আধুুনিক বলে বিবেচিত হয় বা উন্নতির পথে এগিয়ে যায় যখন সব ধরনের বর্ণবিদ্ধেষ, সাম্প্রদায়িকতাকে প্রতিরোধ করে। ইউরোপ বা আমেরিকা যে আধুনিক হলো বা এগিয়ে গেল এটি তার একটি কারণ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর, ইউরোপ ক্রমে বর্ণবৈষম্য, সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি পরিহারের চেষ্টা করেছে, তার প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পেয়েছে সঙ্গে সঙ্গে উদারনীতি। আমেরিকাকে এ পথে এগুতে হয়েছে বাধ্য হয়ে, তার উন্নয়নের কারণে, সে জন্য চরম সাম্প্রদায়িকতাকে পরিহার করতে হয়েছে।

গত শতকের ষাটের দশকের শেষ ভাগে, আমরা যখন মাত্র কৈশোর পেরিয়েছি তখন সারা পৃথিবী জুড়ে উদারনীতির ঢেউ। ঔপনিবেশিক জোয়াল থেকে অনেক দেশ মুক্তি পাচ্ছে, তরুণরা রক্ষণশীলদের হটিয়ে দিচ্ছে, নতুন সংস্কৃতি নাড়া দিচ্ছে, চতুর্দিকে যুদ্ধবিরোধী ¯েøাগান, বর্ণ বৈষম্য নিপাত যাক- তরুণদের কণ্ঠে কণ্ঠে। বিটলসের ‘আই লাভ ইউ ইয়া ইয়া ইয়া’ সবার মুখে মুখে বা ‘হোয়ার হ্যাভ অল দ্য ফ্লাওয়ার্স গন’ গিটারে গিটারে গুঞ্জরিত। বাংলাদেশ যে ন’মাসে স্বাধীন হয়েছিল তার একটি বড় কারণ, সারা পৃথিবীর সিভিল সমাজের বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান।

উদারনীতির সঙ্গে প্রবৃদ্ধির একটি যোগসূত্র আছে। সম্প্রতি সিএনএনের একটি জরিপে তাই মনে হলো। ইউরোপের মানুষ হলোকাষ্ট বা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সংঘটিত গণহত্যা মনে রেখেছে কী রাখেনি। এটি ছিল জরিপের বিষয়। এর ফলাফলে বিশ্বের সাম্প্রতিক চেহারাটা স্পষ্ট হয়েছে। সিএনএন বলছে, ইউরোপের শতকরা ৩০ ভাগ তরুণ গণহত্যার বিষয়টি জানে না। ৩০ ভাগ এ সম্পর্কে টুকরো টাকরা শুনেছে। বাকি ৪০ ভাগ মোটামুটি জানে। যারা মোটামুটি জানে তারা তরুণতম জেনারেশন নয়। স্মৃতির এই অবলুপ্তি আবার ইউরোপ জুড়ে আবার বর্ণবাদ, বিদ্বেষ সাম্প্রদায়িকতা কে ফিরিয়ে আনছে। এর সঙ্গে আমি যোগ করব তাদের প্রবৃদ্ধি হ্রাস করছে।

ইউরোপ গত ৭০ বছরে যে উন্নয়ন করেছিল তার কারণ বর্ণবিদ্বেষ ও ধর্মজাত রাজনীতি প্রতিরোধ প্রচেষ্টা। হিটলার মানবজাতীর শত্রু- এ কথাটিই ইউরোপের শিক্ষা সংস্কৃতিতে প্রতিফলিত হয়েছিল। হলোকাস্ট বা গণহত্যার সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষিত হয়েছিল, শিক্ষা সংস্কৃতিকে দৃঢ়ভাবে প্রতিফলিত করার চেষ্টা হয়েছে যে, ফ্যাসিবাদ বা নাজিবাদ বা বর্ণবিদ্বেষ সভ্যতাবিরোধী। অনেক দেশে আইন করে বলা হয়েছে হলোকাস্ট অস্বীকার দণ্ডনীয় অপরাধ। তা সত্ত্বেও যে বর্ণবিদ্বেষ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠেনি তা নয়। মনে হয় বর্ণ বা ধর্মবিদ্বেষ বোধহয় মানুষের জন্মগত। আমরাও বর্ণবাদী নই? না হলে বিয়ের সময় প্রথম প্রশ্ন হয় কেন, মেয়ে ফরসা কিনা? বা টিভির সিংহভাগ জুড়ে বিজ্ঞাপন থাকে কেন ফেয়ার এন্ড লাভলির?

আজ ইউরোপ আমেরিকা জুড়ে চরম ডানের যে উত্থান দেখা দিচ্ছে তার সঙ্গে গণহত্যা বা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতি ভুলে যাওয়ার যোগসূত্র থাকলেও একটি প্রশ্ন থেকে যায় সেটি হলো ইউরোপে তো বিজয়ের, গণহত্যার স্মৃতি সংরক্ষিত হয়েছে, শিল্প-সংস্কৃতিতে রক্ষিত হয়েছে তা হলে? সমাজতত্তি¡করা এর কারণ বলতে পারবেন। প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এর কারণ হতে পারে। ইন্টারনেট, ফেসবুক- এ সবে বিরোধীরা প্রবলভাবে সোচ্চার। উদারনীতিবাদীরা হয়তো এতটা নন বা আত্মতৃপ্তিতে ভোগেন বা সবসময় সজাগ থাকেন না তাদের আদর্শ রক্ষায় বা বিস্তারে। বিরোধীরা সবসময় ঐক্যবদ্ধ ও সচেষ্ট ঐ ধারা ধ্বংসে।

শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে এবং তারপর এক দশক ধরে ক্ষমতায় আছেন। প্রথমবার তিনি তেমন কিছু করতে পারেননি কেননা রাষ্ট্রের কাঠামো এবং সব পর্যায়ে ছিল বাঙালি পাকিস্তানিদের দাপট। তবে গত দশ বছরে তিনি এত কাজ করেছেন যে তার ফিরিস্তি দিতে গেলে শ’খানেক পৃষ্ঠার একটি প্রবন্ধ লিখতে হবে। সরকার থেকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে সার্বিক উন্নয়নের ওপর। এটি ঠিক, গত দশ বছরে বাংলাদেশ যে উন্নতি করেছে তা গত ষাট বছরে হয়নি। এখন আমরা সগর্বে সবুজ পাসপোর্ট নিয়ে ঘোরাফেরা করতে পারি। বিশ্ব নেতৃবৃন্দ স্বীকার করেছেন, শেখ হাসিনা যা করেছেন একদশকে তা অভূতপূর্ব। হ্যাঁ, এটা ঠিক এবং আমরা তা সগর্বে স্বীকারও করি। উন্নয়ন একটি প্রক্রিয়া, এ প্রক্রিয়া যথাযথভাবে শেখ হাসিনা অনুসরণ করেছেন এবং দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকলে আর কয়েক বছরে বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হবে। আমাদের জেনারেশন যতটা না এর সুফল পাবে তার চেয়ে বেশি লাভবান হবে নতুন প্রজন্ম। কারণ তখন তারা উন্নত দেশের নাগরিক। যে উন্নত দেশের নাগরিক, উন্নয়ন তার কাছে স্বাভাবিক মনে হবে। আমরা পরাধীনতা ও স্বাধীনতার বিষয়টি যেভাবে অনুভব করি, যার জন্ম স্বাধীন দেশে সে কি ওই ফারাকটা বোঝে? আবার অনুন্নয়ন ও উন্নয়নের তারতম্য এখন আমরা যেভাবে অনুভব করি তা কি পরবর্তী প্রজন্ম অনুভব করবে? শেখ হাসিনা যে প্রক্রিয়ায় দেশকে নিয়ে যাচ্ছেন, তিনি না থাকলেও দেশ এগিয়ে যাবে কারণ, ভিত্তিটা তিনি তৈরি করে দিয়েছেন। কিন্তু দেশ যদি মুক্তিযুদ্ধের পথ বেয়ে ১৯৭২ এর বাংলাদেশের দিকে যাত্রা না করত তাহলে কি এই উন্নয়ন এভাবে সম্ভব হতো? পাকিস্তানের উদাহরণ দিই। পাকিস্তান আয়তনে, সম্পদে, জনসংখ্যায় বাংলাদেশের দ্বিগুণ। কিন্তু পাকিস্তান পাকিস্তান থাকায় বা থাকতে চাওয়ায় আজ প্রায় দেউলিয়া, সন্ত্রাসী একটি রাষ্ট্রের পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি, পাকিস্তানের সংসদে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ঘোষণা করেছিলেন, দেশকে তিনি সুইডেনে পরিণত করবেন। এক সংসদ সদস্য উঠে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, পাকিস্তানকে সুইডেনে পরিণত করুন আপত্তি নেই। কিন্তু তার আগে পাকিস্তানকে বাংলাদেশে পরিণত করুন।

আজ ৫০ বছর পরও মুক্তিযুদ্ধ আমাদের রাজনীতির কেন্দ্র কারণ, ১৯৭৫ সালে দেশের মানুষকে দুভাগে বিভক্ত করা হয়েছে- বাঙালি- বাংলাদেশি; স্বাধীনতার পক্ষের এবং স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি। আজ উন্নয়ন আরো হতো যদি রাজনীতির এই বিপরীতমুখী দ্ব›দ্ব না থাকত। পৃথিবীতে বাংলাদেশ একমাত্র দেশ, যেখানে স্বাধীনতার পরও স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি হিসেবে কমপক্ষে শতকরা ৩০ ভাগ মানুষের সৃষ্টি হয়েছে। এর কারণ পাকিস্তান বা স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তির যে ধারার সূচনা করেছিলেন জেনারেল জিয়া পরবর্তী বছরগুলোতে তার উত্তরাধিকাররা সে ধারা পুষ্ট করেছে। অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের পার্থক্য হলো বিপরীতমুখী আদর্শ। রাজনীতি, সমাজ, রাষ্ট্রে অশান্তির সৃষ্টি করেছে। অন্যান্য দেশে সবাই স্বাধীনতার পক্ষে, এমনকি ভারতেও রাজনীতিক আদর্শটা হচ্ছে দেশের মানুষ রক্ষণশীল, উদার না প্রগতিশীল ধারা গ্রহণ করবে সেটি। এবারো নির্বাচনে আমরা দেখতে পাচ্ছি- দুটি ভাগে দেশ ভাগ হয়েছে। একদিকে আওয়ামী লীগ ও জোট এবং মহাজোট অন্যদিকে বিএনপি-জামায়াত ও তাদের ধারার অনুসারীদের মিলে ঐক্যফ্রন্ট। এটা খুবই স্বাভাবিক যে, যে ধারা জিতবে সে ধারাই ঠিক করবে কোন পথে আমরা এগোব। বিএনপি-জামায়াত জিতলে আবার পাকিস্তানের দিকে যাত্রা শুরু হবে এবং পাকিস্তানে যা যা হয়েছে তাই হবে। শেখ হাসিনা জিতলে দেশ মধ্য আয়ের দেশ শুধু নয়, রক্ষণশীল ধারা থেকে বেরিয়ে আসবে।

ইতোমধ্যে বিষয়গুলো স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বিএনপির নজরুল ইসলাম খান ঘোষণা করছেন জামায়াতে মুক্তিযোদ্ধা আছে। মানুষ কতটা নষ্ট হলে এ ধরনের মন্তব্য করতে পারে। জামায়াত নেতারা বুক ফুলিয়ে ধানের শিষ নির্বাচণ করছেন। নিবন্ধন বাতিলের অর্থ কি? নির্বাচন কমিশনের এবং আদালতের এ বিষয়টি দেখা উচিত ছিল যে, নিবন্ধন বাতিলের পর কেউ বাতিলকৃত দলের সদস্য হিসেবে নিজেকে জাহির করে যে কোনো প্রতীকে নির্বাচন করতে পারে কি না? আদালত এত বিষয়ে স্বপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করে আর এ প্রক্রিয়া যে আদালত অবমাননা এ বিষয়টি তাদের মনে হয়নি। তাহলে এ রায়ের কী দরকার ছিল। কামাল হোসেন আজ শহীদ জিয়া অমর হোক, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ জিয়া, এ কথা বলতেও হয়তো দ্বিধা করবেন না। ধানের শিষ যখন মেনে নিয়েছেন তখন সেটি বলতে দ্বিধা কই? ধানের শিষ বিষ হলেও শেখ হাসিনা নিপাত যাক সেটিই কাম্য। কাদের সিদ্দিকী বা স্বঘোষিত বঙ্গবীরের আজ কী পরিণতি। প্রথম আলো বিশাল এক প্রতিবেদনে দেখিয়েছিল কিভাবে সেতু গড়ার ঠিকাদারি নিয়ে সেতু না গড়ে তিনি বিল নিয়েছেন। সেই থেকে তিনি সেতু কাদের বা সেতু সিদ্দিকী হিসেবে খ্যাত। ডা. ব দ চৌধুরীর মতো সাম্প্রদায়িক লোক এখন জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু বলতে দ্বিধা করেন না। রাজনীতি কতেটা নষ্ট হয়ে গেছে! আসলে ১৯৭৫ সালের পর এ সব রাজনৈতিক বর্জ্য জমা শুরু হয়। আজ তা রাজনীতির পরিচ্ছন্ন পানি প্রবাহের পথ রুদ্ধ করে দিয়েছে। আজ সময় এসেছে নির্বাচনে এদের ভোট না দিয়ে এদের ক্ষমতায় যাওয়ার পথ রুদ্ধ করা যাতে এই বর্জ্যগুলো পরিষ্কার করে নালার পথ পরিষ্কার করতে পারি।

আমরা যারা ১৯৭১ এর জেনারেশন বা একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সঙ্গে যুক্ত, আমাদের কাছে শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরা বা মুক্তিযুদ্ধের অর্জন বিকশিত করা ও সমুন্নত রাখাটাই গুরুত্বপূর্ণ। উন্নয়নের ডামাডোলে শেখ হাসিনার এই অর্জনগুলো ঢাকা পড়ে গেছে। আমরা মনে করি, তার উন্নয়নের ¯েøাগানের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের অর্জনের ¯েøাগানগুলোও যথাযথ গুরুত্ব পাওয়া উচিত।

আমাদের মনে হয়েছে দেশে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে যখন আমরা গণহত্যাকারী ও তাদের সহযোগীদের রাজনীতি প্রতিরোধ করে মুক্তিযুদ্ধের অর্জনগুলো প্রতিষ্ঠা করি যা এখনো করা যায়নি। শেখ হাসিনার বড় অবদান পাকিস্তানিকরণের বিপক্ষে মুক্তিযুদ্ধের বা বাংলাদেশে ফেরার প্রচেষ্টা। সর্বাত্মক প্রচেষ্টা না হলেও ওই প্রচেষ্টাও তো আর কেউ নেননি। এ জন্য আবারো দরকার শেখ হাসিনার সরকার।

দুই.

শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকার সময় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে যে কাজগুলো করেছেন তার একটি সংক্ষিপ্ত ফিরিস্তি দেয়ার চেষ্টা করব। এগুলোতে দুভাগে ভাগ করা যেতে পারে- মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনরুজ্জীবন।

মুক্তিযোদ্ধারা যাতে সমাজে রাষ্ট্রে সম্মানের সঙ্গে বসবাস করতে পারেন তার জন্য তিনি কতগুলো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন-

খালেদা জিয়ার আমলে মুক্তিযোদ্ধারা সম্মানীভাতা পেতেন মাত্র ৫০০ টাকা। যদ্দুর মনে পড়ে তখন শাহরিয়ার কবির ও আমি কয়েকটি লেখায় আহ্বান জানিয়েছিলাম, তাদের ভাতা অন্তত ১০ হাজার টাকা করা হোক। নির্মূল কমিটির এই দাবি নিয়ে দেন-দরবার করেছে। সবাই তখন উপহাস করেছেন। শেখ হাসিনা মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা ঠিকই ১০ হাজার করেছেন।

কোনো মুক্তিযোদ্ধা মারা গেলে তাকে যাতে রাষ্ট্রীয় সম্মানে দাফন করা হয় এই রীতি শেখ হাসিনা চালু করেছেন। আগে এই সম্মান সীমিত আকারে, যারা উচ্চপদে ছিলেন তাদের দেয়া হতো। আজ, রাষ্ট্রীয় সম্মানে ধনী ও গরিব মুক্তিযোদ্ধার কোনো পার্থক্য নেই। এভাবেই রাষ্ট্রে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান দিয়েছেন যা স্বাভাবিকভাবে পাকিস্তানি বাঙালিরা দেয়নি।

বীরাঙ্গনাদেরও মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বীরাঙ্গনাদের এ দেশের সমাজ রাষ্ট্র কখনো সম্মান করেনি। ১৯৭১ সাল থেকেই তারা নিপীড়নের শিকার। শেখ হাসিনা তাদের বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা করায় তারাও ভাতা পাচ্ছেন।

প্রতিটি উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স করা হয়েছে। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য পুনর্বাসনের ব্যাপক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধারা চাকরি ক্ষেত্রে এক বছরের সিনিয়রিটি পেয়েছেন।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত ও বিকশিত রাখার জন্যও তিনি বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছিলেন-

বঙ্গবন্ধু হত্যা ও মুক্তিযুদ্ধের চার নেতার বিচার কাজ শুরু করেছিলেন এবং সেটি করার জন্য ইনডেমনিটি অ্যাক্ট বাতিল করেছিলেন। বিশেষ ট্রাইবুনালে তিনি বিচার করতে পারতেন কিন্তু তিনি তা না করে প্রচলিত বিচার প্রক্রিয়া বেছে নিয়েছিলেন। এ বিচার সম্পন্ন হতে দুদশক লেগেছে। কিন্তু এ কথা তিনি প্রমাণ করেছেন যে, অপরাধ করলে শাস্তি পেতে হবে।

এ দেশে জিয়া, ওসমানীর নামে সরকারিভাবে জাদুঘর হয়েছিল। জাতির জনকের নামে নয়। তাঁর নাম তারা স্মৃতি থেকে উৎপাটন করতে চেয়েছিল। শেখ হাসিনা যখন ক্ষমতায় ছিলেন না, তখন বঙ্গবন্ধুর বাড়িটি জাতিকে দান করে বঙ্গবন্ধু জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ এ জাদুঘর পরিদর্শনে আসে বঙ্গবন্ধুকে অনুভব করার জন্য।

বিএনপি আমলে ইতিহাস উধাও করা হয়েছে স্বাধীনতার দলিলপত্র থেকে, পাঠ্যবইয়ে ইতিহাস বিকৃতি ঘটিয়েছে। তাঁর প্রথম আমলে শেখ হাসিনা দুই জায়গাতেই ইতিহাস ফিরিয়ে এনেছেন। ইতিহাস সম্মিলনীর প্রচেষ্টায় স্নাতক পর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধের একটি কোর্স বাধ্যতামূলক করা হয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সব কলেজে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এ পাঠক্রম চালু করেছে। মঞ্জুরি কমিশন বিশ্ববিদ্যালয়ে এ কোর্স চালু করেছে। এ ক্ষেত্রেও উদ্যোগ নিয়েছিল ইতিহাস সম্মিলনী। তবে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় না থাকলে পাঠক্রমে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বাধ্যতামূলক করা যেত না।

শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের জন্য বিশাল ভবন গড়ে দিয়েছেন। একই সঙ্গে খুলনায় গণহত্যা জাদুঘর করার জন্য জমি ও ইমারত দিয়েছেন। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সাহায্যে গণহত্যা জাদুঘর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সজীব রাখার জন্য নানা কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর বধ্যভূমিতে স্মৃতিসৌধ নির্মাণের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করেছে।

শাহরিয়ার কবির, জেনারেল শফিউল্লাহ ও আমার করা কয়েকটি রিটের ফলে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, বধ্যভূমি সংরক্ষণ ও যুদ্ধাপরাধীদের নামে কোনো স্থাপনা বা সড়ক করা যাবে না বলে রায় দিয়েছেন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ শেখ হাসিনাই গড়েছেন।

সংবিধানে শেখ হাসিনা চার রাষ্ট্রীয় মূলনীতি ফিরিয়ে এনেছেন এবং এই চারনীতির আলোকে কাজও করেছেন। দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন যার ফলে আজ নির্বাচন হতে যাচ্ছে। বাঙালি জাতীয়তাবাদকে সজীব করেছেন। তাঁর প্রচেষ্টায়ই বঙ্গবন্ধুর ভাষণ ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পেয়েছে। শীতল পাটি, মঙ্গল শোভাযাত্রা সহ অনেক কিছু বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় স্থান পেয়েছে। অসাম্প্রদায়িক মনোভাব যাতে বিরাজ করে তার ওপর জোর দিয়েছেন। সংখ্যালঘুরা তাঁর আমলে এখন নিজেদের নিরাপদ মনে করেন। অনেকে এ পরিপ্রেক্ষিতে হেফাজত এর সঙ্গে সখ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন। বলে রাখা ভালো, হেফাজতের ১৩ দফা দাবি যা ছিল সাম্প্রদায়িক ও নারীবিরোধী তার আমরা বিরোধিতা করেছি। কওমি মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতি দিয়ে কওমিদের তিনি মূল ধারার সঙ্গে যুক্ত করতে চাচ্ছেন এবং এটি ইতিবাচক দিক। কওমিরা তাঁকে কওমি জননী শুধু আখ্যা দেয়নি। স্বীকার করেছেন তাদের অনেক নেতা যে, ‘ঢাকা দখল অভিযান’ ভুল ছিল। কওমি জননী উপাধি দেয়ার সময় তারা যে সমাবেশ করেছিলেন তখন তারা তাদের সাম্প্রদায়িক ও নারীবিরোধী দাবি তোলেননি। ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম থাকলেও শেখ হাসিনার সময় দেশে এক অসাম্প্রদায়িক পরিবেশ বিরাজ করছে। বাংলাদেশ শেখ হাসিনার আমলে যেভাবে দারিদ্র্য হ্রাস করেছে তা অভূত-পূর্ব।

শেখ হাসিনার সবচেয়ে বড় অবদান যুদ্ধাপরাধীদের বিচার। বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও শাস্তি হবে ১৯৭৫ সালের পর এ কথা কেউ কখনো ভাবেননি। নির্মূল কমিটি দীর্ঘদিন এ আন্দোলন করেছে এবং তরুণদের উজ্জীবিত করতে পেরেছিল। যে কারণে গত নির্বাচনে জোটের সব দল যুদ্ধাপরাধ বিচারের প্রতিশ্রæতি দিয়েছিল। যেখানে কম্বোডিয়ায় দুদশকে মাত্র তিনজনের বিচার হয়েছে সেখানে শেখ হাসিনার আমলে প্রায় ৩০ জনের বিচার সম্পন্ন হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় এ ধরনের বিচার প্রথম। শেখ হাসিনা এ কারণে ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নিয়েছেন।

বাংলাদেশে পাকিস্তানের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে জামায়াত। সেই জামায়াত এখন রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন হারিয়েছে। শুধু তাই নয় বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানানোর এজেন্ডা নিয়ে তারা জঙ্গিবাদের শুধু উত্থান নয় বিকাশও ঘটিয়েছিল। শেখ হাসিনার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কারণে জঙ্গি মৌলবাদ উৎপাটিত না হলেও সীমিত।

শেখ হাসিনার রাজনীতির দিক থেকে বাংলাদেশে যাত্রা দেশে এক ধরনের শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছে। এ শান্তি ভঙ্গ করতে, অস্থিরতা সৃষ্টি করতে বিএনপি-জামায়াত শুধু নির্বাচন বানচাল নয়, আগুন সন্ত্রাসের সৃষ্টি করেছিল। কানাডার আদালত দুটি মামলায় বিএনপিকে সন্ত্রাসী দল হিসেবে ঘোষণা করেছে। একটু ছাড় দিলেই তারা সন্ত্রাসে মেতে ওঠে যার সর্বশেষ উদাহরণ পল্টনে পুলিশের গাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া ও সন্ত্রাস সৃষ্টি করা।

তরুণরা শেখ হাসিনাকে গত নির্বাচনে প্রভূতভাবে জিতিয়েছে একটি কারণে তিনি তরুণদের জন্য সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেয়ার প্রতিশ্রæতি দিয়েছিলেন। তাঁর স্বপ্নের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলছে তরুণরাই। শেখ হাসিনা নির্বাচনে জিতলে এই সম্ভাবনার দ্বার আরো প্রসারিত হবে। শেখ হাসিনা জিতলে তরুণরা তারেক জিয়ার সন্ত্রাসী পথে পা বাড়াবে না।

বাংলাদেশে ইতিহাসের ধারা প্রগতির দিকে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তরুণরাই সব সময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। ১৯৫২, ১৯৫৪, ১৯৬২, ১৯৬৬, ১৯৬৯, ১৯৭০-১৯৭১, ১৯৯০- প্রতিটি ক্ষেত্রে তরুণরাই ছিলেন অগ্রপথিক। ২০০৮ সালে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসতে পেরেছিলেন তরুণদের কারণেই।

আজো আবার সেই বাঁক ফেরানোর দিন ফিরে এসেছে। আসন্ন নির্বাচনে ড. কামাল হোসেন ও মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্ট জিতলে বাংলাদেশে তরুণদের সব অর্জন বৃথা যাবে। পাকিস্তানের দিকে ফের যাত্রা শুরু হবে, জঙ্গি মৌলবাদ বিকশিত হবে, সংখ্যালঘুরা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি শুধু নিপীড়ন নয়, কঠোর বিধিনিষেধের আওতায় থাকবেন। অনেককে দেশ ত্যাগ করতে হবে। গণতন্ত্র বিলুপ্তিতে সন্ত্রাস হবে প্রধান হাতিয়ার। রাষ্ট্রীয় শক্তি ব্যবহার করে প্রথিতযশাদের খুন করা হবে যার উদাহরণ শেখ হাসিনার ওপর গ্রেনেড আক্রমণ। উন্নয়নের ধারা ব্যহত হবে। তরুণরা কি এই বাংলাদেশ চান? যদি না চান তাহলে এখনই খুনি, সন্ত্রাসীদের রাজনীতি প্রতিরোধ শুধু নয়, নির্বাচনে সবাইকে নিয়ে নৌকায় ভোট দিতে হবে।

এ প্রসঙ্গে আরেকটি বিষয়ের উল্লেখ করতে চাই। সম্প্রতি স্বদেশ রায়ের একটি লেখা পড়েছি যেখানে তিনি একটি মূল্যবান মন্তব্য করেছেন। তিনি লিখেছেন, আমার ভোট যাকে খুশি তাকে দেব- এ ¯েøাগান গ্রহণ গ্রহণযোগ্য নয়। এ মন্তব্য আমার যুক্তিযুক্ত মনে হয়েছে। আমাদের এখানে একটি সমস্যা সবকিছু আমরা ব্যক্তি নিরিখে বিবেচনা করি। কোনো মন্ত্রী, এমপি বা নেতা আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছেন, অনুরোধ রাখেননি, পুরস্কৃত করেননি, তদবির করেননি- এসব নিরিখে অনেক সময় ভোটের ভাগ্য নির্ধারিত হয়। আসলে নির্বাচন প্রশ্নে এসব সেন্টিমেন্ট জলাঞ্জলি দিয়ে বিচার করা উচিত শেখ হাসিনা সরকার সামগ্রিকভাবে কী করেছেন। তাতে রাষ্ট্র, সমাজের উন্নতি হয়েছে কী না। সে কারণে, আমার ভোট যাকে তাকে দেয়া যাবে না, দিতে হবে শেখ হাসিনাকেই।

সবশেষে একটি ঘটনার কথা বলি। শেখ হাসিনার আমলে বাংলাদেশের অভাবনীয় পরিবর্তন দেখে পাকিস্তানের এক রাজনীতিবিদ আল্লাহর কাছে আকুতি জানিয়ে বলেছেন, হাসিনাকে পাকিস্তানে এনে দিতে যাতে তিনি পাকিস্তানকে বাংলাদেশ বানিয়ে দিতে পারেন। এর চেয়ে বড় জয় আর কী হতে পারে? পাকিস্তানিরা এখন শেখ হাসিনাকে চান আর আপনারা চাইবেন না? তরুণ প্রজন্মের বন্ধুরা কী বলেন?

আরও সংবাদ...'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj