জীবনের আনন্দে বাঁচো : মনীষা কৈরালা

শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮

ক্যানসারের মতো দুরারোগ্য ব্যাধির সঙ্গে লড়াই করেছেন। আর সেখানেই জীবনকে দেখেছেন অন্যরূপে। বলছি মনীষা কৈরালার কথা। নব্বই দশকে যিনি বলিউডে সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক নেয়া অভিনেত্রী। তিনিই আক্রান্ত হয়েছিলেন মরণব্যাধি ক্যানসারে, লড়াই করেছেন ক্যানসারের সঙ্গে। ক্যানসার থেকে ফিরে সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখেছেন বই। যার নাম ‘হিল্ড’। সম্প্রতি ঢাকায় এসেছিলেন মনীষা কৈরালা। গত ৮-১০ নভেম্বর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত ‘ঢাকা লিট ফেস্ট-২০১৮’-এ কথা বলেছেন জীবনের নানা অভিজ্ঞতা নিয়ে। উৎসবের দ্বিতীয় দিনে নন্দিতা দাসের সঙ্গে ‘ব্রেকিং ব্যাড’ এবং সমাপনী দিনে ‘হিল্ড’ শিরোনামের দুটি অধিবেশনে কথা বলেছেন মনীষা। এই অভিনেত্রী মুখোমুখি হয়েছিলেন আলাপচারিতায়। লিখেছেন শাহনাজ জাহান

প্রথমবার সাহিত্য উৎসবে

এই উৎসবে মূলত আমার লেখা বই নিয়েই কথা বলতে এসেছি। একই সঙ্গে আমার আলাপচারিতায় বলিউড তো থাকবেই। তা ছাড়া আমি বিভিন্ন সময় সিনেমার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছি। কিন্তু সম্ভবত প্রথমবার কোনো আন্তার্জাতিক সাহিত্য উৎসবে অংশ নিতে এসেছি। এটা আমার জন্য ভীষণ আনন্দের।

বলিউডে পা রাখাটা সহজ ছিল না

সিনেমায় ক্যারিয়ার গড়ার বিষয়টি, শুরুর দিকে আমার পরিবার থেকে সমর্থন করেনি। তারপর অনেক প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে এখানে নিজের আসনটি গড়তে হয়েছে। পরিবারের সবাই যে সমর্থন করেনি তা নই, কেউ কেউ সমর্থন করেছেন। আবার কেউ করেননি। সুভাষ ঘাইয়ের ‘সওদাগর’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে আমার অভিষেক। অনেক পরিশ্রম করেই বলিউডে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে হয়েছে। আসলে পরিশ্রম ছাড়া তো কোনো কিছু অর্জন করা যায় না।

ক্যানসারে আক্রান্ত সময়টাকেই বইটিতে তুলে আনতে চেয়েছি

আমার লেখা বইটির নাম ‘হিল্ড’। মূলত এই বইটি নিয়েই কথা বলতে এসেছি ঢাকা লিট ফেস্টে। এই বইটি লিখা হয়েছে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে। মূলত ক্যানসারে আক্রান্ত সময়টাকেই বইটিতে তুলে আনতে চেয়েছি। জীবনের এই দুঃসময়ে অনেকেই পাশে দাঁড়িয়েছেন। আমার জীবনের কঠিন সময় ছিল সেটি। ২০১০ সালের ১০ ডিসেম্বর যখন জানতে পারলাম আমি ক্যানসারে আক্রান্ত। তখন আমার পৃথিবীটা কালো অন্ধকারে ঢেকে গিয়েছিল। যখন জানতে পারলাম, আমার মৃত্যুর সম্ভাবনা ৪৪ শতাংশ, কিন্তু বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ৫৬ শতাংশ। শুরুতে ভয় পেয়ে গেলেও, পরে সাহস জুগিয়েছি যে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা তো ৫৬ শতাংশ। তবুও মনকে বোঝাতে পারতাম না।

ভয়ানক নিঃসঙ্গ লেগেছিল

চিকিৎসক শুরুতে আমার পরিবারকে জানিয়েছে, পরে আমাকে জানিয়েছে যে আমার লিড স্টেজে ছড়িয়ে পড়েছে ক্যানসার। আমার জরায়ুর ক্যানসার হয়েছে এবং সেটা কেটে ফেলে দিতে হবে। আমি আর কোনোদিন সন্তানের মা হতে পারবো না। এ কথা শোনার পর ভয়ানক নিঃসঙ্গ লেগেছিল।

ক্যানসার আমার জীবনের শিক্ষক

আমি জানি না আমার ক্যানসার হওয়ার পর কত সময় পার হয়ে গেছে। সে সময় আমি জীবনের কঠিন একটি বাস্তবতার মধ্যে ছিলাম। আমি বিষণœ ছিলাম, খুব অস্বস্তি লাগতো, শারীরিকভাবেও বিপর্যস্ত ছিলাম। আমার পাকস্থলি অস্বাভাবিকভাবে বড় হয়ে গিয়েছিল। ক্যানসার থেকে ফিরে আসার পর জীবনকে নতুন করে বুঝতে শিখেছি। ক্যানসার আমার জীবনের শিক্ষক। এখন মনে হয় আমি সৌভাগ্যবান, আমি জীবনকে দ্বিতীয়বার দেখতে পারছি। জীবনের আনন্দে বাঁচতে চাই, সবাইকে বলব জীবনের আনন্দে বাঁচো।

মেলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj