চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত মিরাজ

বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮

খেলা প্রতিবেদক : বাংলাদেশের বিপক্ষে তিন ওয়ানডে আর দুই টেস্ট খেলতে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দল ঢাকায় অবস্থান করছে। মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ২১ অক্টোবর প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে সফরকারীরা মোবাবেলা করবে স্বাগতিকদের। আসন্ন সিরিজ জিততে নিজেদের প্রস্তুত করছেন মাশরাফি-মুশফিকরা। কোচ স্টিভ রোডসের অধীনে গতকাল মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ওয়ার্মআপ শেষে ব্যাটিং অনুশীলনের জন্য মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মুশফিকুর রহিম, ইমরুল কায়েস, মোহাম্মদ মিঠুনদের নিয়ে যাওয়া হয় জাতীয় ক্রিকেট একাডেমির নেটে। নেট সেশনে তাদের সঙ্গে বল করেন স্কোয়াডের পেসার ও স্পিনাররা। পাশাপাশি নেট বোলাররাও ছিলেন।

এ ছাড়া এই অনুশীলনে উপস্থিত ছিলেন দুই বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশ ও সুনীল যোশী। তবে জিম্বাবুয়ে সিরিজের জন্য বাংলাদেশ দলের প্রস্তুতির শুরুতে ভাইরাস জ্বরের কারণে প্রথম দিন দলের সঙ্গে যোগ দিতে পারেননি মিরাজ। গতকাল অনুশীলন করেছেন পুরোদমে। আসছে জিম্বাবুয়ে সিরিজে হয়তো অনেক চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে তার জন্য। সাকিব আল হাসান নেই। স্পিন বোলিংয়ের প্রধান হতে হবে তাকে। ব্যাটিংয়েও তার কাছে একটু বেশি চাইবে দল। মিরাজ অবশ্য যে কোনো চ্যালেঞ্জ নিতে তৈরি। সিরিজি নিয়ে তিনি বললেন, দলের জন্য সব কন্ডিশনে খেলতে প্রস্তুত। প্রয়োজনে যদি ওপেন করতে হয় তাহলে ‘না’ বলবেন না লাল-সবুজের এই অফস্পিনিং অল-রাউন্ডার।

তিনি বলেছেন, এশিয়া কাপ ফাইনাল ম্যাচ ওপেন করেছি, আমিও ভাবিনি আমি ফাইনালে ওপেন করব। মাশরাফি ভাই ম্যাচের আগের দিন রাতে বলেছেন, সবাই যারা সিনিয়র আছে সবাই অনেক সাপোর্ট দিয়েছেন। এ জন্য অনেক আত্মবিশ^াস পেয়েছি। এটা থেকে আমি শিক্ষা নিয়েছি, যে কোনো মুহূর্তে আমাকে দলের প্রয়োজনে যে কোনো জায়গায় নামতে হতে পারে। আমার মানসিকতা থাকবে, যে কোনো সময় এমন কিছু হতে পারে। তাই আমি সব সময় চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করি। কঠিন অবস্থার চ্যালেঞ্জ আমি উপভোগ করি। আর পেছন থেকে যখন টিম ম্যানেজমেন্ট সাপোর্ট দেয়, আমাদের সিনিয়র প্লেয়ায়রা, সবাই যখন ব্যাক আপ করে, তখন নিজের আত্মবিশ^াসটা আরো বেড়ে যায়। ফাইনালের আগের রাতে যখন আমাকে বলা হয় ওপেন করতে হবে। মাশরাফি ভাই, রিয়াদ ভাই বলল, ‘করতে পারবি, সমস্যা নাই’। তখন নিজের প্রতি আত্মবিশ^াসটা বেড়ে গেল। বিশ^কাপ ট্রফি বাংলাদেশে এসেছে, ২০১৯ বিশ^কাপ মিরাজের প্রথম বিশ^কাপ তাই বাংলাদেশের সম্ভাবনা কেমন? এই প্রশ্নে তরুণ মিরাজ বলেছেন, সবার স্বপ্ন থাকে বিশ^কাপ খেলার। যদি সুস্থ থাকি, তাহলে সুযোগ পেলে অবশ্যই ভালো খেলার চেষ্টা করব। বিশ^কাপের মঞ্চে ভালো খেলার স্বপ্ন তো সবার থাকে। অবশ্যই দলের সবাই চাইবে ভালো করতে। সবাই তো ভালো করার জন্যই অনুশীলন করছেন। অনেকে খেলবে অথবা খেলবে না। সবাই চেষ্টা করছেন। ২০১৬ সালের অক্টোবরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে যে বিস্ময় বালককে দেখেছিল বাংলাদেশ, সেই মিরাজ এখন দলের অন্যতম ভরসা। ক্যারিয়ারের শুরু থেকে টেস্টে নিয়মিত হলেও ওয়ানডে ক্রিকেটে নিয়মিত হতে একটু সময় লেগেছে। ২০ বছর বয়সী অল-রাউন্ডারের বোলিং চোখে পড়ার মতো উন্নতি দেখা গেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে, এমনকি সর্বশেষ এশিয়া কাপেও। মিরাজ নিজেই জানালেন বোলিংয়ে দুর্দান্ত পরিবর্তন আনতে বেশ কিছু কাজ করেছেন গত কয়েক মাসে, আগের তুলনায় এখন একটু ভিন্নভাবে চিন্তা করছি। মানসিকভাবে একটু শক্ত হয়েছি। আর বোলিংয়ে কিছু বৈচিত্র্য এনেছি, এগুলো হয়তো কাজে দিচ্ছে। বৈচিত্র্য বলতে, আগে প্রায়ই এক গতিতেই বল করতাম। আগে ৪৫ ডিগ্রিতে বল করতাম। এখন ৯০ ডিগ্রিতে করছি। একটু অদল-বদল করে বল করছি। গতি পরিবর্তন করে কিছু নতুনত্ব এনেছি। ওয়ানডেতে কেন উইকেট শিকারির ভূমিকা পালন করেন না, সেটির বিশদ ব্যাখ্যা করলেন মিরাজ, প্রতিপক্ষ দলের ওপেনাররা যখন রান তাড়া করে খেলে, তখন আমার কাজ থাকে তাদের রান আটকে বল করা। যদি ওদের রান থামিয়ে রাখতে পারি তাহলে আমার যে বোলিং পার্টনার থাকবে, সে উইকেট বের করে নিতে পারবে। ওয়ানডেতে সব সময়ই আমার ভূমিকা থাকে রান থামিয়ে রাখা। হয়তো আমি উইকেট পাচ্ছি না, তবে সতীর্থ বোলাররা উইকেট পাচ্ছে। দিন শেষে কিন্তু দলের সাহায্য হচ্ছে। আমি রান থামিয়ে রাখতে পারলে প্রতিপক্ষ দলে চাপে পড়বে, আর আমাদের অন্য বোলাররা উইকেট পাবে। এটাই আমার চেষ্টা থাকে, এর মধ্যে যদি ভাগ্য ভালো থাকে তাহলে উইকেট পেয়ে যাই।

খেলা-ধূলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj