তামিলনাড়–তে ঘূর্ণিঝড় গাজার তাণ্ডব, ২০ জনের মৃত্যু : নিরাপদ আশ্রয়ে ৭৭ হাজার মানুষ

শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮

কাগজ ডেস্ক : ভারতের তামিলনাড়– উপক‚লে ঘূর্ণিঝড় গাজার তাণ্ডবে এখন পর্যন্ত অন্তত ২০ জনের প্রাণহানির খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর মধ্যে ১০ জন পুরুষ ও ৩ জন নারী। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় গাজার কারণে রাজ্যজুড়ে হাইঅ্যালার্ট জারি রয়েছে। নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছে ৭৭ হাজার মানুষকে। গতকাল শুক্রবার রাজ্যের অনেক জেলার স্কুল ও কলেজগুলোতে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ভোরে তামিলনাড়–র নাগাপট্টিনম, তিরুভারুর এবং তাঞ্জাভুরে আছড়ে পড়ে ঘূর্ণিঝড় গাজা। ওই সমস্ত এলাকা আগেই ফাঁকা করে দেয়া হয়েছিল। দুর্ঘটনা এড়াতে প্রায় ৭৭ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

আবহাওয়া সূত্র বলছে, তামিলনাড়–র ৬ জেলায় রাত আড়াইটা থেকে শুরু হয় তুমুল বৃষ্টি। সঙ্গে প্রবল ঝড়ো হাওয়া। রাত সোয়া তিনটা নাগাদ আবহাওয়া দপ্তর জানায় তামিলনাড়–তে আছড়ে পড়েছে ঘূর্ণিঝড়। আছড়ে পড়ার সময় গাজার গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১২০ কিলোমিটার। নাগাপট্টিনমে ৫ হাজার এবং তিরুভারুরে ৪ হাজার এবং তাঞ্জাভুরে ৩ হাজার বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে গেছে। এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ভেঙে পড়েছে প্রচুর বড় গাছপালাও। পরিস্থিতি সামাল দিতে উপক‚লবর্তী এলাকায় জারি করা হয়েছে রেড অ্যালার্ট। ১২ নভেম্বর থেকেই মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল। তা বহাল রাখা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়ার পরও যাতে মোবাইল পরিসেবা ব্যাহত না হয় তার জন্য উদ্যোগ নিচ্ছে জেলা প্রশাসন। নৌবাহিনীর দুটি জাহাজকে উপদ্রুত এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। হেলিকপ্টার থেকে শুরু করে অন্য সমস্ত ব্যবস্থা ঠিক করে রাখা আছে। চেন্নাই থেকে নাগাপট্টিনম, ত্রিভুর এবং থানজুভুরের দিকে যাওয়া চারটি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। চারটি এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাপথও বদল করা হয়েছে।

এদিকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, এরই মধ্যে ৭৭ হাজার মানুষকে উপক‚লীয় এলাকা থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

চেন্নাইয়ের আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, সমুদ্র পার করে ভূখণ্ডে এসে পড়া এই ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা অনেকটাই বেশি। সেটা মাথায় রেখে প্রায় ৭৬ হাজার মানুষকে সরানো হয়েছে উপক‚লবর্তী এলাকা থেকে। তাদের ৬টি জেলার ৩০০টিরও বেশি আশ্রয় কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।

উপক‚লবর্তী এলাকাগুলোতে আগেই পাঠানো হয়েছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবেলা দপ্তরের ৮টি দল। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধারকাজ চালানোর জন্য তৈরি রয়েছে নৌবাহিনীর দুটি জাহাজ-রণবীর এবং খঞ্জর। হেলিকপ্টার ডোরনিয়ার এয়ারক্রাফট এবং একটি চ৮ও বিমানও তৈরি রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

১২ নভেম্বর থেকেই মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল। থানজাভুর, থিরুভারুর, পুডুকোত্তা, নাগাপাত্তিনাম, কুড্ডালোর এবং রামনাথপুরমের স্কুল, কলেজগুলোতে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পুরুচেড়ি ও করাইকাল এলাকার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ রয়েছে।

দূরের জানালা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj