মেহজাবীনের প্রিয় পাঁচ

শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮

এই সময়ের টিভি তারকাদের মধ্যে জনপ্রিয়তার গৌরবে সবচেয়ে উজ্জ্বল মেহজাবীন চৌধুরী। ক্রমশ নিজের উত্তরণ ঘটিয়ে তিনি আলাদা অবস্থান তৈরি করে নিচ্ছেন। ব্যস্ততায়ও তিনি প্রথম সারিতে। তার অভিনীত শত নাটকের মিছিল থেকে মেহজাবীনের প্রিয় পাঁচটি নাটকের কথা নিয়ে এই আয়োজন। জানাচ্ছেন স্বাক্ষর শওকত

হাতটা দাও না বাড়িয়ে

ইউনিলিভার বাংলাদেশের অন্যতম ব্র্যান্ড। এই ব্র্যান্ডের একটি প্রডাক্ট ‘ক্লোজআপ’। এর আয়োজনে নিয়মিত অনুষ্ঠিত হয় ‘কাছে আসার সাহসী গল্প’ প্রতিযোগিতা। এই প্রতিযোগিতায় আগত অসংখ্য গল্পের মধ্য থেকে নির্বাচন করা হয় সেরা তিনটি গল্প। এই গল্পগুলো নিয়ে তৈরি হয় ভালোবাসা দিবসের তিনটি নাটক। যার মধ্যে অন্যতম ‘হাতটা দাও না বাড়িয়ে’। এটি মেহজাবীনের প্রিয় পাঁচটি নাটকের একটি। নাটকটিতে তার বিপরীতে অভিনয় করেন তাহসান। আরো ছিলেন জন। আফসানা কাশেমের লেখা নাটক ‘হাতটা দাও না বাড়িয়ে’। নাটকের গল্পে দেখা যায়, সবাই অনীষাকে মনে করে পাগলাটে। কিন্তু তার ভেতরের কষ্টগুলো কেউ বোঝে না, বুঝতে পারে না তাকেও। এমন সময় তার জীবনে আসে ছোট্ট জোহান, যার মুখ চেয়ে কষ্ট ভোলে সে, পুরোদস্তুর মা হয়ে বাচ্চাকে সামলায়। কিন্তু অনীষাকে সারা জীবন সামলে রাখবে কে? কেউ কি আসবে তার জীবনে? অনীষা চরিত্রে অভিনয় করেন মেহজাবীন। যা এখন তার একটি প্রিয় চরিত্র। শাফায়েত মনসুর রানার ‘হাতটা দাও না বাড়িয়ে’ পরিচালনা করেন। নাটকটি প্রচার হয় বাংলাভিশনে।

ফেরার পথ নেই

সাম্প্রতিক ইস্যু নিয়ে এই নাটক। আপনার কাছের মানুষ বাসা থেকে বেরুনোর পর আর ফেরে না, হারিয়ে যায় যে, অপেক্ষায় থাকা প্রিয় মানুষগুলোর তার আর ফেরার পথ নেই। বাস্তবে ঘটে যাওয়া এরকম কিছু ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আশফাক নিপুণ ঈদে নির্মাণ করেছিলেন বিশেষ খণ্ড নাটক ‘ফেরার পথ নেই’। এমন স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে নাটক নির্মাণ একই সঙ্গে সাহসের এবং চ্যালেঞ্জের। ‘ফেরার পথ নেই’ নাটকটি রচনা করেছেন নির্মাতা নিজেই। এতে প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেন আফরান নিশো ও মেহজাবিন। নাটকটিতে নীলু নামের এক নি¤œবিত্ত গৃহবধূর চরিত্রে অভিনয় করেছেন মেহজাবীন। ‘ফেরার পথ নেই’ নাটকে অভিনয়ের দিক দিয়ে মেহজাবীন অনেক পরিণত বলে সমালোচকরা মত দেন। এই নাটকে মেহজাবীনের অভিনয় দর্শকদের চোখ ভিজিয়েছে। মেহজাবীনকে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন আফরান নিশো।

সোনালী ডানার চিল

‘সোনালী ডানার চিল’ নাটকটি বানিয়েছেন আশফাক নিপুণ। অভিনয় করেন রাইসুল ইসলাম আসাদ, সাবেরী আলম এবং মেহজাবীন। নাটকটি চলতি বছরের ইদুল আজহায় প্রচারিত হয়। নাটকে মেহজাবীন অভিনয় করেছেন রুমকি চরিত্রে। রুমকির স্বপ্ন মেডিকেলে পড়বে। হঠাৎ করে মায়ের দুশ্চিন্তা হয়। এখন তো অনেক প্রশ্ন ফাঁস হয়। এ কারণে মেয়ে মেধাবী হওয়ার পরও যদি চান্স না পায়। এই ভেবে রুমকির বাবাকে বলে প্রশ্ন কেনার কথা। রুমকির বাবা একজন স্কুল শিক্ষক। তিনি এটা মেনে নেন না। এই নিয়ে একটু মনোমালিন্য দেখা দেয় মা-বাবার মাঝে। যথাসময়ে পরীক্ষা দেয় রুমকি। কিন্তু চান্স পায় না। এদিকে রুমকির বান্ধবী চান্স পেয়ে যায় যে রুমকির চেয়ে পড়ালেখায় খারাপ। এই নিয়ে রুমকির মন খারাপ। মা-বাবার স্বপ্ন সে পূরণ করতে পারছে না। সে আবার পড়া শুরু করে সামনের বারের জন্য। কিন্তু এবার বাবার মনে অন্য চিন্তা আসে। শিক্ষক হওয়ার পরেও তিনি প্রশ্ন কিনতে যান মেয়ের জন্যে। প্রশ্ন কি কিনতে পেরেছিলেন তিনি? নাটকে রুমকির অভিনয় দর্শকদের চোখে লেগে আছে। আর মেহজাবীনের প্রিয় নাটকের তালিকায় ঢুকে পড়েছে এটি।

বড় ছেলে

মেহজাবীন অভিনীত এই নাটকটি গত বছরের সেরা নাটক। অনলাইন-অফলাইন সবখানেই বেশ সাড়া ফেলে ‘বড় ছেলে’। টেলিভিশন চ্যানেল দর্শকদের অনুরোধে নাটকটি পরপর তিনি পুনরায় প্রচারের সিদ্ধান্ত নেয় এবং প্রচারিত হয়। নাটকটি ইউটিউবে বাংলাদেশের সর্বাধিক দেখা নাটক। পরিবারের বড় ছেলেদের নানা দায়িত্ব থাকে। বাবার পরেই সংসারের হাল বড় ছেলেকে ধরতে হয়। এখানে পাওয়া না পাওয়ার অনেক বিষয় থাকে। তারপরেও বড় ছেলেকে নিজের দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যেতে হয়। প্রয়োজনে অনেক আত্মত্যাগ করতে হয়। এই নাটকে বড় স্যাক্রিফাইস দেখিয়েছেন অপূর্ব। নিজের চাকরি না হওয়ায় শুধু পরিবারের কথা ভেবে প্রেমিকাকে বিসর্জন দিয়েছেন। ‘বড় ছেলে’ নাটকে মেহজাবীনকে অভিনেত্রী হিসেবে খুঁজে পেয়েছেন দর্শকরা। মেহজাবীনের অভিনয়ের আন্তরিকতার ব্যাপারে বিষয়ে যারা সন্দিহান ছিলেন, তাদের সেই সন্দেহ দূর হয়ে যায় ‘বড় ছেলে’র পর। মেহজাবীনের অভূতপূর্ব অভিনয়ে দর্শকরা মুগ্ধ হয়েছেন। মেহজাবীনের কান্না অজস্র চোখে জল এনেছে।

বুকের বাঁ পাশে

গত বছর ঈদে ‘বড় ছেলে’ নাটকের মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো ঝড় তুলেছিলেন মিজানুর রহমান আরিয়ান। এই নির্মাতা এবারের ঈদেও শীর্ষে রয়েছেন। আরিয়ানের পরিচালনায় ‘বুকের বাঁ পাশে’ টেলিছবিটি প্রশংসিত হয়েছে। এতে অভিনয় করেছেন আফরান নিশো এবং মেহজাবীন।

টেলিফিল্মটির গল্পে দেখা যায়, ফারিনের সঙ্গে রাশেদের প্রথম দেখা ঈদের ছুটিতে গ্রামে যাওয়ার সময়। পাশাপাশি সিট তাদের। এক সময় পরিচয় হয় ওদের। আদনানের আগেই নামবে ফারিন। হাত মিলিয়ে ফোন নম্বর বিনিময় করে চলে যায় ফারিন। আদনান নিজের সেই হাতটা বুকের বাঁ পাশে রেখে মৃদু হাসে। দুজন চলে যায় যার যার বাড়িতে। আদনান অপেক্ষা করে ফারিনের ফোনের। ২ দিন পর আসে সেই কাক্সিক্ষত ফোনকল। পরে ফারিনের বাবা জানায় মেয়ের বিয়ের খবর। বিয়ের সময় ওদের পাশে থেকে সহযোগিতা চান ফারিনের বাবা। হতবাক হয়ে বুকের বাঁ পাশে হাত রাখেন আদনান। এতে ফারিন চরিত্রে চমৎকার অভিনয় করেন মেহজাবীন। আদনান চরিত্রে নিশো অভিনয় করেছেন।

আরো অভিনয় করেন লুৎফর রহমান জর্জ, সুষমা সরকার ও শেলী আহসান। টেলিফিল্মটি এনটিভিতে প্রচার হয়।

মেলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj