নারীদের মন্দিরে যাওয়া ঠেকাতে বিমানবন্দরেই অবরোধ

শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮

কাগজ ডেস্ক : কেরালার সবরিমালা মন্দিরে প্রবেশের উদ্দেশে সেখানে যাওয়া নারী অধিকার কর্মীদের বিমানবন্দরেই অবরোধ করে রেখেছে প্রতিবাদকারীরা। গতকাল শুক্রবার সবরিমালা মন্দিরে যাওয়ার জন্য কোচি বিমানবন্দরে নারী অধিকার কর্মী ত্রুপ্তি দেশাই ও তার সহকর্মীরা উপস্থিত হলে বিমানবন্দরের সবগুলো বহির্গমন পথ অবরোধ করে রাখেন প্রতিবাদকারীরা। এসব প্রতিবাদকারীরা মনে করেন, রজঃস্বলা নারীদের উপস্থিতি মন্দিরের পবিত্রতা নষ্ট করবে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ত্রুপ্তি দেশাই মহারাষ্ট্রের ‘প্রার্থনার অধিকার’ নামে পরিচিত আন্দোলনের নেত্রী। তিনি ও তার সহকর্মীরা আন্দোলনের মাধ্যমে ভারতের মহারাষ্ট্রে অবস্থিত ৩টি মন্দিরের ভেতর পর্যন্ত নারীদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিতে সফল হয়েছিলেন।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর ভারতের সুপ্রিম কোর্ট সবরিমালা মন্দিরে সব বয়সী নারীদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করে এক রায় দিয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, বয়সভেদে কোনো নারীকে মন্দিরে প্রবেশে বাধা দেয়া যাবে না। ভক্তি কখনো বৈষম্যের ওপর ভিত্তি করে গঠিত হতে পারে না। তৎকালীন ভারতীয় প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রা মন্তব্য করেছিলেন, একদিকে নারীদের দেবী হিসাবে পূজা করা হয়, আর অন্যদিকে তাদের ওপর বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়। ঈশ্বরের সঙ্গে সম্পর্ক কোনোভাবেই জৈবিক বা শারীরিক বিষয় দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতে পারে না। উপাসনার অধিকার সাংবিধানিক।

মন্দির কর্তৃপক্ষ ও ভক্তদের বক্তব্য ছিল, মন্দিরে রজঃস্বলা নারীদের প্রবেশ নিষেধ কারণ। ঋতূকালীন নারীরা ‘অশুচি’ থাকে। তাই ১০-৫০ বয়সী নারীদের মন্দিরে প্রবেশের বিষয়ে থাকা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া যাবে না। আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হিন্দুত্ববাদীরা শুরু থেকেই প্রতিবাদ চালিয়ে আসছে। গত মাসে তারা নারীদের মন্দিরে ঢোকার প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত করতে সফল হয়।

অধিকার কর্মী ত্রুপ্তি দেশাই তার সহকর্মীদের সঙ্গে কেরালার কোচিতে পৌঁছেছেন ভোর সাড়ে ৪ টার দিকে। কিন্তু বিমানবন্দরেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রয়েছেন তারা। দেশাই জানিয়েছেন, পুলিশ তাদের নিরাপত্তাজনিত কারণে বিমানবন্দরের বাইরে যেতে নিষেধ করেছে। কিন্তু তাতে দমে যাননি দেশাই ও তার সহকর্মীরা। তারা শনিবার বিমানবন্দর থেকে ১৫৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সবরিমালা মন্দিরে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

দেশাইয়ের ভাষ্য, প্রতিবাদকারীরা বিমানবন্দরের বাইরে রয়েছে এবং পুলিশ সুরক্ষার স্বার্থে আমাদের বাইরে যেতে নিষেধ করেছে। আমরা তিন থেকে চারবার ট্যাক্সি ডেকেছি। ট্যাক্সির চালকরা জানিয়েছেন, আমাদের নিতে আসলে তাদের গাড়ি ভাঙচুর করার হুমকি দেয়া হয়েছে। কিন্তু দেবদর্শন না করে আমরা ফেরত যাব না।

এদিকে নারীদের সবরিমালা মন্দিরের ভেতরে ঢুকতে দিতে অনিচ্ছুক এক নারী প্রতিবাদকারী ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, আমরা অধিকার কর্মীদের সবরিমালার ভেতরে যেতে দেব না। আমরা মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিবাদ করব, কিন্তু এক ইঞ্চি জায়গা ছাড়ব না।

কেরালা প্রদেশে রয়েছে কমিউনিস্ট পার্টির সরকার। তারা বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করলেও তা সফল হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী পিনারায়ি ভিজায়ান, বিরোধী দলের নেতৃবৃন্দ ও মন্দির কর্তৃপক্ষের বৃহস্পতিবারের সভাও বিফল হয়েছে। ভিজায়ানের বক্তব্য, সরকার ভক্তদের অনুভূতিকে শ্রদ্ধা করলেও আদালতের রায় বাস্তবায়নে বাধ্য। শুক্রবার থেকে ওয়েস্টার্ন ঘাট পার্বত্য এলাকায় অবস্থিত সবরিমালা মন্দির ৩ মাসের জন্য দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেয়া হবে।

দূরের জানালা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj