স্মরণীয়-বরণীয় : বিনয় বসু

বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮

বিনয় কৃষ্ণ বসু, যিনি বিনয় বসু নামে বেশি পরিচিত ছিলেন। ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন অন্যতম বাঙালি ব্যক্তিত্ব এবং অগ্নিযুগের বিপ্লবী। বিনয় বসুর জন্ম হয় ১৯০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর, মুন্সীগঞ্জ জেলার রোহিতভোগ গ্রামে। তিনি ঢাকায় ম্যাট্রিক পরীক্ষায় পাস করার পর মিটফোর্ড মেডিকেল স্কুলে (বর্তমানের স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ) ভর্তি হন। এ সময় তিনি ঢাকার ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবী হেমচন্দ্র ঘোষের সংস্পর্শে আসেন এবং যুগান্তর দলের সঙ্গে মুক্তিসংঘে যোগ দেন। বিপ্লবী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার জন্য তিনি চিকিৎসা শাস্ত্রে তার পড়ালেখা শেষ করতে পারেননি। বিনয় ও তার সহযোদ্ধারা নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্স দলে যোগ দেন ১৯২৮ সালে। অল্পদিনের মধ্যেই বিনয় এই সংগঠনের ঢাকা শাখা গড়ে তুলেন। অচিরেই রাজবন্দিদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের বিরুদ্ধে তার সংগঠনটি রুখে দাঁড়ায়। ১৯৩০ সালে বিপ্লবীরা পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল লোম্যানকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেন। লোম্যানের মিটফোর্ড হাসপাতালে এক সহকর্মীকে দেখতে আসার কথা ছিল। ১৯৩০ সালের ২৯ আগস্ট বিনয় সাধারণ বেশভুষায় নিরাপত্তা গণ্ডিকে ফাঁকি দিয়ে লোম্যানের খুব কাছে চলে এসে তাকে গুলি করেন। ঘটনাস্থলেই লোম্যানের মৃত্যু হয় এবং তার সঙ্গে থাকা পুলিশের সুপারিন্টেন্ডেন্ট হডসন গুরুতর আহত হন। পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে বিনয় কলকাতা শহরে পালিয়ে যান বিপ্লবী সুপতি রায়ের সাহায্যে। তাদের পরবর্তী লক্ষ্য ছিল কারা কর্তৃপক্ষের অত্যাচারী ইন্সপেক্টর জেনারেল কর্নেল এন এস সিম্পসন। তাঁরা সিম্পসনকে হত্যার সঙ্গে সঙ্গে ব্রিটিশ সরকারের মধ্যে ত্রাস সৃষ্টি করার জন্য তদানীন্তন সচিবালয়- কলকাতা শহরের রাইটার্স বিল্ডিংয়ে (বর্তমানে বিবাদি বাগে অবস্থিত মহাকরণ) হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন। ১৯৩০ সালের ৮ ডিসেম্বর তারিখে বিনয়, বাদল গুপ্ত ও দীনেশ গুপ্ত একত্রে মিলে ইউরোপীয় বেশভুষায় সজ্জিত হয়ে রাইটার্স ভবনে প্রবেশ করেন ও সিম্পসনকে গুলি করে হত্যা করেন। টেগার্টের নেতৃত্বে ব্রিটিশ পুলিশ বাহিনী সঙ্গে সঙ্গে গুলিবর্ষণ শুরু করে। গুলি বিনিময়ে টেয়ানাম, প্রেন্টিস, নেলসনসহ আরো কিছু পুলিশ অফিসার গুলিবিদ্ধ হন। তবে অচিরেই তিন বিপ্লবী পরাভূত হন। পুলিশের কাছে ধরা না দেয়ার অভিলাসে বাদল গুপ্ত পটাশিয়াম সায়ানাইড খেয়ে আত্মহত্যা করেন। বিনয় ও দীনেশ পিস্তলের গুলিতে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। হাসপাতালে ১৯৩০ সালের ১৩ ডিসেম্বর বিনয় বসুর মৃত্যু হয়। বিনয়-বাদল-দীনেশের এই আত্মত্যাগের স্মরণে কলকাতার ডালহৌসি চত্বরের নামকরণ করা হয় বিবাদি বাগ।

-উইকিপিডিয়া অবলম্বনে

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
আ ব ম খোরশিদ আলম খান

ঘরে বসে তারাবিহ্র নামাজ পড়ুন

ড. এম জি. নিয়োগী

ধান ব্যাংক

মযহারুল ইসলাম বাবলা

করোনার নির্মমতার ভেতর-বাহির

অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী

শিক্ষা খাতে প্রণোদনা প্যাকেজ প্রয়োজন

মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী

করোনা যুদ্ধে জয়ী হওয়া

অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরী

করোনা ভাইরাস এবং আমাদের যতœ

Bhorerkagoj