ঢাকা ফোক ফেস্ট-২০১৮ : লোক সুরে মাতোয়ারা হেমন্তের হিমেল সন্ধ্যা

শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮

শরীফা বুলবুল : ছুটির আমেজে গতকাল শুক্রবার রাজধানীর রাজপথগুলো ছিল অনেকটাই ফাঁকা। কিন্তু দুপুরের পর থেকে আর্মি স্টেডিয়ামের প্রবেশপথে তৈরি হয় বিশাল জনজট। সেই জটলা শেষে জনারণ্যে পরিণত করে স্টেডিয়ামের ভেতরটা। এরপর হেমন্তের হিমেল সন্ধ্যাটি সুরের নেশায় বুঁদ হয়ে ভেসে যাওয়া দর্শকদের মাঝে অন্যরকম ভালোলাগার আবহ তৈরি করে দেয়। সুরের মাদকতায় উল্লাসের মধ্য দিয়ে সুরের প্রতি বাঙালির আবেগকেই তুলে ধরে সংগীতপাগল শ্রোতারা। তিনদিনের ঢাকা আন্তর্জাতিক লোকসঙ্গীত উৎসব ২০১৮-এর দ্বিতীয় দিনের চিত্র এটি।

আন্তর্জাতিক লোকসঙ্গীত উৎসবের গতকালের পরিবেশনার পুরো অংশজুড়েই ছিল ভিন্নতার ছড়াছড়ি। রাজশাহীর গানের দল স্বরব্যাঞ্জো। ফোক ফিউশনধর্মী দলটি এই প্রথম গান গাইলেন ফোক ফেস্টের মঞ্চে। তারা একে একে গেয়ে শোনান ‘জানিতে চাই দয়াল তোমার আসল নামটা কি’, ‘দেখ ভালো জনে রইল ভাঙা ঘরে, মন্দ লোকে সিংহাসনে চড়ে’, ‘শালবৃক্ষের মতন সিনা টান মেরেছে’, ‘কাইন্দ না কাইন্দ না কন্যা না কান্দিয়ো আর সেই বাইগুন তুইল্যা দিমু তোমার গলার হার’ ‘ইন্দুবালা গো’ প্রভৃতি গান। এ দলের সদস্যরা হলেন- ভোকাল : বগা তালেব, রপক আহমেদ, আসিফ হাসান নিলয় ও রাতুল সরকার; বাঁশি ও হারমোনিকা : শহিদুল আলম জীবন ও বগা তালেব; গিটার : বানা রতœ ও নিলয়; ব্যাজ গিটার : রূপক আহমেদ ও তানভির আল আযাদ; ভায়োলিন : অধরা শ্রেয়সী অথৈ; পারকাশান ও কাহন : সঞ্জয় মল্লিক।

দ্বিতীয় পরিবেশনা নিয়ে মঞ্চে আসে বাহরাইনের তরুণদের দল মাজাজ। বাদ্যযন্ত্র নির্ভর দলটি গিটার, বেজ গিটার, ড্রামস, ভায়োলিনযোগে এরাবিয়ান সঙ্গীতের সঙ্গে প্রগ্রেসিভ রক পরিবেশন করে। ওপেথের ডার্ক বা ব্লু্যাকমোর নাইটসের মেলানকোলি ভাব সবই যেন ছড়িয়ে আছে তাদের সঙ্গীতে।

মাজাজের পরিবেশনা থামতেই মঞ্চে আসে ভারতের রঘু দিক্ষিত প্রজেক্ট। বর্তমানে ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় লোকশিল্পী রঘুপতি দ্বারকানাথ পরিবেশন করেন ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের লোকসঙ্গীত। রঙিন লুঙ্গি ও ফতুয়া পরে রঘুপতির গানে খুঁজে পাওয়া যায় কান্নাড়া কবিতার ছন্দ। রঘুপতির সঙ্গে পরিবেশনায় ছিলেন নেরেশ নাথান, জো জ্যাকব ও নাভিন থমাস।

এরপর মঞ্চে আসে গ্রামি পুরস্কারবিজয়ী যুক্তরাষ্ট্রের দল লস টেক্সমেনিয়াকস। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস ও উত্তর মেক্সিকোর স্পেনিস অভিবাসীদের লোকজ গান তেহানো থেতে অনুপ্রাণিত হয়ে ম্যাক্স বাকা ১৯৯৭ সালে গঠন করেন এই ব্যান্ডটি। ২০১০ সালে সেরা তেহানো অ্যালবাম হিসেবে দলটি গ্রামি পুরস্কার জয় করে। দলটির গানে ব্লুজ, লোকজ, কান্ট্রি, জ্যাজ ও রক মিউজিকের প্রভাব মেলে। বিশ্বের অন্যতম সেরা বাহো সেক্সতো বাদক ম্যাক্স বাহার নেতৃত্বে দলটিতে ছিলেন অ্যাকোর্ডিয়ানে জশ বাকা, ড্রামে লরেনজো মার্টিনেজ, নোয়েল হার্নান্দেজ, উইল জে. লস ও ফ্লাকো ইয়েমিনেজ।

দ্বিতীয় দিনের শেষ পরিবেশনা নিয়ে মঞ্চে আসেন মমতাজ বেগম। তিনি নিজের জনপ্রিয় গানগুলোর পাশাপাশি অপ্রচলিত গানও পরিবেশন করেন। যার মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় দিনের আয়োজন শেষ হয়।

আজ শনিবার তৃতীয় ও সমাপনী দিনে অংশ নেবেন পাকিস্তানের শাফকাত আমানত আলি, স্পেনের লাস মিগাজ এবং বাংলাদেশের বাউল কবির শাহ, অর্ণব ও নকশিকাঁথা।

সান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগ ও সান কমিউনিকেশনের আয়োজনে মেরিল নিবেদিত ঢাকা আন্তর্জাতিক লোকসঙ্গীত উৎসবের চতুর্থ আসরে সহযোগিতা করছে ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড, গ্রামীণফোন ও রাঁধুনী।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj