ক্লিকবেইট যে দেশে শিল্প

রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮

চটকদার হেড দেখে সহজেই ঢুকে পড়ছেন নিউজে। শুধু দেশে নয়, বিশ্বজুড়েই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীরা এমন ফাঁদে পা দেন। এতে আপনার হয়ত কিছুই হলো না। তবে এ ক্লিকের ফাঁকেই একজন কিন্তু কামিয়ে নিলেন কিছু অর্থ। ভুয়া নিউজ নিয়ে এমন কারবার নিয়ে হৈচৈ চলছে বেশ। নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুকে প্রভাবিত করার ঘটনায় বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানরাও সজাগ। এ প্রবণতা ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে ফেসবুক টুইটারও। কঠোর হচ্ছে সব সোস্যাল মিডিয়া। তবুও কী থামছে ক্লিকবেইট। এর মধ্যেও ঠিকই কামিয়ে যাচ্ছেন অনেকে। এমনকি একটি দেশ আছে, যেখানে ভুয়া খবর বা ফেক নিউজ তৈরিতে উৎসাহ দেয়া হয়। তাদের কাছে এটি সমস্যা নয় বরং আয়ের উৎস। বলছি কসভোর কথা। দেশটিতে ভুয়া নিউজকে শিল্পায়নের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তরুণরা ভুয়া খবর তৈরি করে দিনে কামিয়ে নিচ্ছেন ১০০ থেকে ৬০০ ডলার পর্যন্ত। পর্দার আড়ালে এ ব্যবসা চলে ক্লিক বেইটে। এ জগতে ক্লিক মানেই টাকা। আর এটাই পকেটে পুরতে জড়ো হয়েছে হাজার হাজার তরুণ। কসভোতে এমন ভয়াবহ কাজের প্রাতিষ্ঠানিকতা পাওয়ার পেছনে কারণ কাজের অভাব ও সুলভে হাইস্পিড ইন্টারনেট পাওয়ার সুযোগ বড় ভূমিকা রেখেছে। অন্য পেশায় যেখানে দিনে ১০ ডলার কামানোই কঠিন কাজ, দেশটিতে সেখানে ঘরে বসে এতো টাকা আয় করা একজন তরুণের কাছে সোনার খনি। এ কারণে দেশটির ৪০ শতাংশ তরুণ এ কাজ করছে।ক্লিকবেইট কি?

এটি হচ্ছে এক ধরনের চটকদার হেডলাইন, ছবি ও থাম্বনেইল তৈরি করে পাঠক-দর্শককে লিংকে ক্লিক করতে প্রলুব্ধ করা। এই ধরুন ইউটিউবে এক ধরনের ভিডিওতে আরেক ধরনের থাম্বনেইল ছবি দিয়ে ক্লিক করতে লোভি করে তোলা। অথবা কোনো উৎস ছাড়া বা ভুয়া উৎস দিয়ে খবর তৈরি করা যেমন ‘কোমা থেকে ১২ বছর পর ফিরেছেন যিনি’, ‘হার্ট ছাড়া বেঁচে ছিলেন ১০ বছর!’ বা ‘মাথায় আঘাত পাওয়ার পর থেকেই ইংরেজি বলছেন অনর্গল’। এ সব খবর দেখলে অনেকেই পড়তে চান। তারা ক্লিক করেন। এ ক্লিকই তাদের আয়। এ সব কনটেন্ট এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়, তা যেন বিশ্বাসযোগ্যতাও পেয়ে যায়। ভাইরাল হয় বিশ্বব্যাপী। কসভোতে এ সব ভুয়া খবর বা লিংক প্রস্তুতকারকদের নিজস্ব গোপন গ্রুপ আছে। সেখান থেকে তারা অনেক ধরনের নির্দেশনাও পান। সাধারণত এ ধরনের কনটেন্টে ঢোকার পর কিছুক্ষণের মধ্যেই ব্যবহারকারীরা অন্য কনটেন্টে চলে যান। এতেই অবশ্য কাজ হয়ে যায়। যে টুকু সময় পাঠক বা দর্শক ওই কনটেন্টের মধ্যে থাকেন সেটিই ক্লিকবেইট ব্যবসায়ীদের আয়ের উৎস।

আছে ফেক নিউজ মেকিং কোর্স

কসভোতে এ ক্ষেত্রটি এতই বেশি জনপ্রিয় যে ফেক নিউজ স্টার্টার প্যাক নামে একটি প্যাকেজও চালু আছে নতুনদের জন্য। এ প্যাকেজে নতুনদের শেখানো হয় কীভাবে পাঠককে আকৃষ্ট করা যায়। কীভাবে কনটেন্ট তৈরি করতে হয়।

ফেসবুকের অভিযান

ক্লিকবেইটভিত্তিক কনটেন্ট ধরা এবং সেগুলোকে ব্লুক করতে নানা ডিটেকশন প্রোগ্রাম তৈরি করেছে ফেসবুক। এ কারণে অনেকের আয়ের উৎস কমে গেছে। আগে যারা দিনে ৬০০ ডলার আয় করতেন, তাদের আয় নেমে গেছে ১০০ ডলারে। তবে ১০০ ডলারও অনেক উচ্চ বেতনের চাকরির চেয়ে ঢের বেশি।

সেই কারণে এখনো দাপটের সঙ্গেই টিকে আছে এ ব্যবসা। তবে এমন নয় যে কেবল ফেসবুক থেকেই এসব ব্যবসায়ীরা আয় করে। বর্তমানে পেজ ক্রয় বিক্রয়ও এই বাজারের অন্যতম ব্যবসা। লাখ লাখ লাইকের পাতাগুলো বিক্রয় করে দিচ্ছে ভালো দামে।

পুনর্বাসন ছাড়া ঠেকানো অসম্ভব

ভুয়া খবর বা লিংক ঠেকাতে যেমন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে, তেমনি যারা এ থেকে জীবিকা নির্বাহ করছে তাদের জন্য আলাদা কাজের ব্যবস্থা করা হবে-এমনটিই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তাই পুনর্বাসনের ব্যবস্থা জরুরি।

:: ডটনেট ডেস্ক

ডট নেট'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj