সুভাষ দত্তের চলে যাওয়ার ছয় বছর

শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮

 ২০১২ সালের ১৬ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার সুভাষ দত্ত। গতকাল ছিল তার ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৩০ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি দিনাজপুরে তার জন্ম। সুভাষ দত্ত ছিলেন চলচ্চিত্রের প্রথম যুগের গুণী অভিনেতা, চিত্রশিল্পী ও পরিচালক। কৌতুক অভিনেতা থেকে চিত্রনায়ক হয়েছিলেন তিনি।

সুভাষ দত্ত অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবিগুলো হচ্ছে- রাজধানীর বুকে, সূর্যস্নান, চান্দা, তালাশ, নতুন সুর, রূপবান, মিলন, নদী ও নারী, ভাইয়া, ফির মিলেঙ্গে হাম দোনো, ক্যায়সে কাহু, আখেরি স্টেশন, সোনার কাজল, দুই দিগন্ত, সমাধান। তার পরিচালিত ছবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- সুতরাং, কাগজের নৌকা, আয়না ও অবশিষ্ট, আবির্ভাব, বলাকা মন, সবুজ সাথী, পালাবদল, আলিঙ্গন, বিনিময়, আকাক্সক্ষা, বসুন্ধরা, সকাল সন্ধ্যা, ডুমুরের ফুল, নাজমা, স্বামী স্ত্রী, আবদার, আগমন, শর্ত, সহধর্মিণী, অরুনোদয়ের অগ্নিসাক্ষী ইত্যাদি।

তার হাত ধরেই চলচ্চিত্রে আগমন ঘটে কবরী, ১৯৭৭ সালে বসুন্ধরা ছবিটির জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান সুভাষ দত্ত। এরপর একুশে পদকও অর্জন করেন তিনি।

অভিনেত্রী কবরী সুভাষ দত্তকে স্মরণ করে বলেন, ‘দত্ত দা’র হাত ধরেই চলচ্চিত্রে আমার অভিষেক। আমার অভিনীত প্রথম ছবি যেমন সুতরাং ঠিক তেমনি দত্ত দা’রও প্রথম নির্দেশিত ছবি ছিল সুতরাং। সুতরাং ছবিতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে নায়িকা হিসেবে চলচ্চিত্রে আমার অভিষেক ঘটে। এই ছবিতে আমার বিপরীতে তিনিই ছিলেন। এরপর তার নির্দেশনায় আবির্ভাব, বলাকা মনসহ আরো বেশ কয়েকটি ছবিতে অভিনয় করেছি। সত্যি বলতে কি একজন অসাধারণ মানুষ ছিলেন দত্ত দা। তার কাছেই আমি অভিনয়ের আদ্যোপান্ত শিখেছি, জেনেছি। আমার খুব ইচ্ছে ছিল যে আমি যদি কখনো পরিচালক হই তবে সে ছবিতে তাকে অভিনয় করাব। ২০০৬ সালে আমি প্রথমবারের মতো নির্মাতা হিসেবে নির্মাণ করি ‘আয়না’ ছবিটি। দত্ত দাকে ছবিতে অভিনয় করার কথা বলা হলে তিনি প্রাথমিকভাবে না করলেও পরে অবশ্য আমার স্বপ্ন পূরণের কথা ভেবে এই ছবিতে তিনি অভিনয় করেছিলেন। তিনি অভিনয় করেছিলেন বলে আমার অনেক সহযোগিতাও হয়েছিল।’

অভিনেত্রী সুচন্দা সুভাষ দত্তকে স্মরণ করে বলেন, ‘দত্ত কাকুর তার হাত ধরেই ‘কাগজের নৌকা’ ছবিতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে নায়িকা হিসেবে আমার অভিষেক ঘটে। অভিনয় সম্পর্কে আমার তেমন কোনো ধারণাই ছিল না। তিনি আমাকে নায়িকা নির্বাচন করার পর অভিনয়ের আদ্যোপান্ত শিখিয়েছেন নিজ হাতে। চলচ্চিত্র সম্পর্কে আমি যা কিছু জেনেছি তাও শিখেছি দত্ত কাকুর কাছ থেকে। আমাদের দেশেতো আর অভিনয় শেখানোর কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সে সময় ছিলই না। তিনিই আমার শিক্ষকের ভূমিকায় থেকে আমাকে অভিনয় সম্পর্কে সম্যক ধারণা দিয়েছিলেন। আমি কাকুর কথা মনোযোগ দিয়ে যেমন শুনেছি ঠিক তেমনি পর্দায় নিজেকে সেভাবে উপস্থাপনও করার চেষ্টা করেছি। তার সঙ্গে আমার বাবা-মায়ের খুব চমৎকার সম্পর্ক ছিল, আমার ঠিক তেমনি ছিল। আমি যতদিন বাঁচব দত্ত দা’কে ততদিনই শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করব। কারণ তিনি এ দেশের চলচ্চিত্রের একজন কালজয়ী চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং আমার গুরু।’

বিনোদন হাইলাইটস'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj