কে বেশি সফল?

শনিবার, ১০ নভেম্বর ২০১৮

ছিলেন উপস্থাপিকা। হলেন চিত্রনায়িকা। পরিচয় পাল্টে কে বেশি সফল? নুসরাত ফারিয়া, মাসুমা রহমান নাবিলা নাকি শবনম বুবলী? জানাচ্ছেন এম রহমান

নুসরাত ফারিয়া

আরজে হিসেবে তরুণদের হার্টথ্রব ছিলেন নুসরাত ফারিয়া। টিভি পর্দায়ও তার উপস্থাপনার ঝলকে কেঁপেছে দর্শক-হৃদয়। জনপ্রিয়তায় যখন দারুণ অবস্থানে তখনই তার কাছে আসে নায়িকা হওয়ার প্রস্তাব। জাজ মাল্টিমিডিয়ার অধিকর্তা আব্দুল আজিজের সঙ্গে বিরোধের জেরে প্রতিষ্ঠানটি থেকে বেরিয়ে যেতে হয় মাহিয়া মাহিকে। মাহির জায়গায় দুই নায়িকার একজন হয়ে আসেন নুসরাত ফারিয়া। ফাল্গুনী রহমান জলি ও নুসরাত ফারিয়ার জমকালো পরিচিতি অনুষ্ঠান হয় হোটেল সোনারগাঁওতে। ২০১৫ সালের ঈদুল আজহায় ‘আশিকী’ ছবিতে অভিষেক ঘটে ফারিয়ার। বিপরীতে কলকাতার নায়ক অঙ্কুশ। ছবিটি ভালো না চললেও পরের ছবিতেই ফারিয়া হিট নায়িকার তকমা নামের পাশে জুড়তে সক্ষম হোন। ২০১৬ সালের ঈদুল ফিতরে ‘বাদশা দ্য ডন’ সুপারহিট হয়ে যায়। যদিও কৃতিত্বের বেশির ভাগটাই চলে যায় জিতের কাছে। এরপর আর ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়নি ফারিয়ার। জিতের বিপরীতে ‘ইন্সপেক্টর নটি কে’ ব্যবসায়িকভাবে সফল হয়নি। আশানুরূপ ব্যবসা করেনি আরিফিন শুভর বিপরীতে দুটি ছবি। ছবি দুটি হচ্ছে ‘ধ্যেততেরিকি’ এবং ‘প্রেমী ও প্রেমী’। প্রায় চার বছরের ক্যারিয়ারে ‘বাদশা দ্য ডন’ ছাড়া কোনো ছবিতেই বক্স অফিসে নাড়া দিতে পারেননি ফারিয়া। এই মুহ‚র্তে শাকিব খানের বিপরীতে ‘শাহেনশাহ’ নামে একটি ছবি করছেন ফারিয়া। যে ঘটনায় এটা পরিষ্কার, জাজ মাল্টিমিডিয়ায় আর তার ফেরা হচ্ছে না। আবিষ্কারক প্রতিষ্ঠান থেকে এই ছুটি ফারিয়ার ক্যারিয়ারকে ফেলে দিয়েছে ঝুঁকির মুখে।

নাবিলা রহমান

উপস্থাপিকা হিসেবেই দর্শকদের প্রিয় মুখ হয়েছিলেন মাসুমা রহমান নাবিলা। বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে তার নানা ধরনের অনুষ্ঠান সঞ্চালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে। গোটা বিশেক অনুষ্ঠান করার পর তিনি হয়ে ওঠেন ছোটপর্দার দর্শকপ্রিয় মুখ। আর তার এই প্রিয়তাকে আরো বাড়িয়ে দেয় তার বিজ্ঞাপনের সাফল্য। টিভিসিতেও তিনি হয়ে ওঠেন দর্শকদের কাক্সিক্ষত মুখ। নাবিলা যে হুট করেই চলচ্চিত্র অভিনেত্রী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবেন এবং প্রথম ছবিতেই লক্ষ দর্শকের মন জয় করবেন, তা কারোরই ধারণা ছিল না। কেননা ‘আয়নাবাজি’ এমন বিপুল সাফল্য পাবে তা স্বয়ং ছবির নির্মাতা অমিতাভ রেজাও হয়তো ভাবতে পারেননি। কিন্তু ‘আয়নাবাজি’ শুধুমাত্র চঞ্চল চৌধুরীকেই শিল্পী হিসেবে শক্ত জমি দেয়নি, নাবিলাকেও সিনেমা হলের দর্শকদের কাছে ব্যাপক পরিচিতি এনে দিয়েছে। এ ছবিতে অভিনয় করেই নাবিলা পেয়েছেন, অনেক অভিনেত্রীর প্রত্যাশার পুরস্কার মেরিল প্রথম আলো পুরস্কার। যদিও ছবিটির সাফল্যের পেছনে নাবিলার অবদান কতখানি সেই প্রশ্ন উঠতেই পারে, কিন্তু একটি সুপারহিটের সঙ্গে নাবিলার নাম জড়িয়ে গেছে, এটাই সত্যি। আর এই সত্যি নাবিলাকে শোবিজে এগিয়ে দিয়েছে অনেকখানি। আবার এটাও এখন সত্যি যে, চিত্রনায়িকার ভূমিকায় আর তাকে দেখা যাচ্ছে না। নতুন কোনো ছবিতে তার অভিনয়ের খবর নেই। তিনি কী আদৌ চলচ্চিত্রে অভিনয় করবেন? এই প্রশ্নও রয়েছে দর্শকদের মনে। প্রথম ছবিতে সাফল্য পেলেও পরবর্তী সময়ে নায়িকাদের ইঁদুর দৌড়ে শামিল হয়ে তিনি কি টিকে থাকতে পারবেন? ভবিষ্যৎই এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিক।

শবনম বুবলী

‘বসগিরি’ ছবির নায়িকা হওয়ার কথা ছিল অপু বিশ্বাসের। কিন্তু গর্ভবতী হয়ে পড়ায় অপুকে সরে যেতে হয়। তৈরি হয় শাকিব খানের নায়িকা সংকট। এই সংকটেই আসে শবনম বুবলীর নাম। তিনি ছিলেন সংবাদ উপস্থাপিকা। কিন্তু কোনো তারকাখ্যাতি ছিল না বুবলীর। খ্যাতির অভাব পূরণ হতে শুরু করে বুবলীর ‘বসগিরি’তে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে। সংবাদ মাধ্যমে আলোচনার ঝড় ওঠে তাকে নিয়ে। এই আলোচনা চলে ‘বসগিরি’ হিট হওয়া পর্যন্ত। কিন্তু পর্দার সাফল্য ছাড়িয়ে বুবলী বিতর্কিত হয়ে ওঠেন অপ্সাত স্থান থেকে অপু ফিরে এলে। শাকিব খানকে ঘিরে অপুব-বুবলীর দ্ব›েদ্ব সারাদেশে ওঠে বিতর্কের তুফান। সেই বিতর্কের ভেতরেই বুবলী একের পর এক ছবি করে যেতে থাকেন শাকিব খানের বিপরীতে। কিন্তু ‘বসগিরি’র মতো সফলতা পায়নি ‘রংবাজ’, ‘সুপারহিরো’ কিংবা ‘অহংকার’।

বুবলীর অর্জিত সাফল্যে সবচেয়ে নেতিবাচক দিক হচ্ছে, তার সবগুলো ছবিরই নায়ক শাকিব খান। অর্থাৎ এককনায়ক নির্ভর হয়ে পড়েছেন তিনি। শীর্ষ নায়কের সঙ্গে ছবি হিট হওয়ায় তিনি কৃতিত্ব দাবি করতে পারছেন না। অন্য কোনো নায়কের সঙ্গে দর্শক তাকে কীভাবে গ্রহণ করেন, তিনি অন্য কারো বিপরীতে হিটের দেখা পান কিনা এই প্রশ্নগুলো কিন্তু রয়েছেই।

বুবলীর সাম্প্রতিক সমস্যা হচ্ছে, বুবলীর হাতে ছবির সংখ্যা কমে যাওয়া। ক্যারিয়ারের সূচনার মতো আর তার হাতে ভূরি ভূরি ছবি নেই।

মেলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj