জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ১৪ বছরে নতুন উদ্যোমে

বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮

ড. মীজানুর রহমান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক। বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে। তার সময়েই

ছাত্র-শিক্ষকদের অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। সম্প্রতি ১৪ বছরে পদার্পণ করে এ বিশ্ববিদ্যালয়। লিখেছেন- রাহুল শর্মা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ১৪ বছরে পদার্পণ সম্পর্কে

ড. মীজানুর রহমান বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এ দেশের প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম। শিক্ষা, সমাজ, রাজনীতিসহ সব ক্ষেত্রেই এই বিদ্যাপীঠ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ২০০৫ সালে জগন্নাথ কলেজকে যখন বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণা করা হয়, তখন অবকাঠামো বা অন্য বিষয় চিন্তা না করেই মূলত তা করা হয়। তৎকালীন কলেজের শিক্ষক ও ছাত্ররা এখানে ছিল ২০১১ সাল পর্যন্ত। কলেজের শিক্ষকরা চলে যাওয়ার পরই মূলত

২০১১ সালেই নতুন করে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়। সেই অর্থে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়স কিন্তু ১৪ বছর নয়। বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক অবস্থা, ইতিহাস ঐতিহ্য, মেধাবী শিক্ষক, শিক্ষার মান ইত্যাদি কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই ছাত্র-শিক্ষকদের দ্বিতীয় আকর্ষণে পরিণত হয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আমরা কলেজের যে সংস্কৃতি ছিল তা পরিবর্তন করতে পেরেছি।

কলেজ আর বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে মূল পার্থক্য হলো- কলেজ কেবল জ্ঞান বিতরণ করে আর বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান আহরণ এবং বিতরণ দুটোই করে। এখানে গবেষণায় ব্যাপক জোর দেয়া হচ্ছে। এখানকার বহু শিক্ষার্থী এবং প্রায় সব শিক্ষক কোনো না কোনোভাবে গবেষণার সঙ্গে সম্পৃক্ত। একাডেমিক দিক থেকেও গত কয়েক বছরে বিসিএস, জুডিশিয়াল সার্ভিস, ব্যাংক রিক্রুটমেন্টসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আমাদের শিক্ষার্থীদের অবস্থান অনেক ভালো। বর্তমানে চাকরির বাজারে তাদের অবস্থান বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দ্বিতীয়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে সবাই অনাবাসিক। এখানে রয়েছে ক্লাসরুম ও ল্যাবরেটরির স্বল্পতা, গবেষণাগার ও বইয়ের সংকট। কারণ এটা আগে ছিল কলেজ। পরে এটিকে বিশ্ববিদ্যালয় করা হলেও কোনো রকমের সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করা হয়নি। গত ৪/৫ বছরের মধ্যে ছাত্রীদের জন্য ‘বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল’ তৈরি এবং কয়েকটি ভবনের অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে পেরেছি। এতে ছাত্রীদের আবাসন সংকটের খানিকটা সমাধান হবে এবং ক্লাসরুমের সংকটও তুলনামূলকভাবে কমবে।

ড. মীজানুর রহমান উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে প্রাধান্য দেন। এ বিষয়ে তার বক্তব্য- উপাচার্য হওয়ার পরেই আমার বক্তব্য ছিল, তাড়াহুড়ো করে সবচেয়ে বড় বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ারও সুযোগ নেই। আমি প্রথমেই লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করেছিলাম শিক্ষা ও গবেষণার মান বৃদ্ধি করাকে। যা ইতিমধ্যে করতে পেরেছি। নতুন যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হচ্ছে এর কোনো কোনোটায় ভাইস-চ্যান্সেলর ছাড়া আর কোনো অধ্যাপক নেই। আবার কোনো কোনোটিতে দুই-তিনজন অধ্যাপক আছে। কিন্তু এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এই মুহূর্তে ১০০ জন অধ্যাপক রয়েছেন। এদের মধ্যে ৯৮ জনের পিএইচডি ডিগ্রি আছে। বর্তমানে ১৫০ জন শিক্ষক আছেন যারা বিদেশে উচ্চশিক্ষারত। এই শিক্ষকরা যখন ফিরে আসবেন তখন এই বিশ্ববিদ্যালয়টি একটি জ্ঞানভিত্তিক গবেষণা কেন্দ্রে পরিণত হবে। আমার ভালো লাগাটা এখানেই যে, আমি দেশের মেধাবী শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের এখানে আকর্ষণ করতে পেরেছি। মানুষ এক সময় মনে করত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় মানে তো জগন্নাথ কলেজই। গত ছয় বছরের চেষ্টায় সেই ধারণাটা ভাঙতে সক্ষম হয়েছি। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দেশের শিক্ষাঙ্গনে ‘নতুন ব্র্যান্ড’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।

:: ক্যাম্পাস ডেস্ক

ক্যাম্পাস'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj